বিশ্বকাপ মানেই বাড়তি উত্তাপ। যার প্রভাব গত এক মাসেরও বেশি সময় ধরে দেখা গেছে গোটা ফুটবল দুনিয়ায়। তবে তুমুল উন্মাদনা ও রোমাঞ্চ নিয়ে আসা ফিফা ২০২৬ বিশ্বকাপ এখন শেষের পথে। আসরের মহারণ ফাইনাল আর তৃতীয় স্থান নির্ধারণী মিলিয়ে কেবল দুটি ম্যাচ বাকি। ফলে বিশ্বকাপ আসরের সেরা খেলোয়াড় কারা হচ্ছেন এবং ব্যক্তিগত পুরস্কারের দৌড়ে কারা এগিয়ে আছেন সেই হিসাব-নিকাশ চলছে। আগামী রোববার নিউজার্সিতে বিশ্বকাপ ফাইনালে লড়বে আর্জেন্টিনা-স্পেন। যেখানে বিশ্বসেরা নির্বাচনের পাশাপাশি ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের বিচারে ছয়টি বড় পুরস্কারও তুলে দেবে ফিফা। এর মধ্যে শীর্ষ তিন পুরস্কার গোল্ডেন বুট, গোল্ডেন বল ও গোল্ডেন গ্লাভস। যথাক্রমে আসরের সর্বোচ্চ গোলদাতা, সেরা খেলোয়াড় ও সেরা গোলরক্ষকের হাতে উঠবে এসব মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার।
গোল্ডেন বুট
বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলদাতাকে দেওয়া হয় ফিফা গোল্ডেন বুট। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে আট গোল করে এই পুরস্কার জিতেছিলেন ফ্রান্সের অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপে। টুর্নামেন্ট শেষে একাধিক খেলোয়াড়ের গোলসংখ্যা সমান হলে প্রথমে দেখা হবে অ্যাসিস্ট সংখ্যায় কে এগিয়ে। সেখানেও সমতা থাকলে কম সময় মাঠে থেকে গোল ও অ্যাসিস্ট করা খেলোয়াড়ই জিতবেন গোল্ডেন বুট।
২০২৬ বিশ্বকাপে গোল্ডেন বুটের দাবিদার যারা
বর্তমানে গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে মুখোমুখি মেসি ও এমবাপ্পে। দুই অধিনায়কেরই গোল সমান ৮টি করে, তবে অ্যাসিস্টে এগিয়ে মেসি (৪), এমবাপের অ্যাসিস্ট ৩টি। দুজনের সামনেই একটি করে ম্যাচ বাকি। কারণ ফ্রান্স তৃতীয় স্থান নির্ধারণী এবং আর্জেন্টিনা ফাইনাল খেলবে।
এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ গোলদাতা
লিওনেল মেসি (আর্জেন্টিনা) — ৮ গোল, ৪ অ্যাসিস্ট
কিলিয়ান এমবাপ্পে (ফ্রান্স) — ৮ গোল, ৩ অ্যাসিস্ট
হ্যারি কেইন (ইংল্যান্ড) — ৬ গোল, ১ অ্যাসিস্ট
জুড বেলিংহ্যাম (ইংল্যান্ড) — ৬ গোল, ১ অ্যাসিস্ট
উসমান দেম্বেলে (ফ্রান্স) — ৬ গোল, ২ অ্যাসিস্ট
মিকেল ওয়ারজাবাল (স্পেন) — ৫ গোল, ১ অ্যাসিস্ট
গোল্ডেন বল
আর্জেন্টিনাকে দীর্ঘ সাড়ে তিন দশকের বিশ্বকাপ জেতানোর পাশাপাশি টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় হিসেবে কাতারে গোল্ডেন বল জিতেছিলেন মেসি। ফিফার টেকনিক্যাল স্টাডি গ্রুপ প্রার্থীদের সংক্ষিপ্ত তালিকা তৈরি করে এবং টুর্নামেন্ট কভার করা স্বীকৃতিপ্রাপ্ত সংবাদমাধ্যমের ভোটে আসরের সেরা ফুটবলার নির্বাচিত করে। দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অর্জনকারীরা পান যথাক্রমে সিলভার বল ও ব্রোঞ্জ বল।১৯৭৮ সালে চালু হওয়া এই পুরস্কার অনেক সময় এমন খেলোয়াড়ও জিতেছেন, যাদের দল বিশ্বকাপ জিততে পারেনি। যেমন– জিনেদিন জিদান (২০০৬), লিওনেল মেসি (২০১৪ ও ২০২২) এবং লুকা মদ্রিচ (২০১৮)। কারণ, ফাইনাল শুরুর আগেই ভোটগ্রহণ শেষ হয়ে যায়। এখন পর্যন্ত একমাত্র গোলরক্ষক হিসেবে ২০০২ সালে গোল্ডেন বল জিতেছিলেন অলিভার কান। মেসিই একমাত্র ফুটবলার, যিনি দুইবার গোল্ডেন বল জিতেছেন। ৩৯ বছর বয়সী মেসি এবারও সম্ভাব্য বিজয়ীদের তালিকায় শীর্ষে। তার সঙ্গে রয়েছেন কিলিয়ান এমবাপে ও স্বদেশি সতীর্থ মাইকেল অলিসে। এ ছাড়া সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে আছেন ইংল্যান্ডের হ্যারি কেইন ও জুড বেলিংহ্যাম, নরওয়ের আর্লিং হালান্ড এবং কেপ ভার্দের গোলরক্ষক ভোজিনহা।
গোল্ডেন গ্লাভস
বিশ্বকাপজয়ী আর্জেন্টাইন গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজ গতবার এই পুরস্কার জিতেছিলেন। বিশ্বকাপের সেরা গোলরক্ষক নির্বাচনে আসরজুড়ে গোলরক্ষকের প্রভাব, গুরুত্বপূর্ণ সেভ এবং ক্লিন শিটের সংখ্যার বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হয়। ১৯৯৪ সালে চালু হওয়া এই পুরস্কার ২০১০ সাল পর্যন্ত লেভ ইয়াশিন অ্যাওয়ার্ড নামে পরিচিত ছিল। গত পাঁচ আসরের চারজন বিজয়ীই পরে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দলের সদস্য ছিলেন। এবারের বিশ্বকাপে গোলরক্ষকদের পারফরম্যান্স ছিল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। বিশেষ করে কেপ ভার্দের ভোজিনহা দুর্দান্ত সেভ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছেন। তাকে নিয়ে ইন্টার মায়ামির আগ্রহের খবরও প্রকাশিত হয়েছে। এ ছাড়া নজরকাড়া পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন উরুগুয়ের অরল্যান্ডো গিল, পর্তুগালের দিয়োগো কস্তা, সুইজারল্যান্ডের গ্রেগর কোবেল, মরক্কোর ইয়াসিন বুনো এবং মিশরের মোস্তফা শোবেইর।