চাঁপাইনবাবগঞ্জে ডেঙ্গুর প্রকোপ কমেনি। জেলার সরকারি হাসপাতালগুলোয় প্রায় ১০০ রোগী ভর্তি আছেন। ডেঙ্গু শুধু শহর নয়, বস্তি নয়, ছড়িয়ে পড়েছে গ্রামে-গঞ্জেও। এমন পরিস্থিতিতে ডেঙ্গু মশা নিধনসহ তার প্রজনন স্থান ধ্বংস করা জরুরি হয়ে পড়েছে। এমন অবস্থায় জেলা ও উপজেলা প্রশাসন, পৌরসভাগুলো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি জনসচেতনতা বাড়াতে মাইকিং, লিফলেট বিতরণ করা হচ্ছে।
শনিবার সকালে জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মো. মুসা জঙ্গী, জেলা প্রশাসনের স্থানীয় সরকার শাখার উপপরিচালক ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার প্রশাসক উজ্জ্বল কুমার ঘোষ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আনিসুর রহমানসহ জেলা প্রশাসন ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন। জেলা প্রশাসনের আওতাধীন ফুড অফিস মোড় সংলগ্ন এলাকায় এই কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। এসময় মশক নিধনে ফগার দিয়ে ধোঁয়া ও লাভাসাইট স্প্রে করা হয়।
অন্যদিকে জেলার শিবগঞ্জ উপজেলায় মশক নিধন দিবস-২০২৬ উপলক্ষে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানো হয়েছে। অভিযানে অংশগ্রহণ করে বৃক্ষ রোপণ করেন রাজশাহীর অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (উন্নয়ন) শাহানা আখতার জাহান ও স্থানীয় সরকার বিভাগের পরিচালক মোছা. তাছলিমা খাতুন। এসময় শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাজহারুল ইসলামসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।
অন্যদিকে ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধে চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুরে মশক নিধন ও বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। শনিবার সকাল ১০টায় রহনপুর পৌরসভার উদ্যোগে বড়বাজার এলাকায় এ অভিযান চারানো হয়। অভিযানে উপস্থিত ছিলেন রহনপুর পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) জিল্লুর রহমান। এ সময় পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন। অভিযানের অংশ হিসেবে ওই এলাকার বিভিন্নস্থানে ফগার মেশিন দিয়ে মশক নিধন করা হয়। পাশাপাশি মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল ধ্বংস, বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা পানি অপসারণ এবং পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। এছাড়া ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বাড়াতে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে লিফলেট বিতরণ করা হয়। মশার প্রজননস্থল যাতে তৈরি না হয়, সে জন্য বাড়িসহ দোকানপাটের আশপাশ ও বিভিন্ন স্থানে পানি জমতে না দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
পৌরসভা কর্তৃপক্ষ জানান, ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে এ ধরনের মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।