দাপুটে অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরীর অভিনয় ক্যারিয়ার নিয়ে ভক্ত-অনুরাগীরা বিস্তর তথ্য জানলেও তার ব্যক্তিগত জীবন বেশ আড়ালে। ব্যক্তিগত জীবনে শান্তা চৌধুরীর সঙ্গে ঘর বেঁধেছেন। তার স্ত্রী শোবিজ অঙ্গনের কেউ নন, পেশায় একজন চিকিৎসক। এ দম্পতির একটি পুত্রসন্তানও রয়েছে।
চঞ্চল চৌধুরী দাম্পত্য জীবনের বিশ বছর পূর্ণ করলেন। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) ছিল তাদের বিবাহবার্ষিকী। এদিন স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে কেক কাটেন। তারই একটি ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে, প্রেম-বিয়ে-সংসার জীবন নিয়েও কথা বলেছেন ‘মনপুরা’খ্যাত এই তারকা।
স্ত্রীর সঙ্গে পরিচয়ের ঘটনা জানিয়ে চঞ্চল চৌধুরী বলেন, “বাটন ফোনের যুগে গভীর রাতে হঠাৎ একটা মেয়ে ফোন করে বলল, ‘আপনার অভিনয় আমার ভাল্লাগে।’ যদিও সে বলেনি, তবে আমার মনে হয়েছিল, শুধু অভিনয় নয়, আমাকেও তার ভাল্লাগে। ওই বিশ্বাস নিয়েই মনে হয় মোবাইল ফোনে মাস খানেক কথাবার্তা। তারপর সামনাসামনি দেখা না করেই ফোনে কথা দেয়া যে, সে রাজি থাকলে আমরা বিয়ে করতে পারি!”
চঞ্চলের বিয়ে করার সিদ্ধান্তে ভীষণ খুশি হয়েছিল তার পরিবার। স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, “আমার বয়স বেড়ে যাচ্ছিল হু হু করে। বাবা-মা, ভাইবোন সবার কাছেই পুত্র দায়গ্রস্ত হয়ে উঠেছিলাম। আমার বিয়ে করার সিদ্ধান্তে আমার পুরো পরিবার আনন্দে লাফাচ্ছিল। মেয়ের পরিবারের কয়েকজন ঘোর অরাজি, কয়েকজন নিম রাজি। শেষমেশ নিজেদের সিদ্ধান্তেই দুই দফায় বিয়ে করে ফেললাম। প্রথম দফায় কাগজপত্রে আইনি উপায়ে, দ্বিতীয় দফায় ধর্মীয় অনুশাসন মেনে।”
চঞ্চল তার সংসার টিকে থাকার কারণ হিসেবে পুত্র শুদ্ধর কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, “হাজার অভিযোগ মাথায় নিয়ে গতকাল আমাদের বিয়ের বিশ বছর পার হলো। কখনো ভাবিইনি যে, আমার মতো বাউণ্ডুলের সাথে ভদ্রমহিলা এতদিন সংসার করবে। টিকে থাকার প্রধান কারণ আমাদের মাঝখানে আমাদের একমাত্র সন্তান—‘শুদ্ধ’।”
স্ত্রী ও সন্তানের জন্য দোয়া চেয়ে চঞ্চল চৌধুরী বলেন, “কখনই আমার খুব বেশি দাবি বা চাওয়া কারো কাছেই ছিল না। তবে আজকের দাবি আপনাদের কাছে। আমার জন্য কম প্রার্থনা করলেও, আমার বউ-ছেলের জন্য সবাই দোয়া/প্রার্থনা করবেন। সৃষ্টিকর্তার আশীর্বাদে আমরা ভালো আছি। আপনারাও সবাই বাবা-মা, ভাইবোন, স্বামী-স্ত্রী-সন্তান নিয়ে ভালো থাকবেন।”
খানিকটা নাটকীয়ভাবে স্ত্রীকে পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন চঞ্চল চৌধুরী। তিনি বলেন, “ওহ! পরিচয় করিয়ে দিই। ওই মেয়ে/ ভদ্রমহিলার নাম ডা. শান্তা…। আমি ভালোবাসি আমার ঘর, ভালোবাসি আমার দেশ।”