হ্যারি ব্রুকের বিদায়ের পর হঠাৎই ব্যাটিংয়ে ধস নামে ইংল্যান্ডের। তবে বল হাতে সেই ঘাটতি পুষিয়ে দেন উইল জ্যাকস। ব্যাট হাতে অপরাজিত ৪৬ রানের পর বল হাতে ২২ রানে ৫ উইকেট নিয়ে শ্রীলঙ্কার ব্যাটিং লাইনআপ গুঁড়িয়ে দেন তিনি। শেষ পর্যন্ত শ্রীলঙ্কাকে ৮৯ রানে হারিয়ে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল ইংল্যান্ড। চেস্টার-লে-স্ট্রিটে মঙ্গলবার টস জিতে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালোই করেছিল ইংল্যান্ড। একপর্যায়ে ৩১ ওভারে ৩ উইকেটে ১৮২ রান তুলে ফেলেছিল তারা। কিন্তু এরপরই দ্রুত উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে স্বাগতিকরা। ৩৯ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে স্কোর দাঁড়ায় ২১১ রানে। শেষ পর্যন্ত ৪৯.১ ওভারে ২৬৫ রানে অলআউট হয় ইংল্যান্ড। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৬৭ রান করেন ব্রুক। ৬৯ বলের ইনিংসে ছিল সাতটি চার। জো রুট করেন ৪৪ রান, খেলেন ৫২ বল। তবে ব্রুক আউট হওয়ার পরই ইংল্যান্ডের ইনিংসে বড় ধস নামে। অধিনায়ক জস বাটলার করেন ৩১ বলে ৩১ রান। রেহান আহমেদ ও জেমি ওভারটন দ্রুত ফিরে গেলে একপ্রান্ত আগলে রাখেন জ্যাকস। ৪৭ বলে ৪৬ রানের অপরাজিত ইনিংসে তিনি মারেন পাঁচটি চার।
ব্রুকের সঙ্গে জ্যাকসের এই প্রতিরোধের আগে রুট ও বেন ডাকেটের ব্যাটে ইংল্যান্ড ভালো শুরু পেয়েছিল। প্রথম পাওয়ারপ্লেতে ১ উইকেটে ৬৪ রান করে তারা। ডাকেট ৩২ রান করে আউট হন। এরপর রুটের সঙ্গে ব্রুকের জুটি ইংল্যান্ডকে বড় সংগ্রহের পথে এগিয়ে নেয়। তবে অভিষিক্ত লেগস্পিনার সচিন্দু কলম্বাগের বলে রুটের বিপক্ষে এলবিডব্লিউর আবেদন প্রথমে নাকচ হলেও রিভিউয়ে সিদ্ধান্ত বদলায়নি। পরে অবশ্য কলম্বাগের বলেই বোল্ড হন রুট। ৬৮ রানের জুটি গড়ার পর ফেরেন তিনি।
ব্রুক ৪৯ বলে ফিফটি পূর্ণ করেন। এরপর দুশমন্ত চামিরার বলে ডিপ ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি। হতাশায় মাঠেই নিজের প্রতিক্রিয়া জানান এই ব্যাটার। এরপর দ্রুত উইকেট হারিয়ে ইংল্যান্ডের ইনিংস ছোট হয়ে আসে। শ্রীলঙ্কার হয়ে অভিষিক্ত কলম্বাগে ৪৪ রানে ৩ উইকেট নেন। জবাবে ২৬৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতে ভালোই খেলছিল শ্রীলঙ্কা। কিন্তু নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে শেষ পর্যন্ত ৩৭ ওভারে ১৭৬ রানে অলআউট হয় তারা। দলের হয়ে কুশল মেন্ডিস করেন ৬০ বলে ৪২ রান। দুনিথ ওয়েল্লালাগে ৩৬ বলে ৪৫ রান করে ব্যবধান কিছুটা কমান।
শ্রীলঙ্কার ইনিংসে একসময় ৮৪ রানে ৩ উইকেট ছিল। তবে পাভান রত্নায়েকের বিদায়ের পর দ্রুত ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ হারায় সফরকারীরা। চরিথ আসালাঙ্কা ও কুশল মেন্ডিস—দুজনকেই সুইপ করতে গিয়ে জ্যাকসের বলে আউট হতে হয়। এরপর এক ওভারে চার বলের মধ্যে তিনটি উইকেট নিয়ে নিজের পাঁচ উইকেট পূর্ণ করেন জ্যাকস। ওয়ানডে ও লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে এটাই তার প্রথম পাঁচ উইকেট। ব্যাটে ৪৬ রানের পর বল হাতে ৭ ওভারে মাত্র ২২ রান দিয়ে ৫ উইকেট নিয়ে ইংল্যান্ডের জয়ে বড় অবদান রাখেন তিনি।
এই পারফরম্যান্সের মাধ্যমে ইংল্যান্ডের কোনো স্পিনারের এক ওয়ানডেতে দ্বিতীয় সেরা বোলিংয়ের নজিরও গড়েছেন জ্যাকস। ১৯৮৪ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়েলিংটনে ভিক মার্কসের ২০ রানে ৫ উইকেট এখনও সেরা। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ইংল্যান্ডের কোনো স্পিনারের পাঁচ উইকেট নেওয়ার ঘটনাও ভিক মার্কসের পর এই প্রথম।
একই ম্যাচে ৪০ বা তার বেশি রান এবং পাঁচ উইকেট নেওয়া ইংল্যান্ডের প্রথম ক্রিকেটারও নন জ্যাকস- ২০০৫ সালে বাংলাদেশের বিপক্ষে পল কলিংউডের পর এই কীর্তি গড়লেন তিনি। তিন ম্যাচের সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডে বৃহস্পতিবার হেডিংলিতে অনুষ্ঠিত হবে।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
ইংল্যান্ড: ৪৮.১ ওভারে ২৬৫ (ব্যান্টন ১০, ডাকেট ৩২, রুট ৪৪, ব্রুক ৬৭, বাটলার ৩১, জ্যাকস ৪৬*, রেহান ২, ওভারটন ৮, অ্যাটকিনসন ১৪, আর্চার ২, টাং ০; আসিথা ৯.১-০-৫৩-৩, মাদুশাঙ্কা ১০-০-৪৫-১, চামিরা ৯-০-৬১-১, ওয়েলালাগে ১০-০-৬০-১, কলম্বাগে ১০-০-৪৪-৩)
শ্রীলঙ্কা: ৩৭ ওভারে ১৭৬ (নিসাঙ্কা ২৭, কামিন্দু মেন্ডিস ১৪, কুসাল মেন্ডিস ৪২, রাত্নায়েকে ১৩, আসালাঙ্কা ১, লিয়ানাগে ৪, ওয়েলালাগে ৪৫, কলম্বাগে ১৪, চামিরা ৭*, আসিথা ০, মাদুশাঙ্কা ০; আর্চার ৬-১-৩৮-০, অ্যাটকিনসন ৭-০-২৫-১, টাং ৫-০-২৩-১, রেহান ৭-১-৪৬-১, ওভারটন ৫-০-২১-২, জ্যাকস ৭-০-২২-৫)
ফল: ইংল্যান্ড ৮৯ রানে জয়ী।
সিরিজ: ৩ ম্যাচের সিরিজে ইংল্যান্ড ১-০তে এগিয়ে।
ম্যান অব দা ম্যাচে: উইল জ্যাকস।