চাঁপাইনবাবগঞ্জ ২৫ লক্ষাধিক মানুষের জেলা হলেও জেলায় বিনোদনের সূযোগ নেই বললেই চলে। সুন্দর ও নির্মল বিনোদন এখন মানুষের মৌলিক চাহিদা হলেও জেলায় চালু নেই কোন সরকারি বা বেসরকারি বিনোদন কেন্দ্র বা পর্যটন স্পট। এ অবস্থায় চলতি শ্রাবণ মাসে বর্ষা মাথায় নিয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরে একসাথে শুরু হয়েছে তিনটি মেলা। গত ১৫ জুলাই থেকে জেলা প্রশাসক কার্যালয় চত্বরে শুরু হয়েছে মাসব্যাপী জাতীয় ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প মেলা। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের রথযাত্রার দিন থেকে পৌরসভার আয়োজনে পৌরপার্কে শুরু হয়েছে ৩ সপ্তাহের রথযাত্রা মেলা। এ ছাড়া পুলিশ সুপার কার্যালয়ের পাশে ২৬ জুলাই শুরু হয়েছে জেলা প্রশাসন এবং বন বিভাগের আয়োজনে ২ সপ্তাহের ‘বৃক্ষমেলা’। তিন মেলার মধ্যে সবার্ধিক আকর্ষনীয় হিসেবে গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে বৃক্ষমেলা। ২০টি ষ্টল ও প্যাভিলিয়ন এবং স্টলের সামনে সুন্দর করে সাজেয়ে রাখা গাছপালায় মেলার উপস্থাপনা দারুন। মেলায় রয়েছে চারাগাছ, বাগান করার বিভিন্ন গাছ, ক্যাকটাস, ছাদকৃষির গাছ,অর্কিড,বনসাই,সৌন্দর্য বর্ধণের বৃক্ষ, ইনডোর প্লান্ট,মধু সহ উদ্ভিদজাত পণ্য,ফুল ও ফলের গাছ সহ নানা প্রকার দূষ্প্রাপ্য বৃক্ষ। স্টল মালিকরা বলছেন, প্রতিদিন বিক্রি প্রায় লক্ষ টাকার। মেলা সফল হয়েছে। বৃক্ষের জন্য মানুষের যে এত প্রেম তা এ মেলায় না আসলে বোঝা যাবে না । বিক্রেতা মাহবুব হোসেন বলেন, সুন্দর হয়েছে আয়োজন। তাঁকে সমর্থণ করে বিক্রেতা ইয়াসিন আলী বলেন মেলা সফল। হরিমোহন সরকারি উৃচ্চ বিদ্যালয়ের ৯ম শ্রেণীর বৃক্ষপ্রেমিক হাসিবুল ইষলাম বলেন, তিনি প্রতিদিনই বিদ্যালয়ের ফাঁকে মেলায় আসেন। তিনি ব্যলকনির জন্য বিভিন্ন গাছও কিনেছেন।
এদিকে প্রায় ৩০টি স্টলের বহু পুরোনো রথের মেলায় আকর্ষণীয় হচ্ছে মিষ্টি,পাঁপড় সহ দেশী খাবার এবং কামারের দোকান। এই মেলার পরিধিী বাড়নো দরকার বলে জানান জেলা পুজা উদযাপন পরিষদ সভাপতি ডাবলু কুমার ঘোষ। বিক্রেতা অশোক কর্মকার বলেন, দা,বটি সহ লোহার সামগ্রীর বিক্রি ভাল। কাঠের ও মাটির গৃহস্থালি সামগ্রীর বিক্রিও ভাল।
ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প মেলার উদ্যোক্তা ঢাকার পারভিন ইসলাম বলেন, মেলায় ৩৫টি মত ষ্টল ও শিশুদের বিভিন্ন রাইডস রয়েছে। ক্রোকারিজ, কমমেটিকস, পোষাক, বুটিক, ফাষ্টফুড়ের ষ্টল রয়েছে। বেচাবিক্রি মোটামুটি। লোক সমাগম প্রচুর। মেলার পরিবেশ ভাল। আয়োজক মো.বাদশাহ মেলায় সন্তুষ্টি জানান।