শনিবার ২০ জুন ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ৬ই আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ || ৪ মহররম ১৪৪৮ হিজরি
LIVE
Printed on: June 20, 2026
June 20, 2026
খেলাধুলা
খেলাধুলা

১০ জনের প্যারাগুয়ের কাছেও হার, ২ ম্যাচেই বিদায় তুরস্কের

Published: June 20, 2026 at 08:54 AM
১০ জনের প্যারাগুয়ের কাছেও হার, ২ ম্যাচেই বিদায় তুরস্কের

বিশ্বকাপের আগে গ্রুপ ডি’র অন্যতম ফেভারিট হিসেবে বিবেচিত হচ্ছিল তুরস্ক। কিন্তু মাঠের পারফরম্যান্সে সেই প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটাতে ব্যর্থ হয়ে মাত্র দুই ম্যাচ খেলেই বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিতে হলো ইউরোপের দলটিকে। ১০ জনের প্যারাগুয়ের বিপক্ষে দীর্ঘ সময় সুবিধা পেয়েও গোলের দেখা না পাওয়ায় ১-০ ব্যবধানে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে গেছে তারা। সান ফ্রান্সিসকো বে এরিয়া স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে শুরু থেকেই তুরস্ককে চমকে দেয় প্যারাগুয়ে। ম্যাচের মাত্র ৬৫ সেকেন্ডে মাতিয়াস গালারজার গোলে এগিয়ে যায় দক্ষিণ আমেরিকার দলটি। তুরস্কের রক্ষণভাগের ভুলের সুযোগ নিয়ে দূরপাল্লার নিচু শটে জাল খুঁজে নেন তিনি। ওই গোলটি চলতি বিশ্বকাপের দ্রুততম গোল হিসেবে রেকর্ড গড়ে এবং ১৯৯৮ সালের পর বিশ্বকাপে কোনো দক্ষিণ আমেরিকান দলের সবচেয়ে দ্রুত গোল হিসেবেও ইতিহাসে জায়গা করে নেয়। গোল হজমের পর থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেওয়ার চেষ্টা করে তুরস্ক। আর্দা গুলার, হাকান চালহানওগ্লু এবং কেনান ইলদিজদের নেতৃত্বে একের পর এক আক্রমণ চালায় তারা। প্রথমার্ধের বড় একটি সময় বলের দখল ছিল তুরস্কের কাছেই। তবে আধিপত্য দেখালেও প্যারাগুয়ের রক্ষণভাগ ছিল সুশৃঙ্খল ও দৃঢ়। প্রথমার্ধের ৩৫তম মিনিটে সমতায় ফেরার সেরা সুযোগ তৈরি করেছিল তুরস্ক। চালহানওগ্লুর নেওয়া ফ্রি-কিক থেকে মের্ত মুলদুরের হেড ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। ভাগ্য সহায় হলে তখনই ম্যাচে সমতা ফিরতে পারত তুর্কিরা। কিন্তু সুযোগ হাতছাড়া হওয়ায় হতাশাই বাড়ে তাদের। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে ম্যাচে বড় নাটকীয়তা তৈরি হয়। ভিএআর পর্যালোচনার পর প্যারাগুয়ের অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার মিগেল আলমিরনকে সরাসরি লাল কার্ড দেখান রেফারি। মের্ত মুলদুরকে উদ্দেশ্য করে আপত্তিকর মন্তব্য করার অভিযোগে মাঠ ছাড়তে হয় তাকে। ফলে পুরো দ্বিতীয়ার্ধ ১০ জন নিয়ে খেলতে বাধ্য হয় প্যারাগুয়ে। সুবিধা পাওয়ার পর অনেকেই ধারণা করেছিলেন, দ্বিতীয়ার্ধে তুরস্ক ম্যাচে ফিরে আসবে। কিন্তু বাস্তবতা ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। ১০ জনের দল নিয়েও প্যারাগুয়ে অসাধারণ শৃঙ্খলা ও লড়াকু মানসিকতার পরিচয় দেয়। অন্যদিকে তুরস্ক বল দখলে এগিয়ে থাকলেও গোলের জন্য প্রয়োজনীয় ফিনিশিংয়ের অভাবে ভুগতে থাকে।

ম্যাচের শেষ দিকে আক্রমণের তীব্রতা বাড়ায় তুরস্ক। যোগ করা সময়ে আর্দা গুলারের ক্রস থেকে তৈরি হওয়া সুযোগে অধিনায়ক হাকান চালহানওগ্লু বক্সের বাইরে থেকে জোরালো শট নিলেও তা পোস্টের বাইরে চলে যায়। এরপর আর কোনো সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি তারা।

শেষ বাঁশি বাজতেই ১-০ গোলের মূল্যবান জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে প্যারাগুয়ে। ১০ জন নিয়ে প্রায় পুরো দ্বিতীয়ার্ধ খেলেও লিড ধরে রাখার কৃতিত্ব দেখিয়েছে দক্ষিণ আমেরিকার দলটি। এই জয়ে তাদের নকআউট পর্বে ওঠার আশা টিকে থাকলো। অন্যদিকে গ্রুপের অন্যতম শক্তিশালী দল হিসেবে বিবেচিত তুরস্ক মাত্র দুই ম্যাচের পরই বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিলো।