সকালের এক কাপ কফি অনেকের জন্যই দিন শুরুর অপরিহার্য সঙ্গী। কিন্তু আপনি কি জানেন, খাওয়ার পরপরই কফি পানের অভ্যাস শরীরে আয়রন শোষণে বাধা দিতে পারে? বিশেষ করে যারা উদ্ভিজ্জ খাবার থেকে আয়রন গ্রহণ করেন, তাদের জন্য এই বিষয়টি বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ডায়েটিশিয়ান মিস বীনা ভি-এর মতে, কফিতে থাকা ক্লোরোজেনিক অ্যাসিডসহ অন্যান্য পলিফেনল ‘নন-হিম’ আয়রন শোষণে বাধা দেয়। মূলত ডাল, শাকসবজি, বাদাম ও উদ্ভিজ্জ খাবারে এই নন-হিম আয়রন পাওয়া যায়। তবে মাংস বা প্রাণিজ খাবারে থাকা ‘হিম’ আয়রন শোষণে কফি তেমন কোনো প্রভাব ফেলে না। তার মানে কি কফি পান করলেই আয়রনের ঘাটতি বা অ্যানিমিয়া হবে? একেবারেই না। সুস্থ মানুষের ক্ষেত্রে পরিমিত কফি পানে এমন হওয়ার আশঙ্কা নেই। তবে যাদের শরীরে আগে থেকেই আয়রনের ঘাটতি আছে বা যারা পুরোপুরি উদ্ভিজ্জ খাবারের ওপর নির্ভরশীল, তাদের ক্ষেত্রে কফি পানের সময়টা বেশ গুরুত্বপূর্ণ।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হলো, আয়রন সাপ্লিমেন্ট বা আয়রন-সমৃদ্ধ খাবার খাওয়ার পরপরই কফি বা চা পান করা উচিত নয়। মাঝখানে কিছুটা বিরতি দিলে এই সমস্যা এড়ানো যায়। পাশাপাশি, উদ্ভিজ্জ আয়রনযুক্ত খাবারের সঙ্গে ভিটামিন সি-জাতীয় খাবার (যেমন: লেবু, টমেটো, পেয়ারা) খেলে আয়রন শোষণ বাড়ে। মনে রাখবেন, আয়রনের ঘাটতির পেছনে কেবল কফিই দায়ী নয়; অপর্যাপ্ত ডায়েট, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ বা অন্য শারীরিক সমস্যাও এর কারণ হতে পারে। তাই কফি ছাড়ার প্রয়োজন নেই, শুধু পানের সঠিক সময়টা বেছে নেওয়াই যথেষ্ট।