টানা ১৮ দিন বন্ধ থাকার পর চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার সোনামসজিদ স্থলবন্দর দিয়ে আবারও ভারতীয় পাথর আমদানি শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার (১৯ মে) দুপুর ১২টা থেকে পাথরবাহী ট্রাক বন্দরে প্রবেশ শুরু করে। এতে স্বস্তি ফিরেছে আমদানিকারক, শ্রমিক ও সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের মধ্যে।
বন্দর সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম এ স্থলবন্দর দিয়ে
গত ১ মে থেকে
পাথর আমদানি বন্ধ ছিল। এতে দেশের বিভিন্ন মেগা উন্নয়ন প্রকল্পসহ সরকারি ও বেসরকারি অবকাঠামো
নির্মাণ খাতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। বাজারে পাথরের দাম বেড়ে যায় এবং বন্দরে কর্মরত হাজার হাজার শ্রমিক-কর্মচারী কর্মহীন হয়ে পড়েন। একই সঙ্গে পাথর পরিবহনের সঙ্গে জড়িত শত শত ট্রাকও
অলস বসে থাকে। এতে সরকারও বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত
হয়।
জানা গেছে, সোনামসজিদের বিপরীতে ভারতের মোহদিপুর কাস্টমস কর্তৃপক্ষ পাথরের অ্যাসেসমেন্ট মূল্য বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়ায় এ সংকটের সৃষ্টি
হয়।
সোনামসজিদ আমদানি-রপ্তানিকারক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক ও পাথর আমদানিকারক
আরিফ উদ্দিন ইতি জানান, বাংলাদেশে নির্মাণ কাজে ব্যবহৃত কালো পাথরের বেশিরভাগই ভারতের ঝাড়খণ্ড রাজ্যের পাকুর এলাকা থেকে আসে। ২০১৪ সালে কলকাতায় দুই দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বৈঠকে প্রতি টন পাথরের মূল্য
১৩ ডলার নির্ধারণ করা হয়েছিল। দীর্ঘদিন ধরে সেই মূল্যেই আমদানি চলছিল। তবে চলতি মাসের শুরুতে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ ১৫ ডলার মূল্য
নির্ধারণের দাবি তোলে এবং ১৩ ডলারে খোলা
এলসি গ্রহণ না করায় আমদানি
বন্ধ হয়ে যায়।
তিনি বলেন, সমস্যার সমাধানে রাজশাহীতে নিযুক্ত ভারতের সহকারী হাইকমিশনার মনোজ কুমারের সঙ্গে আলোচনা করা হয়। পাশাপাশি সোনামসজিদ আমদানি-রপ্তানিকারক গ্রুপ ও ভারতের মহদিপুর
এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের মধ্যে ধারাবাহিক আলোচনার পর উভয় পক্ষ
আপাতত ১৪ ডলারে পাথর
আমদানির বিষয়ে একমত হয়। এর পর থেকেই
বন্দরে আবার পাথর প্রবেশ শুরু হয়েছে।
তবে আরিফ উদ্দিন ইতি বলেন, বিষয়টির এখনও চূড়ান্ত সমাধান হয়নি। আগে ১৩ ডলারে খোলা
এলসিগুলোর পাথর আমদানির সুযোগ না দিলে আবারও
আমদানি বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। নতুন এলসি ১৪ ডলারে খোলা
হবে বলেও জানান তিনি।
সোনামসজিদ বন্দর পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান পানামা সোনামসজিদ পোর্ট লিংক লিমিটেডের অপারেশন ম্যানেজার কামাল খান জানান, মঙ্গলবার বিকাল পর্যন্ত প্রায় ১০০ ট্রাক পাথর বন্দরে প্রবেশ করেছে। এর আগে ৩০
এপ্রিল সর্বশেষ ৩৪০ ট্রাক পাথর আমদানি হয়েছিল। সাধারণত প্রতিদিন এ বন্দরে ২শ
থেকে আড়াইশ ট্রাক পাথর প্রবেশ করে বলে জানান তিনি।