মঙ্গলবার ২৮ জুলাই ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৩ই শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ || ১২ সফর ১৪৪৮ হিজরি
LIVE
Printed on: July 28, 2026
July 28, 2026
খেলাধুলা
খেলাধুলা

ইংলিশ ক্রিকেটে অভিনব প্রতারণা

Published: July 28, 2026 at 12:31 PM
ইংলিশ ক্রিকেটে অভিনব প্রতারণা

ইংল্যান্ডের ক্লাব ক্রিকেটে ঘটেছে এক অবিশ্বাস্য প্রতারণা। ব্যাটে বল না লাগলেও আউট দিইয়েছেন আম্পায়ার। বলটা খেলার সময় স্লিপে দাঁড়ানো ফিল্ডার আঙুল মটকানোর শব্দ করেছেন ইচ্ছা করেই। যেন ওই শব্দে বোকা বনে বল ব্যাটে লেগেছে ভেবে আউট দেন আম্পায়ার। ঠিক এমন প্রতারণার ঘটনাই ঘটেছে ইংল্যান্ডের ক্লাব ক্রিকেটে। নর্থ ইয়র্কশায়ার অ্যান্ড সাউথ ডারহাম লিগে সল্টবার্ন ক্রিকেট ক্লাবের দ্বিতীয় একাদশ এবং মিডলসবরো ক্রিকেট ক্লাবের দ্বিতীয় একাদশের মধ্যে ম্যাচে এ ঘটনা ঘটে। সল্টবার্নের স্লিপ ফিল্ডারের এক ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ব্যাটসম্যানের ব্যাটের পাশ দিয়ে বল বেরিয়ে যাওয়ার সময় আঙুল মটকে আওয়াজ করেন তিনি। এই লিগে দ্বিতীয় ডিভিশনে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে থাকা সল্টবার্ন ক্রিকেট ক্লাবের বিরুদ্ধে প্রতারণার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বেশ কিছু ভিডিওতে দেখা গেছে, ব্যাটের সঙ্গে বলের স্পষ্ট দূরত্ব থাকা সত্ত্বেও আউট দিয়েছেন আম্পায়ার। ওদিকে পরিসংখ্যান বলছে, সল্টবার্নের উইকেটকিপার সর্বশেষ ৮ ম্যাচে নিয়েছেন ৩১টি ক্যাচ। এক ইনিংসেই গ্লাভসবন্দী করেছেন ৮টি ক্যাচ। যেখানে টেস্ট ক্রিকেটের এক ইনিংসে সর্বোচ্চ ৭টি ক্যাচের রেকর্ড রয়েছে ওয়াসিম বারী, বব টেলর, ইয়ান স্মিথ ও রিডলি জ্যাকবসের। বিতর্ক ছড়িয়ে পড়ার পর সল্টবার্নের ওয়েবসাইটে কিছু লাইভ স্ট্রিম সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম। অস্ট্রেলিয়ান সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, স্থানীয় ক্রিকেটার বেন মামেরি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রথম এ প্রতারণার ঘটনা সামনে আনেন। মিডলসবরোর বিরুদ্ধে নেওয়া একটি উইকেটের ভিডিও পোস্ট করে তিনি লেখেন, ‘বল ব্যাটের ধারেকাছে না থাকলেও প্রথম স্লিপের ফিল্ডার ব্যাটে লাগার আওয়াজ তৈরি করতে আঙুল মটকান, আর তাতেই আউট দেওয়া হয়। এটি আমার দেখা ক্রিকেটের সবচেয়ে জঘন্য রূপ। শুনেছি, এই মৌসুমে তাদের কিপার নাকি প্রচুর ক্যাচ ধরেছে। মামেরির সেই পোস্টে সাড়া দিয়ে আরেকটি ভিডিও শেয়ার করেন মিডলসবরো অধিনায়ক ররি কটেরিল। তিনি যোগ করেন, ‘আমি বরোর (মিডলসবরো) দ্বিতীয় দলের অধিনায়ক। এ ম্যাচেই এমন ঘটনা আরও দুইবার ঘটেছে। আরও দুটি বাজে সিদ্ধান্তের শিকার হয় ১৫ ও ১৬ বছর বয়সী দুই তরুণ। আমি তখন নন-স্ট্রাইক প্রান্তে দাঁড়িয়ে ছিলাম। তাদের সেই জালিয়াতি সরাসরি প্রত্যক্ষ করেছি। অথচ ম্যাচে মাত্র ২৯ রানে হেরে যাই, যা খুবই হতাশাজনক। ফক্স ক্রিকেট জানিয়েছে, মূল ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করা এই ব্যক্তি বিষয়টি সবার নজরে আনতে টকস্পোর্ট, বিবিসি টেস্ট ম্যাচ স্পেশাল, স্কাই স্পোর্টস ক্রিকেট এবং ইংল্যান্ডের কিংবদন্তি পেসার জিমি অ্যান্ডারসনের ‘টেলএন্ডারস পডকাস্ট’কে ট্যাগ করেন। মঙ্গলবার লিগ কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে, বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে এবং তারা তদন্ত শুরু করেছে। বিবৃতিতে সংস্থাটি জানায়, ‘গত শনিবার দ্বিতীয় বিভাগের একটি ম্যাচে ঘটে যাওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা নিয়ে লিগ কর্তৃপক্ষের কাছে একটি প্রাতিষ্ঠানিক অভিযোগ জমা পড়েছে। পূর্ণাঙ্গ তদন্তপ্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে নতুন করে কোনো মন্তব্য করা হবে না। ক্রিকেট বিশ্লেষণভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম ‘বিগহিটক্রিকেট’ এ ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় বলেছে, ‘বেন বিষয়টি সবার সামনে আনার পর ক্লাব ও সংশ্লিষ্ট খেলোয়াড়ের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেই আশা করি। তবে একটা বিষয় বারবার মনে হচ্ছে, নিশ্চিতভাবেই এমন অনেকবার ঘটেছে, যখন ফিল্ডার আঙুল ফুটিয়েছেন অথচ ব্যাটসম্যান বল ব্যাটে খেলেছেন। কিংবা আঙুল ফোটাতে ব্যস্ত থাকার কারণে সত্যিকারের কোনো ক্যাচই হয়তো ফিল্ডার নিতে পারেননি!’