আফ্রিকার পশ্চিমাঞ্চলে ভয়াবহ মাদক সংকট তৈরি করেছে ভারত থেকে যাওয়া অনুমোদনহীন ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট। সাধারণ ব্যথানাশকের মতো প্যাকেটজাত এসব ওষুধ এখন বিভিন্ন দেশে সহজেই পাওয়া যাচ্ছে, যা কুখ্যাত ‘জম্বি ড্রাগ’ কুশের সঙ্গে মিশে নতুন মাত্রার বিপদ তৈরি করছে। এএফপির অনুসন্ধানে জানা গেছে, বিশ্বের কোনো ওষুধ নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন না থাকলেও প্রতি মাসে কোটি কোটি ডলারের এই সিনথেটিক ওপিওয়েড পশ্চিম আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে প্রবেশ করছে। নাইজেরিয়া, সিয়েরা লিওন, ঘানাসহ একাধিক দেশে এটি ইতোমধ্যে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, কুশ নামের বিপজ্জনক মাদকের সঙ্গে ট্যাপেন্টাডল মেশানোয় এর প্রভাব আরও প্রাণঘাতী হচ্ছে। সিয়েরা লিওনের রাজধানী ফ্রিটাউনে গত তিন মাসে ৪০০টির বেশি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে, যা এই মাদক সংশ্লিষ্ট বলে ধারণা করা হচ্ছে। তদন্তে দেখা গেছে, কিছু চালানে এসব ওষুধকে ‘ক্ষতিহীন’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে বাস্তবে এগুলো উচ্চমাত্রার ওপিওয়েড, যা অনেক দেশে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। তবুও ভারতীয় কিছু কোম্পানি নিয়মিত এসব পণ্য রপ্তানি করে যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দরিদ্র শ্রমিকরা দীর্ঘ সময় কাজ চালিয়ে যেতে এই ওষুধ ব্যবহার করছে। মোটরসাইকেল চালক, খনি শ্রমিক, বাজারের কুলি—অনেকেই এটিকে শক্তি বাড়ানোর উপায় হিসেবে নিচ্ছেন। ফলে ধীরে ধীরে তারা আসক্ত হয়ে পড়ছেন। নাইজেরিয়ার মাদকবিরোধী সংস্থা জানিয়েছে, দেশটিতে গাঁজার পর সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত মাদক এখন ওপিওয়েড। শুধু দুই বছরেই তারা বিপুল পরিমাণ বড়ি জব্দ করেছে। এমনকি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সদস্যরাও এটি ব্যবহার করছে বলে অভিযোগ রয়েছে।এদিকে গবেষকদের মতে, ট্যাপেন্টাডল প্রায়ই ট্রামাডল হিসেবে বিক্রি করা হচ্ছে, অথচ এটি দুই থেকে তিন গুণ বেশি শক্তিশালী। ফলে ব্যবহারকারীরা না জেনেই মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়ছেন।
শিশুদের মধ্যেও এই মাদকের বিস্তার উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। সিয়েরা লিওনে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও এখন এটি ব্যবহার করছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা। অনেকেই বড়ি ভেঙে এনার্জি ড্রিংকের সঙ্গে মিশিয়ে খাচ্ছে। ভারত সরকার অবৈধ মাদক বাণিজ্যের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দিলেও বাস্তবে রপ্তানি পুরোপুরি বন্ধ হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দুর্বল নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা ও দায়মুক্তির সংস্কৃতির কারণে এই সংকট আরও জটিল হয়ে উঠছে।