সামনে শীতকাল। এরই মধ্যে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অনুভূত হচ্ছে শীতের আমেজ। আবহাওয়ার এই পরিবর্তনের সঙ্গে বাড়ছে জ্বর, সর্দি-কাশি ও নানা ধরনের সংক্রমণের ঝুঁকি। পাশাপাশি হাত-পা, মুখসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে দেখা দিতে পারে ফুসকুড়ি, ফোস্কা ও বিভিন্ন ধরনের চর্মরোগ। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ও অন্তঃসত্ত্বাদের সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি থাকায় এ সময়ে প্রয়োজন বাড়তি সতর্কতা ও সচেতনতা। এ পরিস্থিতিতে সুস্থ থাকতে কীভাবে সতর্ক থাকবেন, জেনে নিন প্রয়োজনীয় পরামর্শ। মাথাব্যথা, নাক দিয়ে পানি পড়া, গলাব্যথা, শুকনো কাশি ও শরীর ব্যথা—আবহাওয়া পরিবর্তনের সময় এসব উপসর্গ প্রায়ই দেখা যায়। এগুলো মৌসুমি ফ্লু বা অন্যান্য ভাইরাসজনিত সংক্রমণের লক্ষণ হতে পারে। তবে উপসর্গ দীর্ঘস্থায়ী হলে কিংবা শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে অবহেলা করা উচিত নয়।
সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসের সংক্রমণ কিছু ক্ষেত্রে গুরুতর হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে হৃদ্রোগ, ফুসফুসের রোগ, ক্যানসারসহ জটিল রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের বাড়তি সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
হাত-পা ও মুখে ফোস্কা হলে সতর্ক হোন
জ্বরের পাশাপাশি হাতের তালু, পায়ের পাতা, আঙুলের ফাঁক কিংবা মুখে ফোস্কা ও ফুসকুড়ি দেখা দিলে সতর্ক হতে হবে। কিছু ক্ষেত্রে ত্বক শুষ্ক হয়ে যাওয়া, চামড়া ওঠা কিংবা ক্ষত তৈরির মতো সমস্যাও দেখা দিতে পারে। ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া বা ছত্রাকের সংক্রমণে এ ধরনের উপসর্গ হতে পারে। তবে শুধু লক্ষণ দেখে সংক্রমণের ধরন নিশ্চিত করা যায় না। তাই এমন সমস্যা দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
যেভাবে সতর্ক থাকবেন
১. মাস্ক ব্যবহার করুন: জনসমাগমপূর্ণ স্থানে এবং শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণের ঝুঁকি থাকলে মাস্ক ব্যবহার করুন। হাঁচি-কাশির সময় টিস্যু বা কনুই দিয়ে নাক-মুখ ঢেকে রাখুন।
২. পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখুন: নিয়মিত সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে নিন। আক্রান্ত ব্যক্তির ব্যবহৃত তোয়ালে, পোশাক বা ব্যক্তিগত সামগ্রী ভাগাভাগি করা থেকে বিরত থাকুন।
৩. পর্যাপ্ত পানি পান করুন: শরীর আর্দ্র রাখতে নিয়মিত পানি পান করুন। গলাব্যথা বা অস্বস্তি থাকলে কুসুম গরম পানি পান করতে পারেন।
৪. পুষ্টিকর খাবার খান: প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় শাকসবজি, ফলমূল, ডিম, মাছ, দুধ ও অন্যান্য পুষ্টিকর খাবার রাখুন। দইয়ের মতো খাবারও সুষম খাদ্যতালিকার অংশ হতে পারে।
৫. পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিন: ঘুমের ঘাটতি এড়িয়ে চলুন এবং অসুস্থ অবস্থায় শরীরকে বিশ্রাম দিন। ঘরে বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা রাখুন। অতিরিক্ত ঠান্ডা বা অস্বস্তিকর পরিবেশ এড়িয়ে চলতে পারেন।
৬. নিজে থেকে ওষুধ খাবেন না: চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক গ্রহণ করবেন না। ভাইরাসজনিত সংক্রমণে অ্যান্টিবায়োটিক কাজ করে না; অপ্রয়োজনীয় ব্যবহারে ওষুধ প্রতিরোধী জীবাণুর ঝুঁকি বাড়ে।
কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন?
জ্বর দীর্ঘস্থায়ী হলে, বিশেষ করে পাঁচ দিনেও না কমলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। জ্বরের সঙ্গে শরীরে র্যাশ, চোখে ব্যথা কিংবা অন্য অস্বাভাবিক উপসর্গ দেখা দিলে ডেঙ্গু বা ম্যালেরিয়াসহ সম্ভাব্য কারণগুলো বিবেচনায় নিয়ে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করাতে হতে পারে।
এ ছাড়া শ্বাসকষ্ট, অস্বাভাবিক রক্তপাত, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, তীব্র দুর্বলতা কিংবা পানি পান করতে না পারার মতো লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নিতে হবে। গুরুতর লক্ষণ দেখা দিলে পাঁচ দিন অপেক্ষা করা উচিত নয়।
আবহাওয়া পরিবর্তনের সময়ে সচেতনতা, পরিচ্ছন্নতা, পুষ্টিকর খাবার ও পর্যাপ্ত বিশ্রাম সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক। তবে অসুস্থ হলে ঘরোয়া উপায়ের ওপর নির্ভর না করে প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।