আন্তর্জাতিক বাজারে আজ স্বর্ণের দাম কিছুটা বেড়েছে, তবে কমেছে রুপার দাম। একই সঙ্গে ইরান যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানি খরচ বৃদ্ধি ও তার ফলে মার্কিন মুদ্রাস্ফীতির ঊর্ধ্বগতিও বাজারের ওপর প্রভাব ফেলছে। বিনিয়োগকারীরা বর্তমানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মধ্যকার উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের দিকে নজর রাখছেন। আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামে মিশ্র প্রবণতা দেখা গেছে। স্পট স্বর্ণের দাম ০.২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে প্রতি আউন্স চার হাজার ৬৯৬ দশমিক ৩৬ ডলারে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে, অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর বাজারে দরপতন লক্ষ্য করা গেছে। স্পট রুপার দাম ১ দশমিক ৩ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৮৬ দশমিক ৮৬ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া প্ল্যাটিনামের দাম ০.৯ শতাংশ ও প্যালাডিয়ামের দাম ১ দশমিক ৩ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। সুইসকোটের বিশ্লেষক কার্লো আলবার্তো ডি কাসা জানিয়েছেন, বাজার এখনো মার্কিন মুদ্রাস্ফীতির তথ্য বিশ্লেষণ করছে, যার ফলে স্বর্ণের দাম চার হাজার ৭০০ ডলারের কাছাকাছি অবস্থান করছে।
বুধবার (১৩ মে) প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এপ্রিলে যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদক মূল্য চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ বেড়েছে। এর আগে মঙ্গলবার (১২ মে) বার্ষিক ভোক্তা মুদ্রাস্ফীতিও তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ বৃদ্ধির রেকর্ড গড়ে। মুদ্রাস্ফীতি স্বর্ণের জন্য ইতিবাচক হলেও এর ফলে সুদের হার কমার সম্ভাবনা অনেকটা ক্ষীণ হয়ে এসেছে। জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির কারণে ব্যবসায়ীরা এ বছর মার্কিন সুদের হার কমানোর আশা প্রায় ছেড়ে দিয়েছেন। ফেডওয়াচ টুলের তথ্যমতে, ডিসেম্বরের মধ্যে সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা ২৯ শতাংশ দেখা দিচ্ছে। এদিকে মার্কিন সিনেট কেভিন ওয়ার্শকে ফেডারেল রিজার্ভের নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে অনুমোদন দিয়েছে। মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে গিয়ে ট্রাম্পের দাবীকৃত সুদের হার কমানোর বিষয়টি ফেড-এর জন্য এখন একটি বড় চ্যালেঞ্জ।
দুই দিনের শীর্ষ সম্মেলনের শুরুতে শি জিনপিং ট্রাম্পকে জানিয়েছেন, বাণিজ্য আলোচনায় অগ্রগতি হলেও তাইওয়ান ইস্যু সম্পর্কের ক্ষতি করতে পারে। অন্যদিকে, এইচএসবিসি ২০২৬ সালের জন্য রুপার দামের পূর্বাভাস প্রতি আউন্স ৭৫ ডলারে উন্নীত করেছে। তবে ব্যাংকটি মনে করছে, রুপা বর্তমানে অতিমূল্যায়িত অবস্থায় থাকায় এর দাম আরও বাড়ার সুযোগ সীমিত।