মঙ্গলবার ২৮ জুলাই ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৩ই শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ || ১২ সফর ১৪৪৮ হিজরি
LIVE
Printed on: July 28, 2026
July 28, 2026
আন্তর্জাতিক
আন্তর্জাতিক

বিশ্বকাপ বিতর্কে মুখ খুলেই নতুন সমালোচনায় ইনফান্তিনো

Published: July 28, 2026 at 12:15 PM
বিশ্বকাপ বিতর্কে মুখ খুলেই নতুন সমালোচনায় ইনফান্তিনো



২০২৬ বিশ্বকাপ ঘিরে টানা বিতর্ক, সমালোচনা ও নানা প্রশ্নের মুখে অবশেষে নীরবতা ভাঙলেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো! তবে সমালোচকদের উদ্দেশে দেওয়া তার কড়া বার্তা নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। ইনফান্তিনোর বক্তব্য প্রকাশের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই একটি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা তাকে বিশ্ব ফুটবল পরিচালনার জন্য ‘অযোগ্য’ বলে মন্তব্য করেছে। ১৯ জুলাই শেষ হওয়া বিশ্বকাপকে ঘিরে টিকিটের মূল্য, রেফারিং, রাজনৈতিক প্রভাব ও বিভিন্ন প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ফিফা ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে। এসব অভিযোগের জবাবে ইনস্টাগ্রামে ১৫ পাতার একটি খোলাচিঠি প্রকাশ করেন ইনফান্তিনো। সেখানে তিনি লেখেন, ‘আপনারা সমালোচনা আর ঘৃণায় এতটাই অন্ধ হয়ে ছিলেন যে ফুটবল উৎসবের আসল আনন্দটাই মিস করে গেছেন। আরও এক দীর্ঘ বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে যারা ‘ঘৃণা’ করেন, তাদের উচিত এর বদলে ‘ধ্যান করা, প্রার্থনা করা কিংবা ফুটবল ম্যাচ দেখা’। এছাড়া তিনি দাবি করেন, সমালোচকেরা ‘সব আনন্দ ও সম্প্রীতি এড়িয়ে গেছেন’ এবং তারা ‘ঘৃণা ও মিথ্যা গুজব ছড়িয়েছেন। ফিফা সভাপতির এই বক্তব্য প্রকাশের পরপরই তীব্র প্রতিক্রিয়া জানায় মানবাধিকার সংস্থা ফেয়ারস্কোয়ার। সংস্থাটির পরিচালক ও সহপ্রতিষ্ঠাতা নিকোলাস ম্যাকগিহান বলেন, ইনফান্তিনোর বক্তব্যই প্রমাণ করে তিনি বাস্তবতা থেকে কতটা বিচ্ছিন্ন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফকে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, ‘ইনফান্তিনোর হিসাব চুকানোর বক্তব্য বিশ্ব ফুটবল পরিচালনার ক্ষেত্রে তার অযোগ্যতাকে আরও প্রকট করে তোলে। তিনি সংস্থার ভেতরে তোষামোদকারীদের দ্বারা বেষ্টিত এবং বাইরে নিজের অজনপ্রিয়তার বাস্তব পরিস্থিতি থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন। বিশ্বকাপ চলাকালে ফিফার বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় বিতর্কগুলোর একটি ছিল মার্কিন ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগানের লাল কার্ডের নিষেধাজ্ঞা স্থগিতের সিদ্ধান্ত। বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে লাল কার্ড দেখার পর তার এক ম্যাচ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার কথা থাকলেও, অভিযোগ ওঠে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হস্তক্ষেপের পর সেই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা হয়। একই সঙ্গে টিকিটের মূল্য বৃদ্ধি, কয়েকটি দেশের দর্শক ও কর্মকর্তাদের ভিসা জটিলতা এবং আর্জেন্টিনা-মিসর ম্যাচে রেফারির বিতর্কিত সিদ্ধান্তও ফিফাকে কঠিন সমালোচনার মুখে ফেলে। এদিকে ট্রাম্পের সঙ্গে ইনফান্তিনোর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের বিচার বিভাগীয় কমিটির জ্যেষ্ঠ সদস্য জেমি রাসকিন ফিফার কাছে ট্রাম্প, তার প্রশাসন, পরিবারের সদস্য এবং ট্রাম্প অর্গানাইজেশনের সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ ও মূল্যবান লেনদেনের তথ্য চেয়েছেন। এর আগে ট্রাম্প টাওয়ারে ফিফার কার্যালয় ভাড়া নেওয়ার সিদ্ধান্তও সমালোচনার জন্ম দিয়েছিল। বিশ্বকাপ-পরবর্তী বিতর্ক থামানোর উদ্দেশ্যে দেওয়া ইনফান্তিনোর বক্তব্য উল্টো নতুন বিতর্কের সূচনা করেছে। সমালোচকদের বিরুদ্ধে তার কড়া অবস্থান যেমন আলোচনায় এসেছে, তেমনি মানবাধিকার সংগঠন ও রাজনৈতিক মহলের পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ফিফা সভাপতির ওপর চাপ বেড়েছে আরও!