২০২৬
সালের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট নিয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ চেম্বার নিজস্ব মতামত ও পর্যবেক্ষণ উপস্থাপন
করেছে। আজ দুপুরে চেম্বার
ভবনে বাজেট বিষয়ে ব্যবসায়ী ও সাংবাদিকদের নিয়ে
মতবিনিময় সভায় বাজেটকে ব্যবসাবান্ধব, কর্মসংস্থান, বিনিয়োগ, উৎপাদন ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার
বাজেট হিসেবে উল্লেখ করা হয়। এব্যাপারে লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনান চেম্বার সভাপতি আব্দুল ওয়াহেদ। বাজেটে আমচাষীদের জন্য বরেন্দ্রাঞ্চলে বিশেষ হিমাগার স্থাপনের ঘোষণা দেয়ায় অর্থমন্ত্রীকে ধন্যবাদ দেয়া হয়। তবে চাঁপাইনবাবগঞ্জের প্রধান অর্থকরি ফসল আম সংরক্ষণে হিমাগার
স্থাপনে বহুদিনের
প্রতিশ্রুতি দ্রুত
বাস্তবায়নের দাবি জানানো হয়। এছাড়া উত্তরাঞ্চলের কৃষিকে গুরুত্ব দিয়ে বাজেটে ৩ হাজার কোটি
টাকার বিশেষ বরাদ্দ করায় অর্থমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জাননো হয়। ওই অর্থ কাজে
লাগিয়ে সদর উপজেলার আমনুরা এলাকায় কৃষি ভিত্তিক ইপিজেড নির্মাণের দাবিও জাননো হয়।
চেম্বার
সভাপতি বলেন,আমসহ কৃষিপন্য রপ্তানী বৃদ্ধির লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় প্যাকিং হাউজে স্থাপিত উদ্ভিদ সংগনিরোধ ল্যাবরেটরীকে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন করার ঘোষণা দিয়েছেন মন্ত্রী। রাজশাহী সহ সকল বিভাগে এমন
ল্যাবরেটরী স্থাপনের দাবি জানান সভাপতি। আম,পেয়ারা সহ
বিভিন্ন ফলে ব্যবহৃত ফ্রুট ব্যাগের কাঁচামাল আমদানীতে শুল্ক হ্রাস করায় স্থানীয় আম, পেয়ারাসহ ফলচাষীরা উপকৃত হবেন বলেও জানান সভাপতি।
আব্দুল
ওয়াহেদ দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ স্থলবন্দর এবং রহনপুর রেলবন্দর নিয়ে কথা বলেন। তিনি এসব স্থাপনার আমুল
উন্নয়ন দাবি করে বলেন, সোনামসজিদ বন্দর থেকে সরকার বছরে প্রায় ১ হাজার ২
শত কোটি টাকা রাজস্ব পায়। তবে অনেক পণ্য এ বন্দর দিয়ে
আমদানী বন্ধ থাকায় সরকারের সাথে সাথে ব্যবসায়ীরাও ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন। অবিলম্বে সকল পণ্য আমদানীর জন্য বন্দরকে উন্মুক্ত করে একে পূর্ণাঙ্গ রুপ দিতে হবে। রহনপুর রেল বন্দর দিয়ে নিয়মিত ভারতে থেকে ট্রেনে পণ্য আসে জানিয়ে তিনি বলেন, একে পূর্ণাঙ্গ বন্দর করা গেলে ভারতের সাথে সাথে নেপাল ও ভুটানের সাথে
কম খরচে চর্তূদেশীয় ব্যবসা করা সম্ভব হবে। দুই বন্দর ও ইিেপজড এর
মাধ্যমে নতুন লক্ষাধিক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।
বাজেটের
বেশিরভাগ প্রস্তাবকে সমর্থন করে ওয়াহেদ বরেলন, উৎসে করকে অগ্রিম কর হিসেবে ঘোষণা
ইতিবাচক। তবে অর্থনৈতিক ধীরগতির কারণে বিক্রয়ের উপর বিদ্যমান ন্যূণতম ( টার্নওভার) কর ১ শতাংশ
থেকে কমিয়ে ০.৫ শতাংশ
করা হলে ব্যবসায়ীদের কর
ভার কমত। বিশেষ করে খাদ্য, মুদি সহ কিছু ব্যবসায়ী মাত্র
২-৩ শতাংশ মূনাফায়
ব্যবসা করেন। টার্নওভার করের কারণে তাঁরা বিপদগ্রস্থ।
সভায়
চেম্বার সিনিয়র সহসভাপতি খাইরুল ইসলাম, পরিচালক আব্দুল আওয়ালসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।