শনিবার ১৭ অক্টোবর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১লা কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ || ৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
LIVE
Printed on: October 17, 2026
October 17, 2026
লাইফস্টাইল
লাইফস্টাইল

৬৫ হাজার টাকায় থাইল্যান্ড ভ্রমণ!

Published: October 17, 2026 at 12:57 PM
৬৫ হাজার টাকায় থাইল্যান্ড ভ্রমণ!

বন্ধুদের সঙ্গে বিদেশ ভ্রমণের পরিকল্পনা করছেন? কিন্তু বিমানভাড়া, হোটেল ও খাওয়াদাওয়ার খরচের কথা ভেবে পিছিয়ে আসছেন? তাহলে আপনার ভ্রমণের তালিকায় রাখতে পারেন দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র থাইল্যান্ডকে। নীল সমুদ্র, দৃষ্টিনন্দন মন্দির, জমজমাট রাতের বাজার, অভিনব ক্যাফে আর রোমাঞ্চকর নানা অভিজ্ঞতার কারণে দেশটি পর্যটকদের কাছে বেশ আকর্ষণীয়। সম্প্রতি ভারতের দুই কনটেন্ট ক্রিয়েটর কে বালাজি ও নীথু জানিয়েছেন, তাঁদের থাইল্যান্ড সফরে খরচ হয়েছে ৫০ হাজার ভারতীয় রুপি। বাংলাদেশি মুদ্রায় তা আনুমানিক ৬৫ হাজার টাকা। তাঁদের এই অভিজ্ঞতা ঘিরে স্বল্প বাজেটে বিদেশ ভ্রমণের পরিকল্পনা নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।


থাইল্যান্ডে কী কী দেখবেন?

কে বালাজি ও নীথুর ভ্রমণে ছিল নানা ধরনের অভিজ্ঞতা। হস্তিশালা, অভিনব মন্দির, নান্দনিক ক্যাফে, রাতের বাজার এবং শান্ত গ্রামীণ পরিবেশ উপভোগ করেছেন তাঁরা। তাঁদের ঘোরার তালিকায় ছিল চিয়াং মাই শহরও। থাইল্যান্ডের ওয়াট রং সুয়া তেন মন্দির, যা ‘ব্লু টেম্পল’ নামে পরিচিত, পর্যটকদের কাছে বিশেষ আকর্ষণীয়। নীল রঙের সূক্ষ্ম কারুকাজ এবং বিশাল বুদ্ধমূর্তি মন্দিরটির সৌন্দর্য বাড়িয়েছে। এ ছাড়া স্থানীয় বাজার ঘুরে দেখা, থাই খাবার চেখে দেখা এবং প্রকৃতির কাছাকাছি সময় কাটানোর সুযোগও রয়েছে।বাংলাদেশ থেকে যাওয়ার আগে যা মাথায় রাখবেন


১. আগে থেকেই বিমানভাড়া যাচাই করুন: থাইল্যান্ড ভ্রমণের বাজেটে বিমানভাড়া বড় অংশ জুড়ে থাকতে পারে। তাই ভ্রমণের সম্ভাব্য তারিখ ঠিক করে বিভিন্ন বিমান সংস্থার ভাড়া তুলনা করুন। সম্ভব হলে কয়েক সপ্তাহ বা মাস আগে টিকিটের দাম পর্যবেক্ষণ করুন। কম ভাড়ার টিকিটে লাগেজ, খাবার ও আসন নির্বাচনের জন্য অতিরিক্ত খরচ আছে কি না, তা-ও দেখে নিন।


২. ভিসা ও প্রয়োজনীয় নথি প্রস্তুত রাখুন: বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীদের থাইল্যান্ডে পর্যটনের জন্য যাওয়ার আগে প্রযোজ্য ভিসার নিয়ম, আবেদনপদ্ধতি, ফি ও প্রয়োজনীয় নথি যাচাই করা জরুরি। থাই দূতাবাসের সরকারি ওয়েবসাইট থেকে সর্বশেষ নির্দেশনা দেখে আবেদন করুন। পাসপোর্টের মেয়াদ, হোটেল বুকিং, ফিরতি টিকিট এবং আর্থিক সামর্থ্যের প্রমাণের মতো প্রয়োজনীয় কাগজপত্রও প্রস্তুত রাখুন।


৩. থাকার জায়গা বাছুন বুঝেশুনে: শহরের একেবারে পর্যটনকেন্দ্রে থাকার বদলে গণপরিবহণের সুবিধা রয়েছে, এমন এলাকায় হোটেল বা গেস্টহাউস খুঁজতে পারেন। বন্ধুদের সঙ্গে গেলে একই ঘরে থাকার সুযোগ থাকলে মাথাপিছু খরচ কমতে পারে। তবে বুকিংয়ের আগে অবস্থান, নিরাপত্তা, পর্যালোচনা এবং বাতিলের নিয়ম দেখে নিন।


৪. চিয়াং মাইয়ের মতো গন্তব্যও বিবেচনা করুন: থাইল্যান্ড মানেই শুধু ব্যাংকক বা ফুকেট নয়। চিয়াং মাইয়ের মন্দির, ক্যাফে, স্থানীয় বাজার এবং প্রাকৃতিক পরিবেশও ভ্রমণপ্রেমীদের আকর্ষণ করে। তবে ঢাকা থেকে সেখানে যেতে বিমানসংযোগ ও যাত্রার মোট খরচ আগে যাচাই করুন। ব্যাংককে পৌঁছে অন্য শহরে যাওয়ার খরচও বাজেটে রাখতে হবে।


৫. খাবার ও ঘোরাঘুরির খরচ নিয়ন্ত্রণ করুন: প্রতিদিনের খাবার, স্থানীয় যাতায়াত, প্রবেশমূল্য এবং কেনাকাটার জন্য আলাদা বাজেট রাখুন। সব সময় দামি রেস্তোরাঁয় না খেয়ে পরিচ্ছন্ন ও জনপ্রিয় স্থানীয় খাবারের দোকান বেছে নিতে পারেন। মন্দির বা আকর্ষণীয় স্থান ঘোরার আগে প্রবেশমূল্য ও খোলার সময় জেনে নিলে অপ্রয়োজনীয় খরচ এড়ানো সহজ হবে।


৬. অ্যাডভেঞ্চার ও প্রাণী পর্যটনে সতর্ক থাকুন: থাইল্যান্ডে বিভিন্ন অ্যাডভেঞ্চার কার্যকলাপের সুযোগ রয়েছে। তবে বুকিংয়ের আগে নিরাপত্তাব্যবস্থা, বিমা, প্রশিক্ষকের উপস্থিতি এবং অতিরিক্ত ফি যাচাই করুন। হাতির অভয়ারণ্য দেখতে গেলে প্রাণীদের কল্যাণকে গুরুত্ব দেয়, এমন প্রতিষ্ঠান বেছে নেওয়ার চেষ্টা করুন।


৭. জরুরি খরচের জন্য টাকা রাখুন: বিমানবিলম্ব, অতিরিক্ত লাগেজ, অসুস্থতা কিংবা হঠাৎ যাতায়াতের প্রয়োজন হতে পারে। তাই মূল বাজেটের বাইরে কিছু টাকা জরুরি খরচের জন্য রাখুন। বিদেশে ব্যবহারের জন্য ব্যাংক কার্ড, নগদ অর্থ এবং ভ্রমণবিমার প্রয়োজনীয়তাও আগে বিবেচনা করুন।


কম বাজেটে বিদেশ ভ্রমণ কি সম্ভব?

কে বালাজি ও নীথুর অভিজ্ঞতা দেখিয়েছে, পরিকল্পনা করে ভ্রমণ করলে খরচ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। তবে তাঁদের প্রায় ৬৫ হাজার টাকার বাজেট বাংলাদেশ থেকে যাত্রা করা পর্যটকের ক্ষেত্রে কিছুটা পরিবর্তন হতে পারে। বিমানভাড়া, ভিসা, হোটেল ও স্থানীয় যাতায়াতের খরচ হিসাব করে তবেই নিজের বাজেট তৈরি করুন। সঠিক পরিকল্পনা, আগাম বুকিং এবং খরচের হিসাব থাকলে থাইল্যান্ড হতে পারে আপনার পরবর্তী বিদেশ ভ্রমণ।