শুক্রবার ১৬ অক্টোবর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ৩১শে আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ || ৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
LIVE
Printed on: October 16, 2026
October 16, 2026
খেলাধুলা
খেলাধুলা

মেসির নামে ফুল আর্জেন্টিনার পতাকার রঙে পাপড়ি

Published: October 16, 2026 at 01:04 PM
মেসির নামে ফুল আর্জেন্টিনার পতাকার রঙে পাপড়ি


ফুটবল মাঠে তার জাদু ছড়িয়েছে পৃথিবীজুড়ে। এবার ফুটবলের সীমানা পেরিয়ে প্রকৃতির বুকেও জায়গা করে নিলেন লিওনেল মেসি।

পেরুর আন্দিজ পর্বতমালায় আবিষ্কৃত বিজ্ঞানের কাছে অজানা এক উদ্ভিদের নামকরণ করা হয়েছে আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়কের নামে। নতুন প্রজাতিটির নাম ‘সালভিয়া মেসি’ (Salvia messii)।

উদ্ভিদটির সন্ধান পান আর্জেন্টিনার কৃষিবিদ রোলান্দো উরিয়া। নাগরিক বিজ্ঞানবিষয়ক একটি অনলাইন প্ল্যাটফর্মে উদ্ভিদটির অস্বাভাবিক কিছু ছবি দেখে তার সন্দেহ হয়।

ছবিগুলো পরিচিত কোনো উদ্ভিদের সঙ্গে মিলছিল না। এরপর লিমার ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়ামের বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন তিনি।

পেরুর উদ্ভিদবিজ্ঞানী পাউল গনসালেস আরসে ও জ্যাঁ কাপচা রামোসকে নিয়ে গবেষণা শুরু করেন উরিয়া। কয়েক বছর ধরে তারা পুরনো নমুনা পরীক্ষা করেন।

পাশাপাশি অনুসন্ধান চালান আন্দিজের পাহাড়ি ঢালে। একপর্যায়ে সন্ধান মেলে উদ্ভিদটির। প্রায় দেড় মিটার উঁচু এই গুল্মজাতীয় উদ্ভিদ আগে কখনো আনুষ্ঠানিকভাবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়নি।

উদ্ভিদটির বৈজ্ঞানিক বিবরণ প্রকাশ করেছে Phytotaxa সাময়িকী। আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুসারে যখন কোনো ব্যক্তিত্বের সম্মানে কোনো প্রজাতির নামকরণ করা হয়, তখন বিজ্ঞানীরা একটি লাতিন ব্যাকরণগত নিয়ম অনুসরণ করেন, যেখানে পদবির শেষে একটি ‘আই’ (i) যোগ করা হয়।

এর অর্থ হলো—‘মেসির উদ্ভিদ’। এর সাদা ও হালকা নীল পাপড়ি মনে করিয়ে দেয় আর্জেন্টিনার জাতীয় পতাকার রং।

সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ২ হাজার থেকে ২ হাজার ৪০০ মিটার উচ্চতার নির্দিষ্ট পাহাড়ি অঞ্চলে জন্মে উদ্ভিদটি। বনাঞ্চলে আগুন ও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এর সীমিত আবাসস্থল হুমকির মুখে। তাই বিশেষজ্ঞরা প্রাথমিকভাবে একে বিপন্ন প্রজাতি হিসেবে বিবেচনা করছেন।


এটাই অবশ্য মেসির নামে প্রথম কোনো জীবের নামকরণ নয়। এর আগে তাঁর নামে নামকরণ করা হয়েছে ‘সেরকোপেমসেস মেসি’ (Cercopemyces messii) ছত্রাক, ‘আকান্থোগোনাটাস মেসি’ (Acanthogonatus messii) মাকড়সা, ‘লিওলায়েমুস মেসি’ (Liolaemus messii) গিরগিটি, প্রাগৈতিহাসিক ‘ভালচার মেসি’ (Vultur messii) শকুন এবং ‘ডিস্কনিস্কা মেসি’ (Discinisca messii) ঝিনুকের মতো দেখতে প্রাগৈতিহাসিক খোলসি প্রাণী।