বৃহস্পতিবার ১৫ অক্টোবর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ৩০শে আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ || ৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
LIVE
শিরোনাম
ডেঙ্গু প্রতিরোধে জেলা স্বাস্থ্য অধিকার ফোরামের ক্যাম্পেইন অব্যাহত চাঁপাইনবাবগঞ্জে বিশ্ব সাদাছড়ি নিরাপত্তা দিবস পালিত চাঁপাইনবাবগঞ্জে একদিনে ডেঙ্গু আক্রান্ত আরো ৮৪ জন ম্যাথ অলিম্পিয়াডে মেডেল ভোলাহাটের ইফতেখারুল এবার আন্তর্জাতিক পর্বে শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে সোনামসজিদ স্থলবন্দর বন্ধ থাকবে ৮ দিন শিবগঞ্জে ডেঙ্গু পরীক্ষার কিট দিলেন এমপি ড. কেরামত চাঁপাইনবাবগঞ্জে দুর্গাপূজাকে ঘিরে সীমান্ত এলাকায় ১৯ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন জয়পুরহাটে হেরোইনসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার নাটোরে ৫২৫ গ্রাম হেরোইনসহ ২ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৪০ গ্রাম হেরোইনসহ গ্রেপ্তার ১
Printed on: October 15, 2026
October 15, 2026
লাইফস্টাইল
লাইফস্টাইল

গোমড়ামুখো ও বদমেজাজি বলে এত বদনাম? উদ্‌যাপনের দিন আজ!

Published: October 15, 2026 at 11:54 AM
গোমড়ামুখো ও বদমেজাজি বলে এত বদনাম? উদ্‌যাপনের দিন আজ!

কাজের চাপ, ক্লান্তি কিংবা ব্যক্তিগত নানা কারণে যে কারও মেজাজ খারাপ হতে পারে। কখনো সামান্য বিষয়েও বিরক্তি প্রকাশ করেন কেউ কেউ। মানুষের এমন স্বভাব ও অনুভূতিকে ঘিরেই প্রতি বছর ১৫ অক্টোবর পালিত হয় ‘খিটখিটে মেজাজ দিবস’। দিনটির উদ্দেশ্য কাউকে তার বদমেজাজের জন্য বিব্রত করা নয়; বরং হাস্যরসের মধ্য দিয়ে মানুষের ভিন্ন আচরণকে বোঝা এবং আবেগের প্রতি সহনশীলতা তৈরি করা। এই দিনে ইচ্ছা হলে সামান্য গম্ভীর থাকা যায়, আবার পরিচিত খিটখিটে মানুষদের নিয়েও মজার ছলে সময় কাটানো যায়। তবে মজার ছলে কাউকে অপমান করা নয়, বরং নিজের ও অন্যের স্বভাবকে একটু অন্যভাবে দেখাই এই দিনের অন্যতম উদ্দেশ্য।


খিটখিটে স্বভাবের জনপ্রিয় চরিত্র অস্কার

খিটখিটে মেজাজের কথা উঠলে অনেকেরই মনে পড়ে শিশুদের জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ‘সেসামি স্ট্রিট’-এর অস্কার দ্য গ্রাউচের কথা। ১৯৬৯ সালে অনুষ্ঠানটিতে আত্মপ্রকাশ করে এই চরিত্র। পরে যুক্তরাষ্ট্রের শিশুদের কাছে এটি বেশ জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। বুজ লোমশ এই পুতুলটির পরিচিতি তার গোমড়ামুখো স্বভাব, নানা বিষয়ে অভিযোগ করা এবং বিরক্তি প্রকাশের জন্য। এমনকি আবর্জনার পাত্রে থাকতেও তার বেশ পছন্দ। আবর্জনার প্রতি তার ভালোবাসা নিয়ে রয়েছে মজার গানও। তবে সব সময় বিরক্তি প্রকাশ করলেও অস্কারের আচরণের আড়ালে কখনো কখনো কোমল মনের পরিচয় পাওয়া যায়। এ কারণেই চরিত্রটি শুধু শিশুদের নয়, বড়দের কাছেও আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে।


এক ছাত্রীর মজার ভাবনা থেকেই দিবসটির শুরু

খিটখিটে মেজাজ দিবসের প্রচলনের পেছনে রয়েছে মজার একটি ঘটনা। ১৯৭৬ সালে ‘চেজেস ক্যালেন্ডার অব ইভেন্টস’-এর প্রকাশক বিল ও হেলেন চেজ তাদের নাতনি মনিকার কাছ থেকে দিবসটি উদ্‌যাপনের ধারণা পান। তখন মিশিগানের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী মনিকার এক শিক্ষক ছিলেন অত্যন্ত খিটখিটে স্বভাবের। ওই শিক্ষকের জন্মদিন ছিল ১৫ অক্টোবর। তাই বন্ধুদের সঙ্গে মিলে মজার ছলে দিনটিকে খিটখিটে মেজাজ দিবস হিসেবে চিহ্নিত করে মনিকা। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই মজার ভাবনা পরিচিতি পায়। পরে দিবসটির সঙ্গে অস্কার দ্য গ্রাউচের নামও জড়িয়ে যায়। বর্তমানে বিভিন্ন জায়গায় মানুষ নিজেদের মতো করে দিনটি পালন করেন। কেউ অস্কারের মজার কাণ্ডকারখানা মনে করেন, আবার কেউ পরিচিত বদমেজাজি মানুষদের নিয়ে হাসি-ঠাট্টায় মেতে ওঠেন।


কীভাবে উদযাপন করবেন খিটখিটে মেজাজ দিবস?

দিনটি পালনের জন্য বড় কোনো আয়োজনের প্রয়োজন নেই। চাইলে কিছুটা সময় গম্ভীর মুখে কাটাতে পারেন কিংবা বন্ধুদের সঙ্গে খিটখিটে স্বভাব নিয়ে মজার গল্প করতে পারেন। তবে হাসি-ঠাট্টা যেন কারও মনে আঘাত না দেয়, সেদিকে খেয়াল রাখা জরুরি। দিনটি নিজের অনুভূতি বোঝারও একটি সুযোগ। সব সময় হাসিখুশি থাকার চাপ না নিয়ে মন খারাপ, রাগ কিংবা বিরক্তির অনুভূতিকে স্বাভাবিকভাবে চিনতে শেখা দরকার। কী কারণে এমন অনুভূতি তৈরি হচ্ছে, তা বোঝার চেষ্টা করলে নিজের আবেগ সামলানোও সহজ হতে পারে। তবে রাগ বা বিরক্তি প্রকাশের ধরন এমন হওয়া উচিত নয়, যাতে নিজের কিংবা অন্যের ক্ষতি হয়।


সব সময় হাসিখুশি থাকতেই হবে, এমন নয়

খিটখিটে মেজাজ দিবসের আনন্দ শুধু বদমেজাজি আচরণ নিয়ে হাসি-ঠাট্টায় সীমাবদ্ধ নয়। নিজের অনুভূতিকে স্বীকার করা, ছোটখাটো বিষয় নিয়ে হাসতে শেখা এবং অন্যের স্বভাবকে সহানুভূতির চোখে দেখার মধ্যেও রয়েছে এই দিনের তাৎপর্য। তাই আজ যদি আপনার মন ভালো না থাকে, নিজেকে জোর করে হাসিখুশি রাখার প্রয়োজন নেই। বরং নিজের অনুভূতিকে বোঝার চেষ্টা করুন। মনে রাখবেন, সব সময় হাসিমুখে থাকা সম্ভব নয়; তবে রাগ, বিরক্তি কিংবা মন খারাপের মধ্যেও অন্যের প্রতি সম্মান বজায় রাখা জরুরি।


কী ভাবে কাটাবেন এই দিন?

গ্রাউচ ডে উদ্‌যাপনের জন্য বিশেষ আয়োজনের চেয়ে দিনের কিছুটা সময় মজার ছলে গম্ভীর মুখে কাটাতে পারেন। তবে খেয়াল রাখতে হবে, এই মজা যেন অন্য কাউকে আঘাত না করে। বিরক্তি বা রাগ প্রকাশের মধ্যেও সংযম রাখা জরুরি। দিনটি আবেগের দিকটি বুঝে নেওয়ারও সুযোগ করে দেয়। সব সময় ভালো থাকা বা হাসিমুখে থাকার চাপ না নিয়ে মন খারাপ, রাগ কিংবা বিরক্তির অনুভূতিগুলিকে চিনতে শেখা প্রয়োজন। সেই অনুভূতি কী কারণে তৈরি হচ্ছে, তা বোঝার চেষ্টা করাও গুরুত্বপূর্ণ। তবে আবেগ প্রকাশের ধরন যেন নিজের বা অন্যের ক্ষতির কারণ না হয়। খিটখিটে মেজাজ দিবসের আসল মজা বদমেজাজি হওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। নিজের অনুভূতিকে স্বীকার করা, ছোটখাটো বিষয় নিয়ে হাসতে শেখা এবং অন্যের স্বভাবকে একটু সহানুভূতির চোখে দেখার মধ্যেও রয়েছে এই দিনের তাৎপর্য।