চার দশকেরও বেশি সময় ধরে সংগীতের সঙ্গে পথচলা জেমসের। দীর্ঘ এই সময়ে বদলেছে প্রজন্ম, শ্রোতার রুচি ও গানের ধরন।প্রযুক্তির পরিবর্তনে বদলে গেছে গান শোনার মাধ্যমও। তবে, সময়ের সঙ্গে কিছু কণ্ঠের আবেদন কখনোই ফিকে হয় না। বরং প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে আরো পরিচিত ও আপন হয়ে ওঠে। সেই কণ্ঠগুলোর অন্যতম নগরবাউল জেমস।
গত ২ অক্টোবর ছিল জেমসের জন্মদিন। বিশেষ এই দিনে সহকর্মী ও সংগীতশিল্পীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা আয়োজনে তাকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। প্রিয় শিল্পীকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়ে আবেগঘন একটি পোস্ট করেছেন ‘আর্ক’ ব্যান্ডের সংগীতশিল্পী হাসান। সেখানে জেমসের সঙ্গে নব্বইয়ের দশক থেকে পথচলার নানা স্মৃতি তুলে ধরেছেন তিনি।
জেমসকে ‘বাংলা ব্যান্ড মিউজিকের এক বিশাল বটবৃক্ষ’ উল্লেখ করে হাসান লেখেন, “আমাদের দেশের ব্যান্ড সংগীতের জীবন্ত কিংবদন্তি এবং আমাদের সবার প্রিয় জেমস ভাইকে ‘আর্ক’ ব্যান্ডের পক্ষ থেকে জন্মদিনের অনেক অনেক শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা।”
দীর্ঘদিনের সহযাত্রার স্মৃতিচারণ করে হাসান আরও লেখেন, “নব্বইয়ের দশকের সোনালি দিনগুলো থেকে আজ পর্যন্ত একই মঞ্চে গান গাইতে পারা এবং বাংলা রক সংগীতের দীর্ঘ পথচলা ভাগ করে নেওয়া আমার জন্য আনন্দ ও গর্বের।”
নব্বইয়ের দশকের সেই ব্যস্ত সময়ের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “সেই যে আমরা একসঙ্গে মিক্সড অ্যালবামের রেকর্ডিং করতাম, কনসার্টের ব্যাকস্টেজে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আড্ডা দিতাম, আর একের পর এক শোতে স্টেজ কাঁপাতাম, সেই স্মৃতিগুলো আমার জীবনের অন্যতম সেরা সম্পদ। আপনার সঙ্গে মঞ্চ ভাগ করে নেওয়ার সেই উন্মাদনা আজও আমার মনে ঠিক আগের মতোই তাজা হয়ে আছে।”
জেমসের দীর্ঘ সংগীতজীবনের প্রশংসা করে হাসান লেখেন, “আপনি শুধু একজন কিংবদন্তি শিল্পীই নন, আপনি আমাদের বাংলা ব্যান্ড মিউজিকের এক বিশাল বটবৃক্ষ। শত প্রতিকূলতার মাঝেও যেভাবে আপনি রকের মশালটিকে জ্বালিয়ে রেখেছেন, তা আমাদের সবসময় অনুপ্রাণিত করে।”
জেমসের সুস্থতা ও দীর্ঘায়ু কামনা করে শুভেচ্ছাবার্তার শেষাংশে হাসান লেখেন, “দোয়া করি সৃষ্টিকর্তা আপনাকে দীর্ঘজীবী করুন, সবসময় সুস্থ ও হাসিখুশি রাখুন। আপনার কণ্ঠের সেই চেনা জাদু এভাবেই আরও বহু বছর থাকুক।”
জেমসের জন্মদিনে হাসানের এই স্মৃতিচারণ ও শুভেচ্ছাবার্তা সংগীতপ্রেমীদের মধ্যেও সাড়া ফেলেছে। নব্বইয়ের দশকের ব্যান্ড সংগীতের সেই সময়ের স্মৃতিও নতুন করে সামনে এসেছে তার এই পোস্টে।