দ্বিতীয় ম্যাচে ৭ রানে হার টি–টুয়েন্টি সিরিজ হারল বাংলাদেশ
প্রথম টি-টোয়েন্টির পর দ্বিতীয় ম্যাচ হেরেও বাংলাদেশ খুইয়েছে সিরিজ। অস্ট্রেলিয়া আগে ব্যাটিংয়ে নেমে ৫ উইকেটে ১৯৬ রান করে। বাংলাদেশ তীব্র লড়াই করার পরও ৬ উইকেটে ১৮৯ রানের বেশি করতে পারেনি। ৭ রানের জয়ে এক ম্যাচ হাতে রেখে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে অস্ট্রেলিয়া নিশ্চিত করেছে সিরিজ। ২০২১ সালের সফরে ৪-১ ব্যবধানে সিরিজ হেরেছিল অস্ট্রেলিয়া। এবার এক ম্যাচ বাকি থাকতেই সিরিজ জিতে নিল তারা, এগিয়ে গেল ২-০ ব্যবধানে। চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে আগে ব্যাটিং করতে নেমে বাংলাদেশের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টিতে সর্বোচ্চ দলীয় রান পায় অস্ট্রেলিয়া। এর আগে অস্ট্রেলিয়ার সর্বোচ্চ রান ছিল ৩ উইকেটে ১৫৮। বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের শুরুটা ছিল দারুণ। দুই ওপেনার তানজিদ ও সাইফ ঝড়ো শুরু করেন। পাওয়ার প্লে’তে বাংলাদেশ ৭২ রান পায়। হারায় ১ উইকেট। তানজিদ ৪ চার ও ১ ছক্কায় ১৫ বলে ৩০ রান করে আউট হন। সাইফ এক প্রান্ত আগলে রানের চাকা অব্যাহত রাখেন। তিনে নেমে সৌম্য ৩ চারে আত্মবিশ্বাসী শুরু করলেও ১৫ রানের বেশি করতে পারেনি। তৃতীয় উইকেটে পারভেজ হোসেন ইমন ও সাইফ যেভাবে ব্যাটিং করছিলেন মনে হচ্ছিল এই জুটিতেই বাংলাদেশ জয়ের বন্দরে পৌঁছে যাবে। ৩৬ বলে ৫৩ রানের জুটি গড়েন তারা। ইমন ক্রিজে গিয়েই আগ্রাসী মনোভাবে ব্যাটিং করেন। নবম ওভারে জাম্পাকে পরপর দুই বলে দুই ছক্কা হাঁকান। এরপর ডেভিসকেও বিশাল ছক্কা উড়ান লং অফ দিয়ে।
দর্শকরাও বড় কিছুর আশায় বুক বাঁধছিল। ছুটির দিনে গ্যালারিও ছিল হাউজফুল। ঠিক যখন খেলাটা হাতের মুঠোয় আসা শুরু করলো তখনই বিপদ ডেকে আনেন থিতু হওয়া দুই ব্যাটসম্যান। প্রথমে পারভেজ হোসেন। পরে সাইফ হাসান। দুজন ৪ রানের ব্যবধানে পরপর দুই ওভারে আউট হলে বাংলাদেশ ব্যাকফুটে চলে যায়। পারভেজ ২২ বলে ২ চার ও ৩ ছক্কায় ৩৬ রানে হার্ডির বলে আউট হন। সাইফ ৩ চার ও ২ ছক্কায় ৩৩ বলে করেন ৪২ রান। ডেভিসের বলে কাভারে ক্যাচ উড়িয়ে আউট হন। এরপর তাওহীদ চেষ্টা করেছেন। শামীম কিছুটা সঙ্গ দিয়েছেন। শেষ ওভার জয়ের জন্য ২৩ রান দরকার ছিল বাংলাদেশের। প্রথম ৩ বলে কোনো বাউন্ডারি ছাড়া ৫ রান পায় বাংলাদেশ। পরের বলে ছক্কা মেরে ম্যাচ জমিয়ে তোলেন তাওহীদ। শেষ ২ বলে দরকার ২ ছক্কা। কিন্তু তাওহীদ পঞ্চম বলে বড় শট হাঁকালেও ব্যাটের কানায় লেগে বল যায় বাউন্ডারিতে। শেষ বলে ৮ রানের প্রয়োজনে তাওহীদের শট সীমানায় ধরা পড়ে যায়।
ব্যাটিংয়ে আজ রেনশ গড়ে দেন পার্থক্য। বাঁহাতি ব্যাটসম্যান ৫২ বলে ৪ চার ও ৫ ছক্কায় ৮৯ রানের দারুণ ইনিংস খেলেন। ৫ ছক্কার ৪টিই রেনশ মেরেছেন লেগ স্পিনার রিশাদ হোসেনকে। এর মধ্যে ১৩তম ওভারেই রিশাদকে পরপর তিন বলে তিন ছক্কা হাঁকান এই হার্ডহিটার ব্যাটসম্যান। রেনশকে নিয়ে চতুর্থ উইকেটে ৫০ বলে ৯৭ রানের জুটি গড়েন টিম ডেভিড। ইনিংসের মাঝে ঝড় তোলা শুরু হয় টিম ডেভিডের ব্যাট থেকেই। পাঁচে নামা এই ব্যাটসম্যান ২৬ বলে ৪৫ রান করে সাকলাইনের বলে ডিপ পয়েন্টে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন। ২ চার ও ৪ ছক্কায় সাজানো ছিল তার ইনিংস। মূলত এই দুই ব্যাটসম্যানের তোপেই পুড়েছেন বাংলাদেশের বোলাররা। উইকেট বেশ ভালো থাকায় রান হয়েছে অনায়েসে। শুরুর তিন ব্যাটসম্যানকে বাংলাদেশ বেশিদূর যেতে দেয়নি। নাসুমকে প্রথম ওভারে একটি চার ও একটি ছক্কা উড়ানো জস ইংলিশ থেমে যান ১১ রানে। নাসুম নিজের দ্বিতীয় ওভারে তাকে এলবিডব্লিউ করেন।
নতুন বলে সাকলাইন দ্বিতীয় ওভার করতে এসে মার্শের তোপে পড়েন। তিনটি চার মারেন অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক। সাকলাইন খরচ করেন ১৫ রানে। অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ককে ফেরানোর দায়িত্ব নেন মোস্তাফিজুর রহমান। বাঁহাতি পেসারের বল উড়াতে গিয়ে মিড উইকেটে ক্যাচ দেন মার্শ। মাঝে নাহিদ রানা নিজের প্রথম ওভারে তুলে নেন ১ রান করা কোনোলির উইকেট। স্লিপে দারুণ ক্যাচ নেন সাইফ। ৪৪ রানে ৩ উইকেট হারানো অস্ট্রেলিয়া চতুর্থ উইকেটে প্রতি আক্রমণে গিয়ে রান তুলে সফলতার মুখ দেখে। ডেভিড ও রেনশ আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে দেন জবাব। তবে শেষ দিকে বাংলাদেশ আবার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়। ডেভিডের পর নিখিল চৌধুরীর উইকেট তুলে রানের চাকায় লাগাম টানে। তবে রেনশ ছিলেন দারুণ। শেষ পর্যন্ত ক্রিজে থেকে অস্ট্রেলিয়ার রান দুইশর কাছাকাছি নিয়ে যান। ১৩ রান তুলে ডেভিসও রাখেন অবদান। নাসুম আহমেদ ২৭ রানে ২ উইকেট নিয়ে ছিলেন বাংলাদেশের সেরা। ১টি করে উইকেট নেন সাকলাইন, নাহিদ ও মোস্তাফিজুর। আগামী ২১ জুন একই মাঠে হবে সিরিজের তৃতীয় ম্যাচ।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
অস্ট্রেলিয়া: ২০ ওভারে ১৯৬/৫ (ইংলিস ১১, মার্শ ২০, কনোলি ১, রেনশ ৮৯*, ডেভিড ৪৫, নিখিল ৮, ডেভিস ১৩*; নাসুম ৪-০-২৭-২, সাকলাইন ৪-০-৫৩-১, নাহিদ ৪-০-৩৬-১, মুস্তাফিজ ৪-০-৩৪-১, রিশাদ ৪-০-৪৬-০)
বাংলাদেশ: ২০ ওভারে ১৮৯/৬ (তানজিদ ৩০, সাইফ ৪২, সৌম্য ১৫, পারভেজ ৩৬, হৃদয় ৩৫*, শামীম ৭, সাকলাইন ১৩*; হার্ডি ৪-০-৪০-১, জনসন ২-০-৩৯-০, এলিস ৪-০-২৩-১, রেনশ ২-০-১৩-১, জ্যাম্পা ৪-০-৩৯-১, ডেভিস ৩-০-২১-১, নিখিল ১-০-৭-০)।