ফিলিপাইনের দক্ষিণাঞ্চলীয় মিন্দানাও দ্বীপে আঘাত হানা রিখটার স্কেলের ৭ দশমিক ৮ মাত্রার একটি ভয়াবহ ভূমিকম্পে প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে ৪১ জনে দাঁড়িয়েছে। আজ দেশটির জাতীয় ও স্থানীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে এ পর্যন্ত ৪৭৯ জন গুরুতর আহত হয়েছেন এবং এখনো অন্তত চারজন নিখোঁজ রয়েছেন। শক্তিশালী এই ভূকম্পনের ফলে সৃষ্ট সুনামি আতঙ্ক এবং ক্রমাগত পরাঘাত বা আফটারশকের কারণে মিন্দানাওয়ের প্রায় ৮৮ হাজার মানুষ চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ২২ হাজার ৬৯০ জন বাসিন্দা ঘরবাড়ি হারিয়ে সম্পূর্ণ বাস্তুচ্যুত হয়ে খোলা আকাশের নিচে দিন কাটাচ্ছেন। ভূমিকম্পের তীব্রতায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত সারঙ্গানি প্রদেশের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা ধসে পড়া এবং একটি সেতু ভেঙে যাওয়ায় বহু এলাকা মূল ভূখণ্ড থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, ধসে পড়া রাস্তাঘাটের কারণে এসব দুর্গম অঞ্চলে কেবল হেলিকপ্টারের সাহায্যে ত্রাণ ও উদ্ধার সামগ্রী পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে এবং আগামী অন্তত এক সপ্তাহ এই যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন অবস্থা বজায় থাকবে। আঞ্চলিক বেসামরিক প্রতিরক্ষা প্রধান রদ্রিগো সোসমেনা সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, প্রথম বড় কম্পনের পর শত শত ছোট ছোট পরাঘাত অব্যাহত থাকায় উদ্ধারকর্মীরা অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পা বাড়াচ্ছেন, যা উদ্ধার তৎপরতার গতিকে কিছুটা ধীর করে দিয়েছে।
ভূমিকম্পের তীব্র আতঙ্কের মাঝেও এক মানবিক দৃশ্যের অবতারণা হয়েছে এই অঞ্চলের সবচেয়ে বড় শহর জেনারেল সান্তোসের একটি হাসপাতালের বাইরে। সেখানে ভবনের কাঠামোগত সুরক্ষার অভাবে খোলা মাঠে তাবু খাটিয়ে চিকিৎসকেরা রোগীদের সেবা দিচ্ছেন এবং তীব্র রোদের মাঝেই এক প্রসূতি মা একটি সুস্থ সন্তানের জন্ম দিয়েছেন। অন্যদিকে গ্লান পৌরসভায় একটি পাহাড় ধসে ১৩ জন মানুষ নিজেদের ঘরবাড়ির নিচে চাপা পড়েছেন এবং আরেকটি হাসপাতালের ৬০ জনেরও বেশি রোগীকে খোলা মাঠে বিছানা পেতে রাখা হয়েছে। হাসপাতালের প্রকৌশলীরা পরীক্ষা শেষে মূল ভবনটি ব্যবহারের অনুপযোগী ও ঝুঁকিপূর্ণ বলে ঘোষণা করেছেন। এই বিধ্বংসী ভূমিকম্পে অঞ্চলজুড়ে অবকাঠামোগত ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে যার আর্থিক পরিমাণ প্রায় ৯০ কোটি পেসো বা ১ কোটি ৪৬ লাখ মার্কিন ডলার। প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, ৯টি সেতু ও ১৯টি সড়ক মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং ১ হাজার ৮৮৯টি ঘরবাড়ির মধ্যে প্রায় ১ হাজার ৫০০টি বাড়ি সম্পূর্ণ ধূলিসাৎ হয়ে গেছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রাথমিক মূল্যায়নে দেখা গেছে, পাঁচটি অঞ্চলের ২৩১টি সরকারি স্কুলের অন্তত ১ হাজার ১৫৯টি শ্রেণিকক্ষ এই কম্পনের ফলে সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে ভেঙে পড়েছে।