স্থানীয়
পর্যায়ে সহজ ও স্বল্পব্যয়ে বিরোধ
নিষ্পত্তির লক্ষ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জে গ্রাম আদালত বিষয়ক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ সকালে হর্টিকালচার
সেন্টারের সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে এবং বাংলাদেশে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ (তৃতীয় পর্যায়) প্রকল্পের সহযোগিতায় এ প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত
হয়। প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠানে স্থানীয়
সরকার শাখার উপপরিচালক উজ্জ্বল কুমার ঘোষের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন
জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মোঃ মুসা জঙ্গী। প্রশিক্ষণে স্বাগত বক্তব্য দেন, বাংলাদেশে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ (তৃতীয় পর্যায়) প্রকল্পের জেলা ম্যানেজার শফিকুল ইসলাম। আরো উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট
আজমাইন মাহতাব। এতে জেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের হিসাব সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর ও প্রশাসনিক কর্মকর্তারা
অংশ নেন।
প্রধান
অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক বলেন, "গ্রাম আদালত সাধারণ মানুষের ন্যায়বিচার প্রাপ্তির একটি কার্যকর মাধ্যম।" তিনি গ্রাম আদালতের এখতিয়ারভুক্ত মামলাগুলোর দ্রুত নিষ্পত্তি, সেবার পরিধি বৃদ্ধি এবং জনসচেতনতা তৈরির ওপর জোর দিয়ে বলেন মানুষ সমাজে বসবাস করতে গিয়ে সমাজের অপধাধ বিবাদ থাকবে আর এগুলোকে নিস্পত্তি
করার জন্য বিভিন্ন আদালত থাকবে। কিন্তু তৃনমূল পর্যায়ে ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে নিস্পত্তি সাধনের জন্য গ্ৰাম আদালত একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। ইউনিয়ন
পরিষদ শুধু গ্ৰাম আদালত এর কার্যক্রম করে
সীমাবদ্ধ থাকেনা বহুমুখী কাজ করতে হয় ইউনিয়ন পরিষদকে। গ্রাম
আদালত এখন বিরোধ নিস্পত্তি করতে গিয়ে দেওয়ানী ও ফৌজদারি মামলার
মাধ্যমে ৩ লাখ টাকা
পর্যন্ত জরিমানা করা যাচ্ছে। তিনি আরো বলেন, জেলা
শহরের আদালত গুলোতে ব্যাপকহারে মামলা রযেছে যেগুলো নিস্পত্তি হতে
বহু সময় লাগছে। বাদী
বিবাদীদের দীর্ঘ সময় ও খরচ লাগছে। অন্যক্ষেত্রে গ্ৰাম
আদালতে স্বল্প সময় লাগছে পাশাপাশি ব্যয়ভার ও অনেক কম।
জেলা প্রশাসক প্রশিক্ষণার্থীদের এ প্রশিক্ষণের জ্ঞান
কাজে লাগিয়ে সাধারণ মানুষের আইনি সেবা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান তিনি। প্রশিক্ষণ কর্মশালায় গ্রাম আদালতের কার্যক্রম পরিচালনা, মামলা ব্যবস্থাপনা, রেকর্ড সংরক্ষণ ও সেবা প্রদানের
বিভিন্ন দিক, মামলার গ্রহণযোগ্যতা, গ্রাম আদালত আইন-২০০৬, সংশোধিত আইন-২০২৪ এবং গ্রাম আদালত বিধিমালা-২০১৬ সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা দেওয়া হয়।