গোমস্তাপুর উপজেলার রহনপুর রেলস্টেশন সংলগ্ন এলাকায় আম আড়তদার সমিতি ও স্থানীয় মাদক ব্যবসায়ীদের দ্বন্দ্বের জেরে ৫ জন আহত হয়েছে। আহতরা হলেন কামরুল, শাম মোহাম্মদ, মাইনুল, ফারুক ও রিফাত। পরে উপজেলা নির্বাহী অফিসার জিল্লুর রহমান ঘটনাস্থল এসে আক্রমণের শিকার হয়েছেন। এ সময় তার গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। গতকাল রাত সাড়ে ৯টার দিকে রহনপুর রেলস্টেশনসংলগ্ন কেডিসিপাড়া (শান্তিপাড়া) এলাকায় এই ঘটনা ঘটে ।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রহনপুর রেলস্টেশন সংলগ্ন বাংলাদেশ রেলওয়ের জায়গায় গড়ে ওঠা বিভিন্ন স্থাপনা উচ্ছেদ এবং মাদক ও অসামাজিক কার্যকলাপ বন্ধ করাকে কেন্দ্র করে আম ব্যবসায়ীদের সঙ্গে ওই এলাকার বাসিন্দাদের সঙ্গে বিরোধ চলে আসছিল। এ নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। গতকাল দিনভরও ওই এলাকায় পরিস্থিতি উত্তেজনা বিরাজ করছিল। রাতে দুই পক্ষের লোকজনের মধ্যে প্রথমে বাগ্বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। উভয় পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।
রহনপুর রেলস্টেশন বাজার আম আড়তদার সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক নাসিরউদ্দীন জানান, কেডিসিপাড়া এলাকাকে মাদক ও অসামাজিক কার্যকলাপমুক্ত করতে তারা দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন। এতে স্থানীয় মাদক ও অসামাজিক কার্যকলাপে জড়িত ব্যক্তিদের সঙ্গে তাদের বিরোধ তৈরি হয়। ওইদিন রাতে মাদকবিরোধী কাজ করার সময় ওই এলাকার যুবদল নেতা আবদুল্লাহ লোকজন তাদের সদস্যের উপর হামলা চালান। এতে নারীসহ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলেও তিনি জানান। এ সময় ইউএনও ঘটনাস্থলে এলে তার গাড়িতে হামলা চালানো হয়।
ইউএনও মো. জিল্লুর রহমান জানান, রহনপুর রেলস্টেশন এলাকার কেডিসি শান্তিপাড়ায় আম ব্যবসায়ী ও স্থানীয় মাদকব্যবসায়ীদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। গতকাল দিনভর দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছিল। পরিস্থিতি দেখতে রাতে সেখানে গেলে এক পক্ষের ওপর অন্য পক্ষ চড়াও হয়। পরে আহত একজনকে হাসপাতালে নেওয়ার সময় তার গাড়ি লক্ষ্য করে পাথর নিক্ষেপ করা হয়। একটি পাথর গাড়িতে লাগায় সামনের গ্লাস সামান্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
গোমস্তাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নাজমুল হক জানান, ঘটনার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আজ সকালেও এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা থাকায় পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সংঘর্ষ ও সরকারি গাড়িতে পাথর নিক্ষেপের ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।