শুক্রবার ২৮ আগস্ট ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৩ই ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ || ১৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
LIVE
Printed on: August 28, 2026
August 28, 2026
বিনোদন
বিনোদন

কাজী মারুফের ‘গ্রিন কার্ড’ দেখে কাঁদছেন দর্শক, কেন?

Published: August 28, 2026 at 01:06 PM
কাজী মারুফের ‘গ্রিন কার্ড’ দেখে কাঁদছেন দর্শক, কেন?


দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন অভিনেতা কাজী মারুফ। দেশটিতে থাকার সুবাদে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জীবনের নানা সংগ্রাম, স্বপ্ন ও বাস্তবতা খুব কাছ থেকে দেখেছেন তিনি। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই নির্মিত হয়েছিল সিনেমা ‘গ্রিন কার্ড’। প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির প্রায় দুই বছর পর এবার ইউটিউবে এসেছে সিনেমাটি। আর সেখানে সিনেমাটি দেখে আবেগাপ্লুত হচ্ছেন দর্শক।

কাজী হায়াৎ ও রওশন আরা নীপার যৌথ পরিচালনায় নির্মিত ‘গ্রিন কার্ড’ ২০২৪ সালের রোজার ঈদে বাংলাদেশের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায়। সে সময় ঈদে প্রায় ডজনখানেক সিনেমা মুক্তি পাওয়ায় খুব কমসংখ্যক প্রেক্ষাগৃহে জায়গা পেয়েছিল সিনেমাটি। ফলে অনেক দর্শক চাইলেও বড়পর্দায় এটি দেখার সুযোগ পাননি।

এবার সেই দর্শকদের জন্য ইউটিউবে এসেছে কাজী মারুফ অভিনীত সর্বশেষ মুক্তিপ্রাপ্ত সিনেমা ‘গ্রিন কার্ড’।

চ্যানেল আই টিভির ইউটিউব চ্যানেলে দেখা যাচ্ছে সিনেমাটি। প্রকাশের পর থেকেই দর্শকদের মধ্যে এটি নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। প্রতিবেদনটি লেখার সময় পর্যন্ত সিনেমাটি ৩ লাখ ২৫ হাজারের বেশি দর্শক দেখেছেন।

সিনেমাটি দেখে দর্শকদের বড় একটি অংশ আবেগাপ্লুত হওয়ার কথা জানিয়েছেন। প্রায় হাজারখানেক দর্শক ইউটিউবের মন্তব্যঘরে নিজেদের অনুভূতি প্রকাশ করেছেন। তাদের অনেকেই জানিয়েছেন, প্রবাসীদের জীবনসংগ্রামের গল্প তাদের কাঁদিয়েছে।

এমডি আলামিন নামে একজন দর্শক লিখেছেন, ‘গ্রিন কার্ড অসাধারণ লাগল। আমার চোখে পানি চলে আসছে।’

রেজাউল করিম লিখেছেন, ‘সত্যি কেঁদে দিয়েছি মুভিটা দেখে।’

ইতালিপ্রবাসী তোফায়েল চৌধুরীর মন্তব্যেও উঠে এসেছে প্রবাসজীবনের সঙ্গে সিনেমাটির গল্পের মিল। তিনি লিখেছেন, ‘এই মুভি সিনেমা হলে আরও ভালো চলা উচিত ছিল। এত সুন্দর বাস্তব গল্প নিয়ে বানানো এই মুভি। আমাদের মতো প্রবাসীদের জীবন এমনই।’

এমডি ইউসুফ নামে একজন লিখেছেন, ‘গ্রিন কার্ড দেখে আমার দুই চোখ দিয়ে অঝোরে পানি পড়েছে। খুব অসাধারণ মুভি। কঠিন মায়ার বন্ধন ছেড়ে চলে যেতেই হবে একদিন, অথচ দুনিয়ার মানুষদের কত অহংকার।’

সাইফুল নামে আরেক দর্শক লিখেছেন, ‘বাংলাদেশের মানুষের স্বপ্ন ইউরোপ, আমেরিকায় যাওয়া। সেই স্বপ্ন পূরণ করতে গিয়ে তারা নিজেকে তিলে তিলে শেষ করে দেয়। তারই প্রতিচ্ছবি এই মুভিতে তুলে ধরা হয়েছে।’

মূলত প্রবাসে পাড়ি জমানোর স্বপ্নের আড়ালে থাকা ত্যাগ, একাকীত্ব, সংগ্রাম ও বাস্তবতাই ‘গ্রিন কার্ড’র গল্পে তুলে ধরা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের সময় নিজের চোখে দেখা বিভিন্ন অভিজ্ঞতা থেকেই সিনেমাটির গল্প নির্মাণের অনুপ্রেরণা পেয়েছিলেন কাজী মারুফ।

সিনেমাটি মুক্তির আগে এক সাক্ষাৎকারে কাজী মারুফ বলেলেন, ‘আমার এই সিনেমা পুরোপুরিভাবে মানুষের কথা বলা হয়েছে। আমেরিকা থেকে যেটা আমি নিজ চোখে দেখেছি, সেই গল্প নিয়ে এ ছবি বানিয়েছি। যারা ওই জীবন দেখেছে, তারা একবাক্যে বলবে “গ্রিন কার্ড” বাস্তব ও জীবনের গল্পের ছবি।’


প্রেক্ষাগৃহে সীমিতসংখ্যক হলে মুক্তি পাওয়ায় যে দর্শকদের সিনেমাটি দেখা হয়নি, তারা এখন ইউটিউবের মাধ্যমে এটি দেখার সুযোগ পাচ্ছেন। আর সিনেমার গল্পে প্রবাসীদের পরিচিত জীবনসংগ্রামের প্রতিচ্ছবি খুঁজে পেয়ে অনেকেই আবেগাপ্লুত হচ্ছেন।

প্রবাসজীবনের বাস্তব গল্পকে কেন্দ্র করে নির্মিত ‘গ্রিন কার্ড’ তাই মুক্তির দুই বছর পর নতুন করে দর্শকদের কাছে আলোচনায় এসেছে। বিশেষ করে সিনেমাটি দেখে দর্শকদের কান্না ও আবেগঘন মন্তব্যই জানান দিচ্ছে, গল্পটি তাদের মনে কতটা দাগ কেটেছে।