ঐতিহাসিক ফারাক্কা লংমার্চ দিবসের ৫০ বছর পূর্তি আগামীকাল
আগামীকাল ফারাক্কা লংমার্চ দিবস। এই দিন লংমার্চের ৫০ বছর পূর্তি বা সূবর্ণজয়ন্তী। ১৯৭৬ সালের এই দিন মজুলম জননেতা মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর নেতৃত্বে ভারত কর্তৃক ফারাক্কা বাঁধের মাধ্যমে একতরফা গঙ্গার পানি প্রত্যাহারের প্রতিবাদে রাজশাহী হতে ফারাক্কা অভিমূখে ঐতিহাসিক লংমার্চ অনুষ্ঠিত হয়। এটি বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক নদীর পানির নায্য হিস্যা আদায়ের প্রথম বড় ধরণের গণআন্দোলন। লংমার্চ শেষে শিবগঞ্জ উপজেলার কানসাট হাইস্কুল মাঠে বিশাল সমাবেশে ভাষণ দেন মজলুম জননেতা। সেই থেকে দিনটি ‘ফারক্কা দিবস’ হিসেবে পালিত হচ্ছে।
এদিকে এবছরের ডিসেম্বরে ১৯৯৬ সালে বাংলাদেশ-ভারত ফারাক্কার পানি বন্টনের ৩০ বছরের চুক্তি শেষ হবে।১৯৭৫ সালে জেলার সাড়ে ১৬ কিলোমিটার উত্তরে উজানে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মালদহ ও মুর্শিদাবাদ জেলায় ভারত ফারাক্কা বাঁধ চালু করে। ওই সাল থেকে পানি প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ শুরু করে ভারত। এর প্রভাবে চাঁপাইনবাবগঞ্জের পদ্মা, মহানন্দা, পূণর্ভবা ও পাগলা নদী পানিশূণ্য হতে থাকে। নদীগুলোর নাব্য সংকটে ভূগতে থাকে। ধুধু বালুচর হয় নদীগুলো। এমনকি ভাটির নদীগুলোতেও এর সূদুরপ্রসারী প্রভাব পড়ে। বহু জেলায় এর প্রভাব পড়তে শুরু করে। স্থানীয়রা বলছেন, নদীতে এখন পানিশ্রোত নির্ভর করে ভারতের মর্জিও উপর। বাঁধ নির্মণের দীর্ঘমেয়াদী প্রভাবের ফলে পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্থ হয়ে জেলার অন্য নদীগুলো শুকিয়ে গেছে। নাব্য সংকট দেখা দিয়েছে। এখন প্রয়োজনীয় পনি পেলেও তা ধরে রাখা যায় না। বাঁধের কারণে বন্যা ও নদীভাঙ্গণের প্রবণতাও বেড়েছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড নির্বাহী প্রকৌশলী এস.এম আহসান হাবীব বলেন, ফারাক্কা বাঁধের দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশে। ক্ষ মৌসুমে নদীতে যথেষ্ট পানি না পাওয়া আর বর্ষায় বেশী পানি আসার সমস্যা তো চলছে। তবে গত ১৩মে একনেকে পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণে অর্থ বরাদ্দদেও বিষয়টি তুলে ধরে প্রকৌশলী বলেন, ফারাক্কার প্রভাব মোকাবেলায় এটি হবে অত্যন্ত কার্যকর। ফারাক্কার সবচেয়ে নিকটের বাংলাদেশের শিবগঞ্জের পাঁকা ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মালেক বলেন, ভাসানী সাহেবের লংমার্চের দিনটির কথা মনে পড়ে। বহু লোক যোগ দিয়েছিলেন ওই আন্দোলনে। ফারাক্কা নির্মাণের আগে ও পরে পদ্মায় পানির তুলনা করে তিনি বলেন, বাঁধ নির্মাণের আগের তুলনায় এখন অর্ধেকও পানি নেই।
এ ব্যাপারে সরকার যদি দ্রত কোন কার্যকর উদ্যোগ না নেয় তবে ভবিষ্যতে বাংলাদেশ আরও চরম সমস্যায় পড়বে। চাঁপাইনবাবগঞ্জের পরিবেশবাদী স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘সেভ দ্য নেচার’ সমন্বয়কারী ডলার হাসান বলেন, ফারাক্কার কারণে হমুকির মুখে জেলার প্রাণ-প্রকৃতি। দেশি মাছ পাওয়া যায় না। মিঠা পানির ডলফিন (শুশুক নামে পরিচিত), ঘড়িয়াল প্রভৃতি জলজ প্রানী দেখা যাচ্ছে না। বহু জলজ উদ্ভিদ গুল্ম হারিয়ে গেছে। বাস্তু সংস্থান নষ্ট হয়েছে। পরিবেশের বিপর্যয় ঘটেছে। ফারক্কার ক্ষতি কমাতে প্রতিবছর ড্রেজিং এর উপর জোর দেন তিনি।