চাঁপাইনবাবগঞ্জের ফিলিং ষ্টেশনগুলোতে আবারও শুরু হয়েছে তেল সংকট| গত ২১ জুলাই রাত সাড়ে ১০টার দিকে তেল সংকটের গুঞ্জনে ফিলিং ষ্টেশনগুলোতে ল¤^া লাইন ধরতে শুরু করেন বাইকার ও অনান্য গাড়ীর চালকরা| আজ পর্যন্ত জেলার পাম্পগুলোতে এ অবস্থা অব্যহত রয়েছে| যখন যে পাম্প তেল দিচ্ছে তখন সে পাম্পে দেখা যাচ্ছে বাইকারদের ল¤^া লাইন| গতকাল থেকে অনেক পাম্পে রেশনিং করে ২০০ থেকে সর্বোচ্চ ৫০০ টাকার পর্যন্ত তেল দেয়া হচ্ছে| তবে দিনের বেশিরভাগ সময়ই প্রতিটি পাম্প কোন নোটিস ছাড়াই বন্ধ থাকছে| পাম্প কর্তৃপক্ষ বাইকারদের জানাচ্ছেন, তেল শেষ - আসলে আবার দেয়া হবে|
এদিকে ৩ দিন ধরে চলা এ সংকটের জন্য পাম্প মালিকরা দূষছেন মূলত: বাইকারদের| তারা বলছেন, তেল সরবরাহের ঘাটতি নেই| নিয়মিত যে তেল ডিপো সরবরাহ করত সেই পরিমান সরবরাহ অব্যহত রয়েছে| কিন্তু চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি সামলানো যাচ্ছে না| তারা বলছেন, গত মঙ্গলবার রাতে গুজবে বাইকাররা পাম্পগুলোতে ভীড় করা শুরু করেন| ফলে অল্প সময়ে শেষ হয়ে যায় পাম্পের মজুদ| মালিকরা এই সংকটকে কৃত্রিম বলছেন| বাইকাররা অতিরিক্ত তেল নেয়ায় এই কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি হয়েছে বলেও জানান তাঁরা| ডিপো থেকে তো আর অতিরিক্ত তেল সরবরাহ করা হচ্ছে না এমনটাই জানাচ্ছেন পাম্প কর্তৃপক্ষ|
জেলা শহরের এমদাদ পাম্পের মালিক সুমন বলেন, যে বাইকার ১০০ টাকার তেল নিতেন তিনি এসে চাচ্ছেন ১ হাজার টাকার তেল| যিনি ৩০০ টাকার নিতেন তিনি নিচ্ছেন দেড় হাজার টাকার তেল| যিনি ৫০০ টাকার নিতেন তিনি ফুল ট্যাংক চাচ্ছেন| এভাবেই সংকটের শুরু| এভাবেই সৃষ্টি হচ্ছে কৃত্রিম সংকট| ডিজেল নিয়ে এখনও সংকট শুরু না হলেও সেই সংকটও হতে পারে এমন আাভাষ দেখা যাচ্ছে বলে জানান এই ব্যবসায়ী|
ইসলাম পাম্পের মালিক এবং পাম্প মালিক সমিতির সাবেক সহসভাপতি মো.ভিখু আলী বলেন, পাম্পে তেল নিয়ে অনাকঙ্খিত ঘটনা ঘটতে শুরু করেছে| সৃষ্টি হচ্ছে ভুল বোঝাবুঝি| প্রশাসনেরও বিভিন্নমুখী চাপ মোকাবেলা করতে হচ্ছে| ফলে ব্যবসা করা বিরক্তিকর হয়ে দাঁড়িয়েছে| তেল বিক্রি ব্যবস্থাপনা করাই এখন চ্যালেঞ্জ| আজ অভিযোগ করেন, গতকাল রাতে ও আজ সকালে শহরের ৬টি পাম্প ঘুরে কোন পাম্পেই তিনি তেল পাননি| কিছুটা আতংকিত হয়ে তেল সংগ্রহ এবং সংগ্রহের চেষ্টা করতে দেখা যায় তাকে|
এ অবস্থায় জেলা প্রশাসনের অফিসিয়াল ফেসবুক পোষ্টে জেলায় জ্বালানি তেলের সংকট নাই ও সরবরাহ সম্পূর্ণ স্বাভাবিক বলে জানানো হয়েছে| তেলের সরবরাহ নিয়ে কোন অপপ্রচার বা গুজবে বিভ্রান্ত না হবার আহব্বান জানানো হয়েছে| প্রয়োজনের অতিরিক্ত তেল না নেবার জন্য বলা হয়েছে| পরিস্থিতি নজরদারি করা হচ্ছে বলেও জানানো হয়েছে| কেউ যদি পরিস্থতির অবনতি, কৃত্রিম সংকট, মূল্য বৃদ্ধি বা মজুদদারি চেষ্টা করে তবে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের কথাও বলছেন জেলা প্রশাসন| উল্লেখ্য জেলার ৫ উপজেলায় ৩৩টি পাম্প রয়েছে|