রবিবার ০৯ আগস্ট ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ২৫শে শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ || ২৪ সফর ১৪৪৮ হিজরি
LIVE
Printed on: August 09, 2026
August 09, 2026
আন্তর্জাতিক
আন্তর্জাতিক

চীনে আঘাত হানতে যাচ্ছে টাইফুন ‘ডলফিন’ সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি

Published: August 09, 2026 at 12:25 PM
চীনে আঘাত হানতে যাচ্ছে টাইফুন ‘ডলফিন’ সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি

চীনের পূর্বাঞ্চলীয় উপকূলে আঘাত হানতে যাচ্ছে শক্তিশালী টাইফুন ‘ডলফিন’। রবিবার (৯ আগস্ট) রাত থেকে উপকূলবর্তী এলাকাগুলোতে ঝড়টি তাণ্ডব শুরু করতে পারে- এমন আশঙ্কায় পুরো এলাকায় সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেছে দেশটির সরকার। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইতিমধ্যেই ১ হাজার ৬০০টিরও বেশি অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে এবং প্রায় ৫ লাখ বাসিন্দাকে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। রবিবার সকালে চীনের জাতীয় আবহাওয়া কেন্দ্র (এনএসসি) পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনায় তাদের সবচেয়ে বিপজ্জনক সতর্কবার্তা ‘রেড অ্যালার্ট’ জারি করেছে। ঘনবসতিপূর্ণ পূর্বাঞ্চলীয় উপকূলীয় এলাকায় প্রবল ঝড়ো হাওয়ার পাশাপাশি ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। ফলে নিচু এলাকা আকস্মিক বন্যা ও পাহাড়ি অঞ্চলে ভূমিধসের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। ঝড়ের আগাম প্রভাব পড়েছে দেশটির গুরুত্বপূর্ণ যাতায়াত ব্যবস্থায়। চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সিসিটিভি জানিয়েছে, কেবল সাংহাইয়ের হংছিয়াও ও পুডং বিমানবন্দর থেকেই রবিবার প্রায় ১ হাজার ৪০০টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। এছাড়া প্রতিবেশী চচিয়াং প্রদেশের হাংচৌ বিমানবন্দরে আরো ২৭০টি আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট বাতিল করেছে বিমান সংস্থাগুলো। ঝুুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নিতে বড় ধরনের উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে স্থানীয় প্রশাসন। চচিয়াং প্রদেশের থাইচৌ শহর থেকেই প্রায় ৩ লাখ ৯০ হাজার মানুষকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সাংহাইয়ের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো থেকে সরানো হয়েছে আরো ৩০ হাজার মানুষকে। রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়া জানিয়েছে, ফুচিয়েন প্রদেশেও প্রায় ৯৯ হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে স্থানান্তর করা হয়েছে। দূর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে চচিয়াং ও ফুচিয়েন প্রদেশের ২০০টিরও বেশি ফেরি রুট সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, চচিয়াং প্রদেশের মধ্যাঞ্চল ও পূর্বাঞ্চলে প্রায় ২৫০ থেকে ৫০০ মিলিমিটার পর্যন্ত অতি ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। এছাড়া সোমবার পর্যন্ত সাংহাই, ফুচিয়েন, চিয়াংশি, আনহুই এবং চিয়াংসু প্রদেশের বিভিন্ন অংশে মুষলধারে বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এনএমসি’র তথ্যমতে, টাইফুনটি ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১৬২ কিলোমিটার (১০১ মাইল) বেগে উপকূল অতিক্রম করতে পারে। উপকূলে তাণ্ডব চালানোর পর এটি ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে মূল ভূখণ্ডের ভেতরের দিকে অগ্রসর হবে। চীনের মূল ভূখণ্ডে আঘাত হানার আগেই টাইফুন ‘ডলফিন’-এর প্রভাব পড়েছে প্রতিবেশী অঞ্চলে। উত্তর তাইওয়ানে শনিবার ৮ আগস্ট থেকেই প্রচণ্ড বাতাস ও মুষলধারে বৃষ্টি শুরু হয়, যার ফলে সেখানে ডজনখানেক ফেরি বন্ধ এবং ১৮০টিরও বেশি ফ্লাইট বাতিল করতে বাধ্য কর্তৃপক্ষ। এর আগে, সপ্তাহান্তে জাপানের দক্ষিণাঞ্চলীয় ওকিনাওয়া দ্বীপপুঞ্জে তাণ্ডব চালায় ঝড়টি। ওকিনাওয়া ইলেকট্রিক পাওয়ার কোম্পানি জানিয়েছে, ঝড়ের আঘাতে সেখানে সাতজন আহত হয়েছেন এবং রবিবার পর্যন্ত অন্তত ৫ হাজার ২৯০টি পরিবার বিদ্যুহীন অবস্থায় রয়েছে।

তথ্যসূত্র: আল-জাজিরা