যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আশা করছেন, নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরই ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের অবসান ঘটবে। কারণ, তার মতে ইরান এখন অত্যন্ত মরিয়া। তবে তার শীর্ষ উপদেষ্টারা ব্যক্তিগতভাবে সতর্ক করে বলেছেন, এই সংঘাত ২০২৯ সালের জানুয়ারিতে ট্রাম্পের মেয়াদ শেষ হওয়া পর্যন্ত গড়াতে পারে।ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, জেডি ভ্যান্স ও মার্কো রুবিওর মতো শীর্ষ কর্মকর্তারা মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রের চাপ সামলে ইরান দীর্ঘস্থায়ী প্রতিরোধ চালিয়ে যেতে পারে। গত সাত মাস ধরে চলা এই যুদ্ধে ইতোমধ্যে ১৮ জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন। ট্রাম্প দ্রুত যুদ্ধ শেষের কথা বললেও, ইরানের পরমাণু কর্মসূচি ধ্বংস করতে তিনি মূলত ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’ নামের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক অবরোধ সমর্থন করছেন। ট্রাম্প দাবি করেছেন, হরমুজ প্রণালি এখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে এবং ইরানের অর্থনীতি পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে।
যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার আশঙ্কায় মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ মধ্যপ্রাচ্যে সেনা মোতায়েনের মেয়াদ ২০২৭ সাল পর্যন্ত বাড়াচ্ছেন। বর্তমানে সেখানে ৫০ হাজার সেনা, ১৯টি যুদ্ধজাহাজ এবং বিমান ও আকাশ প্রতিরক্ষা ইউনিট অবস্থান করছে। তাদের মোতায়েনের সময়সীমাও ৯ মাস থেকে বাড়িয়ে ১২ মাসের বেশি করা হয়েছে।
অন্যদিকে, ইরানও পিছিয়ে নেই। নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও রেভল্যুশনারি গার্ডের জেনারেল মোহাম্মদ রেজা নাকদি মার্কিন সম্প্রচারমাধ্যম পিবিএস-কে বলেন, আমেরিকার সঙ্গে কীভাবে লড়তে হয়, গত পাঁচ মাসে তারা সেই বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন। তিনি জানান, যেকোনো হামলার জন্য শত্রুকে যে চরম মূল্য চোকাতে হবে, সেই বার্তা দিতেই তারা পরবর্তী মার্কিন নির্বাচন পর্যন্ত এই যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করতে প্রস্তুত। উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের তৎকালীন ৮৬ বছর বয়সী সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনিসহ শীর্ষ কর্মকর্তারা নিহত হলে এই যুদ্ধের সূত্রপাত হয়। এর জবাবে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ও ইসরায়েলি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায় ইরান। সেই যুদ্ধ থেমে থেমে এখনও চলছে।