এশিয়ান গেমসে ক্রিকেটের স্বর্ণপদক পুনরুদ্ধারের লক্ষ্য নিয়ে জাপানের উদ্দেশে রওনা দিচ্ছে বাংলাদেশ পুরুষ ক্রিকেট দল। অধিনায়ক লিটন দাসের লক্ষ্য সরাসরি ফাইনালে ওঠা। তবে সেই পথ পেরোতে হলে নকআউট পর্বে কঠিন প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হতে হতে পারে বাংলাদেশকে। সম্ভাব্য সেই তালিকায় রয়েছে পাকিস্তান ও ভারত। এশিয়ান গেমসের পুরুষ ক্রিকেটে বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা ইতোমধ্যে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে। বাকি দলগুলোর গ্রুপ পর্বের ফলের ওপর নির্ভর করছে শেষ আটের পুরো সমীকরণ। বাংলাদেশ ২৯ সেপ্টেম্বর চতুর্থ কোয়ার্টার ফাইনালে মাঠে নামবে। নিশিনের কোরোগি স্পোর্টস ক্লাবে বাংলাদেশ সময় সকাল ১১টায় শুরু হবে ম্যাচটি। বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ হবে ‘বি’ গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন দল। এই গ্রুপে রয়েছে হংকং, ওমান ও মালয়েশিয়া। অন্যদিকে ‘এ’ গ্রুপে খেলবে স্বাগতিক জাপান, আফগানিস্তান ও নেপাল। গ্রুপ পর্বের ফল অনুযায়ী এসব দলের অবস্থান নির্ধারিত হবে এবং সেখান থেকেই বাংলাদেশের কোয়ার্টার ফাইনালের প্রতিপক্ষ চূড়ান্ত হবে।
বাংলাদেশের জন্য সেমিফাইনালের সমীকরণও বেশ গুরুত্বপূর্ণ। প্রথম কোয়ার্টার ফাইনালে ২৮ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ সময় সকাল ৬টায় মাঠে নামবে পাকিস্তান। তাদের প্রতিপক্ষ হবে ‘বি’ গ্রুপের রানার্সআপ দল। বাংলাদেশ নিজেদের কোয়ার্টার ফাইনাল জিতলে এবং পাকিস্তানও শেষ আটের বাধা পেরোলে সেমিফাইনালে দুই দল মুখোমুখি হবে। সেক্ষেত্রে বাংলাদেশের ফাইনালে ওঠার পথে পাকিস্তানই হতে পারে বড় বাধা। আর সেমিফাইনাল পেরোতে পারলে ফাইনালে ভারতের মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। ভারত ২৮ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ সময় বেলা ১১টায় কোয়ার্টার ফাইনাল খেলবে। শ্রেয়াস আইয়ারের নেতৃত্বাধীন দলের প্রতিপক্ষ হবে ‘এ’ গ্রুপের রানার্সআপ। অন্যদিকে শ্রীলঙ্কা ২৯ সেপ্টেম্বর সকাল ৬টায় কোয়ার্টার ফাইনালে খেলবে ‘এ’ গ্রুপের চ্যাম্পিয়নের বিপক্ষে। ভারত ও শ্রীলঙ্কা নিজ নিজ ম্যাচ জিতলে সেমিফাইনালে তাদের দেখা হতে পারে।
বাংলাদেশ যদি সেমিফাইনালে পাকিস্তানকে হারায় এবং ভারতও নিজেদের সেমিফাইনাল জেতে, তাহলে স্বর্ণপদকের লড়াইয়ে বাংলাদেশ-ভারত ফাইনাল হবে।পাকিস্তান দলে এবার নেতৃত্ব দিচ্ছেন সাহিবজাদা ফারহান। দলে রয়েছেন সাইম আইয়ুব, আবরার আহমেদ, আরাফাত মিনহাস ও হাসান নাওয়াজের মতো ক্রিকেটাররা। আবার কয়েকজন এমন খেলোয়াড়ও আছেন, যারা ওয়ানডেতে খেললেও আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে এখনও অভিষিক্ত নন। পেসার আলী রাজার এখনও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয়নি।
বাংলাদেশের দলেও রয়েছে অভিজ্ঞতা ও তারুণ্যের মিশ্রণ। ব্যাটিংয়ে লিটন দাসের সঙ্গে আছেন তাওহীদ হৃদয়, তানজিদ হাসান তামিম ও পারভেজ হোসেন ইমন। পেস আক্রমণে শরীফুল ইসলাম, হাসান মাহমুদ ও মোস্তাফিজুর রহমানের সঙ্গে অলরাউন্ডার শেখ মেহেদী হাসান এবং বাঁহাতি স্পিনার নাসুম আহমেদ রয়েছেন।
ভারতের দলেও রয়েছে বেশ কয়েকজন সম্ভাবনাময় ক্রিকেটার। বৈভব সূর্যবংশী ও অভিষেক শর্মার মতো আক্রমণাত্মক ব্যাটারদের পাশাপাশি অক্ষর প্যাটেল ব্যাটিং ও বোলিং—দুই বিভাগেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন। এশিয়ান গেমসে ক্রিকেটে বাংলাদেশের স্বর্ণপদক জয়ের ইতিহাস রয়েছে। ২০১০ সালে আফগানিস্তানকে হারিয়ে প্রথমবার সোনা জিতেছিল বাংলাদেশ। ১৬ বছর পর সেই সাফল্য ফিরিয়ে আনার সুযোগ লিটনদের সামনে।
নিশিনের কোরোগি স্পোর্টস পার্কে ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে ৩ অক্টোবর পর্যন্ত এশিয়ান গেমসের পুরুষ ক্রিকেটের ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হবে। এখন বাংলাদেশের সামনে প্রথম লক্ষ্য কোয়ার্টার ফাইনাল পেরোনো; এরপরই পরিষ্কার হবে স্বর্ণপদকের পথে পরবর্তী প্রতিপক্ষ কে।