শুক্রবার ১৯ জুন ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ৫ই আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ || ৩ মহররম ১৪৪৮ হিজরি
LIVE
Printed on: June 19, 2026
June 19, 2026
খেলাধুলা
খেলাধুলা

আর্জেন্টিনা ও ফ্রান্স থেকে কৌশল ধার নিচ্ছে ব্রাজিল!

Published: June 19, 2026 at 10:37 AM
আর্জেন্টিনা ও ফ্রান্স থেকে কৌশল ধার নিচ্ছে ব্রাজিল!

মরক্কোর সাথে উদ্বোধনী ম্যাচে ১-১ গোলে ড্র করে কোনো মতে মুখরক্ষা করা ব্রাজিল দলের অভিজ্ঞ ফুলব্যাক দানিলোর সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারটি সমর্থকদের জন্য ছিল এক চরম ‘রিয়েলিটি চেক’ বা বাস্তবতার নির্মম চাবুক। কাগুজে বাঘের মতো গর্জন করলেও ব্রাজিল যে এই মুহূর্তে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা কিংবা তারকাখচিত ফ্রান্সের ধারে কাছেও নেই, সেটি এখন দিবালোকের মতো স্পষ্ট। ফিফার পাওয়ার র‍্যাঙ্কিংয়ে টুর্নামেন্টের সবচেয়ে বাজে একাদশের তালিকায় ব্রাজিলের এক ফুটবলার প্রায় জায়গা পেয়ে যাচ্ছিলেন! তবে ক্রিস্টাল বলের ভবিষ্যৎবাণী যাই বলুক না কেন, হেক্সা বা ষষ্ঠ বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখতে হলে সেলেসাওদের অলিক কল্পনা ছেড়ে দ্রুত মাটিতে পা ফেলতে হবে। বিশ্বকাপের মতো টুর্নামেন্ট যেভাবে শুরু হয়, শেষটা সাধারণত তেমন হয় না। কাতার বিশ্বকাপে সৌদি আরবের কাছে প্রথম ম্যাচে হেরে আর্জেন্টিনা যেভাবে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যাওয়ার শঙ্কায় পড়েছিল, সেখান থেকে এনজো ফার্নান্দেজ এবং হুলিয়ান আলভারেজের মতো তরুণদের একাদশে এনে যেভাবে তারা বিশ্বজয় করেছিল, ব্রাজিলকেও হাইতির বিরুদ্ধে ঠিক সেই পথেই হাঁটতে হবে। কার্লো আনচেলত্তি মরক্কো ম্যাচে তাঁর অতি-বিশ্বস্ত ক্যাসেমিরোর ওপর ভরসা রেখেছিলেন। কিন্তু রিয়াল মাদ্রিদের সেই পুরনো ফর্ম হারিয়ে ফেলা ক্যাসেমিরো মাঝমাঠে চরম অসহায়ত্বের জন্ম দিয়েছেন। মেটলাইফ স্টেডিয়ামে দুই মিডফিল্ডার এবং চার ফরোয়ার্ড নিয়ে খেলার যে আত্মঘাতী ছক আনচেলত্তি কষেছিলেন, তা আধুনিক ফুটবলের গতি ও শক্তির সামনে সম্পূর্ণ মুখ থুবড়ে পড়েছে। হাইতি ম্যাচের আগে ব্রাজিলে দলে বড় রদবদলের ইঙ্গিত!হাইতি ম্যাচের আগে ব্রাজিলে দলে বড় রদবদলের ইঙ্গিত! আর্জেন্টিনার কৌশলগত পরিবর্তনের পাশাপাশি ফ্রান্সের ডিফেন্সিভ ম্যাচিউরিটি বা রক্ষণভাগের পরিপক্বতা এখন ব্রাজিলের জন্য বড় শিক্ষা। সেনেগালের বিরুদ্ধে ফরাসিদের ম্যাচটি দেখলেই বোঝা যায়, ব্রাজিলিয়ান ডিফেন্স যখন মাঠে আগুন লাগার পর তা নেভাতে ব্যস্ত থাকে, ফরাসি ডিফেন্স তখন আগুন যেন লাগতেই না পারে সেই ব্যবস্থা করে! ফ্রান্সের ডুয়ে, চুয়ামেনি, থিও হার্নান্দেজ এবং উপামেকানো রক্ষণভাগে যে ইস্পাত কঠিন দেয়াল তুলেছিলেন (একমাত্র উপামেকানোই ব্রাজিলের দুই সেন্টার-ব্যাক জুটির সম্মিলিত ট্যাকলের চেয়ে বেশি ট্যাকল করেছেন), তা ব্রাজিলের বর্তমান ডিফেন্সের জন্য শুধুই স্বপ্ন। তবে ব্রাজিল যে ঘুরে দাঁড়াতে পারে, তার আসল বারুদ লুকিয়ে আছে আনচেলত্তির রিজার্ভ বেঞ্চে। ডিফেন্সে যেখানে একমাত্র অভিজ্ঞ বিকল্প বুড়ো দানিলো, সেখানে মাঝমাঠ থেকে আক্রমণভাগে একঝাঁক ডিনামাইট বসে আছে। মাঝমাঠে দানিলো সান্তোসের মতো ডাইনামিক ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার আছেন যিনি শুধু রক্ষণই সামলান না, প্রতিপক্ষের বক্সে ঢুকে গোল করতেও ওস্তাদ। সাথে আছেন ট্যাকটিক্যাল পাওয়ারহাউজ মাথেউস কুনিয়াহ এবং রায়ান, লুইজ হেনরিক ও এনড্রিকের মতো তরুণ তুর্কিরা, যাঁদের পায়ে আছে ড্রিবলিংয়ের জাদু, শরীরে শক্তি আর বুকে বুকভরা সাহস। নিজেদের প্রথম ম্যাচে স্কটল্যান্ডের বিরুদ্ধে হাইতি মূলত মাঝমাঠ ব্লক করে দুই প্রান্ত বা ফ্ল্যাঙ্কগুলো খোলা রেখেছিল ক্রস আটকানোর জন্য। হাইতির এই রক্ষণাত্মক কৌশল ভাঙতে ব্রাজিলের উইঙ্গারদের সাথে মিডফিল্ডারদের ওয়ান-টু-ওয়ান পাসিংয়ের লিঙ্ক-আপ বাড়াতে হবে। আনচেলত্তি এই বিশ্বকাপে হেড বা এরিয়াল খেলাকে প্রধান কৌশল মানলেও, হাইতির তরুণদের বিরুদ্ধে ব্রাজিলের তরুণ ফরোয়ার্ডদের একক দক্ষতায় ড্রিবলিংয়ে পরাস্ত করার চ্যালেঞ্জ নিতে হবে। সকালের ম্যাচে ফুটবলপ্রেমীরা হয়তো হাইতির বিরুদ্ধে ব্রাজিলের বড় ব্যবধানের জয় বা গোল উৎসবের হিসাব কষছেন, কিন্তু বর্তমান বাস্তবতা ব্রাজিলের জন্য বেশ অস্বস্তিকর।গ্রুপের সবচেয়ে দুর্বল প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে খেলতে নেমেও যদি ব্রাজিলকে স্নায়ুচাপে ভুগতে হয়, তবে তা হবে চরম লজ্জাজনক। গোল ব্যবধান টেবিলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ঠিকই, তবে নকআউটে ফ্রান্স-আর্জেন্টিনাদের রুখতে হলে প্রিয় পাত্রদের অন্ধ মোহ কাটিয়ে আনচেলত্তিকে আজই তাঁর আসল টেকসই একাদশ খুঁজে বের করতে হবে।