বৃহস্পতিবার ২৯ অক্টোবর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৩ই কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ || ১৭ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
LIVE
Printed on: October 29, 2026
October 29, 2026
বিনোদন
বিনোদন

১০০-৭০০ কোটির ক্লাব: তামিল সিনেমার বক্স অফিস রেকর্ড লিখছেন রজনীকান্ত

Published: October 29, 2026 at 09:54 AM
১০০-৭০০ কোটির ক্লাব: তামিল সিনেমার বক্স অফিস রেকর্ড লিখছেন রজনীকান্ত

তামিল সিনেমার বক্স অফিস রেকর্ড লিখছেন রজনীকান্ত বয়সকে সংখ্যায় বন্দি করে তামিল ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিকে নতুন নতুন রেকর্ডের স্বাদ দিচ্ছেন সুপারস্টার রজনীকান্ত । রজনীকান্ত অভিনীত ‘শিবাজি: দ্য বস’ সিনেমা ২০০৭ সালে মুক্তি পায়। এটি তামিল সিনেমাকে বিশ্বব্যাপী ১০০ কোটি রুপির বক্স অফিস ক্লাবে প্রবেশ করতে সাহায্য করে। উনিশ বছর পর এই সুপারস্টারই তামিল ইন্ডাস্ট্রির বক্স অফিসের সর্বোচ্চ মানদণ্ড নির্ধারণ করে চলেছেন।  ৭৫ বছর বয়সে রজনীকান্তের হাত ধরেই তামিল সিনেমা প্রথমবারের মতো বিশ্বব্যাপী ৭০০ কোটি রুপি আয়ের গণ্ডি পেরিয়েছে। ১৩ দিনে ‘জেলার টু’ সিনেমা ৭৪৪ কোটি রুপি (গ্রস) আয় করেছে। এর মধ্য দিয়ে সিনেমাটি ২০১৮ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত রজনীকান্তের ব্লকবাস্টার ‘২.০’-এর রেকর্ডও ভেঙে দিয়েছে। তামিল সিনেমার বক্স অফিসে আগের রেকর্ড গড়তে যার ভূমিকা ছিল, তিনিই সেই রেকর্ডের সীমা আরো উঁচুতে তুলেছেন, তার অসাধারণ বাণিজ্যিক সাফল্যের দীর্ঘস্থায়িত্বের চেয়ে বড় উদাহরণ আর কী হতে পারে! 


বক্স অফিস পরিসংখ্যানের বাইরেও রজনীকান্তের অবদান অনেক বিস্তৃত। তার কর্মজীবন বিস্তৃত এমন এক সময় থেকে, যখন সিনেমার সাফল্য বিচার করা হতো প্রেক্ষাগৃহে একটি সিনেমা কত দিন চলল, তার ভিত্তিতে। আর এখন মুক্তির প্রথম সপ্তাহান্তের আয়, বিদেশি বাজার এবং একাধিক ভাষায় মুক্তির মাধ্যমে শত শত কোটি রুপি উপার্জন সম্ভব। এই পরিবর্তনের প্রতিটি পর্যায়েই তার সিনেমাগুলো বারবার দেখিয়েছে তামিল সিনেমা কীভাবে আরো বড় দর্শকগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছাতে পারে এবং নিজের বাণিজ্যিক পরিসর আরো বিস্তৃত করতে পারে। এই মাইলফলকগুলোর গুরুত্ব শুধু আয়ের পরিমাণে নয়; প্রতিটি সাফল্য তামিল সিনেমার বাণিজ্যিক সম্ভাবনার ধারণাকে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করেছে। ‘শিবাজি’ দেখিয়েছে, তামিল সুপারস্টারকে কেন্দ্র করে নির্মিত একটি সিনেমা বিশ্বব্যাপী মুক্তির মাধ্যমে কত বড় সাফল্য পেতে পারে। ‘এন্থিরান’ নির্মাণের ব্যাপ্তি এবং একাধিক ভাষায় সিনেমা পরিবেশনের পরিসর বাড়িয়ে দিয়েছিল। অন্যদিকে, ‘কাবালি’ আন্তর্জাতিক বাজারে রজনীকান্তের সিনেমার অগ্রিম টিকিটের চাহিদার অসাধারণ চিত্র তুলে ধরেছিল। ‘২.০’-এর হাত ধরে তামিল সিনেমা প্রথমবারের মতো বিশ্বব্যাপী ৫০০ কোটি রুপির ক্লাবে প্রবেশ করে। এই সাফল্যের পেছনে হিন্দি ভাষায় প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি থেকে পাওয়া উল্লেখযোগ্য আয়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। এসব সিনেমার বক্স অফিস সাফল্যের ধরন এক ছিল না। কিন্তু প্রতিটি সিনেমাই তামিল ভাষার একটি প্রযোজনা বাণিজ্যিকভাবে কতটা সাফল্য অর্জন করতে পারে, সে সম্পর্কে ধারণাটিকে আরো বিস্তৃত করেছে।


জাপান থেকে বিশ্ববাজার কীভাবে বদলেছে বক্স অফিসের পরিসর

বিশ্বব্যাপী বক্স অফিসের আয় যখন সংবাদ শিরোনামে জায়গা করে নেওয়া শুরু করেনি, তারও অনেক আগে বিদেশের বাজারে ইতিহাস গড়তে শুরু করেছিলেন রজনীকান্ত। ১৯৯৮ সালে তার অভিনীত ‘মুতু’ জাপানের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির পর এমন দর্শকদের মন জয় করে, যারা প্রচলিত তামিলপ্রবাসী দর্শকগোষ্ঠীর অংশ ছিলেন না। এ সিনেমার সাফল্য প্রমাণ করেছিল, বিদেশের বাজারে ভারতীয় সিনেমার সামনে ভাষা ও সংস্কৃতির যে বাধা রয়েছে, তা অতিক্রম করা অসম্ভব নয়। অপ্রত্যাশিত এক সাফল্য দিয়ে যে যাত্রা শুরু হয়েছিল, তা ধীরে ধীরে একটি প্রতিষ্ঠিত আন্তর্জাতিক বাজারে পরিণত হয়। পরবর্তীতে রজনীকান্তের সিনেমাগুলো উত্তর আমেরিকা, উপসাগরীয় অঞ্চল, মালয়েশিয়া এবং অন্যান্য দেশে আরো বিস্তৃত পরিবেশনা ব্যবস্থার সুবিধা পেতে শুরু করে। তার সাম্প্রতিক ব্লকবাস্টার সিনেমাগুলোর আয় তুলনা করলে এই পরিবর্তন আরো স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ‘২.০’ বিদেশের বাজার থেকে আয় করেছিল প্রায় ১৭২ কোটি রুপি। ‘জেলার’ সিনেমা সেই আয়ের অঙ্ক বাড়িয়ে নিয়ে যায় ১৯৬ কোটি রুপিতে। আর ‘জেলার টু’ মাত্র ১৩ দিনে বিদেশের বাজার থেকে আয় করেছে ২৫৭ কোটি রুপি, যা বিশ্বব্যাপী সিনেমাটির মোট আয়ের ৩৫ শতাংশ। এই অগ্রগতি শুধু আয়ের পরিমাণ বৃদ্ধির গল্প নয়। বরং এটি দেখায়, আন্তর্জাতিক দর্শক এখন রজনীকান্তের বক্স অফিস সাফল্যের অন্যতম প্রধান ভিত্তি। বিদেশের বাজার আর কেবল অতিরিক্ত আয়ের উৎস নয়, বরং তার সিনেমার বাণিজ্যিক সাফল্যের কেন্দ্রীয় স্তম্ভে পরিণত হয়েছে। ভারতের অভ্যন্তরীণ বাজারেও পরিবর্তন এসেছে। তেলুগুভাষী অঞ্চলে রজনীকান্তের দীর্ঘদিনের জনপ্রিয়তা, কর্নাটক ও কেরালায় তার সিনেমার প্রতি শক্তিশালী প্রেক্ষাগৃহভিত্তিক সমর্থনের কারণে তার বাণিজ্যিক দর্শকগোষ্ঠী তামিলনাড়ুর সীমানা অনেক দূর ছাড়িয়ে গিয়েছে। ‘জেলার টু’ সিনেমার সাফল্য বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ ‘২.০’-এর মতো বিপুল পরিমাণ হিন্দি ভাষার প্রেক্ষাগৃহভিত্তিক আয়ের ওপর এই সিনেমাকে নির্ভর করতে হয়নি। বাজারের ভিন্ন সমীকরণ কাজে লাগিয়ে রজনীকান্ত বিশ্বব্যাপী আয়ের এই মাইলফলক অর্জন করেছেন। এর মাধ্যমে প্রমাণিত, তামিল সিনেমার একটি ব্লকবাস্টারের বাণিজ্যিক ভিত্তি এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি বিস্তৃত।


পঁচাত্তরেও নিজের রেকর্ড ভাঙছেন রজনীকান্ত

‘জেলার টু’ সিনেমার সাফল্যের সবচেয়ে বিস্ময়কর দিক সম্ভবত সময়ের ব্যবধান। ‘২.০’ বিশ্বব্যাপী ৬৯১ কোটি রুপি আয়ের যে রেকর্ড গড়েছিল, তা প্রায় আট বছর ধরে কোনো তামিল সিনেমা ভাঙতে পারেনি। এই সময়ে ভারতীয় সিনেমার জগতে টিকিটের দাম, প্রিমিয়াম ফরম্যাট, সিনেমা পরিবেশনের কৌশল এবং দর্শকদের প্রত্যাশায় ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। তবু শেষ পর্যন্ত রেকর্ডটি ভেঙেছে রজনীকান্তেরই আরেকটি সিনেমা। শিল্পের সামগ্রিক বিকাশের সুফল শুধু ভোগ করেই থেমে থাকেননি; পরবর্তী প্রজন্মের তারকাদের যুগেও বাণিজ্যিক সাফল্যের সর্বোচ্চ অবস্থান ধরে রেখেছেন এই সুপারস্টার। অবশ্য মূল্যস্ফীতি, টিকিটের দাম বৃদ্ধি এবং বাজার সম্প্রসারণের বিষয়গুলো বিবেচনায় না নিয়ে ২০০৭ সালে ১০০ কোটি রুপির সঙ্গে আজকের ৭০০ কোটি রুপির সরাসরি তুলনা করা যায় না। তবু বৃহত্তর সাফল্যটি অস্বীকার করার উপায়ও নেই। দীর্ঘদিন প্রেক্ষাগৃহে সিনেমা চলার যুগ থেকে মুক্তির প্রথম সপ্তাহান্তে বিপুল আয় এবং বিশ্বব্যাপী মুক্তিনির্ভর বাণিজ্যের যুগ সময়ের এই পরিবর্তনের মধ্যেও রজনীকান্ত এমন বিপুলসংখ্যক দর্শককে প্রেক্ষাগৃহে টানতে সক্ষম হয়েছেন, যে ধারাবাহিকতা খুব কম তারকাই এত দীর্ঘ সময় ধরে বজায় রাখতে পেরেছেন। এক অর্থে, রজনীকান্তের বক্স অফিস সাফল্যের বিবর্তন তামিল সিনেমার বাণিজ্যিক বিকাশেরই প্রতিচ্ছবি। আর ‘জেলার টু’-এর হাত ধরে সেই ইতিহাস পৌঁছেছে আরো একটি ঐতিহাসিক অধ্যায়ে।