ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন নিয়ে আসছে ২০২৬ আসর। প্রথমবারের মতো ৩২ দলের বদলে ৪৮ দল নিয়ে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ এই প্রতিযোগিতা। আর দলসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে বিশ্বকাপের দরজা খুলে গেছে নতুন কয়েকটি দেশের জন্য। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিতব্য আসরে প্রথমবারের মতো খেলবে কেপ ভার্দে, কুরাসাও, জর্ডান ও উজবেকিস্তান। পাশাপাশি অর্ধশতাব্দীরও বেশি সময় পর বিশ্বকাপে ফিরছে কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র।
কেপ ভার্দে
আফ্রিকার ছোট দ্বীপরাষ্ট্র কেপ ভার্দের বিশ্বকাপে জায়গা করে নেওয়া অনেকের কাছেই বিস্ময়কর। আয়তন ও জনসংখ্যার দিক থেকে দেশটি বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া সবচেয়ে ছোট দেশগুলোর একটি। বাছাইপর্বের শুরুটা খুব একটা ভালো না হলেও পরে দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়ায় তারা। অ্যাঙ্গোলা ও ক্যামেরুনের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষকে হারিয়ে টানা কয়েকটি জয় তুলে নেয় দলটি। শেষ পর্যন্ত সাত জয়, দুই ড্র ও মাত্র এক পরাজয়ে ইতিহাস গড়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে জায়গা নিশ্চিত করে কেপ ভার্দে। স্পেন, উরুগুয়ে ও সৌদি আরবের সঙ্গে গ্রুপ ‘এইচ’-এ খেলবে তারা।
কুরাসাও
বিশ্বকাপের আরেক নতুন অতিথি কুরাসাও। মাত্র দেড় লাখের কিছু বেশি জনসংখ্যার এই ক্যারিবীয় দ্বীপদেশটি বিশ্বকাপে খেলা সবচেয়ে কম জনসংখ্যার দেশ হিসেবে রেকর্ড গড়েছে। বাছাইপর্বে একটিও ম্যাচ না হেরে মূলপর্বে উঠে আসে তারা। সাত জয় ও তিন ড্রয়ে অপরাজিত থাকা দলটির কোচ ৭৮ বছর বয়সী অভিজ্ঞ ডিক অ্যাডভোকাট, যিনি বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে বয়স্ক কোচ হওয়ার পথে। জার্মানি, ইকুয়েডর ও আইভরি কোস্টের সঙ্গে কঠিন গ্রুপে পড়েছে কুরাসাও।
জর্ডান
এশিয়ার প্রতিনিধিত্বকারী জর্ডানের জন্য এটি বহু বছরের স্বপ্নপূরণ। ২০১৪ বিশ্বকাপে ওঠার খুব কাছাকাছি গিয়েও শেষ বাধা পেরোতে পারেনি দেশটি। তবে এবার বাছাইপর্বে ধারাবাহিক ভালো ফুটবল খেলে তারা ইতিহাস গড়ে। ১৬ ম্যাচে আট জয় ও পাঁচ ড্র নিয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত করে জর্ডান। ২০২৩ এশিয়ান কাপের রানার্সআপ হওয়া দলটি এবার বিশ্বমঞ্চেও নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিতে চায়। তাদের গ্রুপে রয়েছে অস্ট্রিয়া, আলজেরিয়া এবং বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা।
উজবেকিস্তান
মধ্য এশিয়ার ফুটবলের জন্যও ২০২৬ বিশ্বকাপ বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ প্রথমবারের মতো এই অঞ্চল থেকে কোনো দেশ বিশ্বকাপে খেলতে যাচ্ছে। সেই কৃতিত্ব দেখিয়েছে উজবেকিস্তান। ইতালির সাবেক বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক ফাবিও কানাভারোর অধীনে দুর্দান্ত বাছাইপর্ব কাটিয়েছে দলটি। পুরো অভিযানে মাত্র এক ম্যাচে হেরে বিশ্বকাপে জায়গা করে নেয় তারা। অধিনায়ক এলদর শোমুরোদভ ও তরুণ তারকাদের নিয়ে গড়া দলটি কলম্বিয়া, পর্তুগাল ও কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রের বিপক্ষে লড়বে।
কঙ্গো
কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রের অংশগ্রহণকে পুরোপুরি অভিষেক বলা না গেলেও এটি নিঃসন্দেহে একটি ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তন। সর্বশেষ ১৯৭৪ সালে ‘জাইর’ নামে বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছিল দেশটি। এরপর দীর্ঘ ৫২ বছর আর বিশ্বকাপের মূলপর্বে দেখা যায়নি তাদের। এবার আফ্রিকান প্লে-অফ পেরিয়ে এবং আন্তঃমহাদেশীয় বাছাইয়ের ফাইনালে জ্যামাইকাকে হারিয়ে বিশ্বমঞ্চে ফিরেছে দলটি। বর্তমানে ইউরোপের বিভিন্ন শীর্ষ লিগে খেলা কয়েকজন পরিচিত ফুটবলারও রয়েছেন তাদের দলে।