কয়েক সপ্তাহেই অনেক কিছু বদলে যেতে পারে, আর চার বছর তো অনেক সময়! জুলিয়ান আলভারেজকে দেখলেই সেটি বোঝা যায়। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে তিনি গিয়েছিলেন আর্জেন্টিনার দলে একজন ব্যাকআপ ফরোয়ার্ড হিসেবে। তখনকার ম্যানচেস্টার সিটি তারকা লাউতারো মার্টিনেজই ছিলেন দলের মূল স্ট্রাইকার। ২০২১ কোপা আমেরিকা জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা লাউতারোর কারণে আলভারেজকে একটু সুযোগের অপেক্ষায় তীর্থের কাকের মতো তাকিয়ে থাকতে হয়েছে কোচের দিকে। সৌদি আরবের বিপক্ষে হতাশাজনক হার এবং মেক্সিকোর বিপক্ষে জয়ের ম্যাচে বদলি হিসেবে নামার পর পোল্যান্ডের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে প্রথম একাদশে জায়গা পান আলভারেজ। রিভার প্লেট একাডেমি থেকে উঠে আসা এই ফরোয়ার্ড সেই ম্যাচে দলের দ্বিতীয় গোলটি করেন। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। ফাইনাল পর্যন্ত জায়গা পাকা করে নিয়েছিলেন। ২০২৬ বিশ্বকাপে আলভারেজ এবং লাউতারো দুজনই এখন লিওনেল স্কালোনির দলে গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আলভারেজ এখন আতলেতিকো মাদ্রিদের আক্রমণের মূল ভরসা, আর লাউতারো ইন্টার মিলানের প্রধান স্ট্রাইকার। তবে আলভারেজের ভূমিকায় এসেছে পরিবর্তন।
ইউরোপে নিজেকে প্রমাণ করা এই ফরোয়ার্ড জিতেছেন কোপা লিবার্তাদোরেস, উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ এবং কোপা আমেরিকার মতো বড় শিরোপা। দক্ষিণ আমেরিকা অঞ্চলের বাছাইপর্বেও দারুণ পারফরম্যান্স করে ২৬ বছর বয়সী এই ফুটবলার এখন আর্জেন্টিনার প্রথম একাদশের নিয়মিত মুখ। তার পাসিং সমন্বয়, আগ্রাসী প্রেসিং এবং দুর্দান্ত ফিনিশিং দলকে আলাদা শক্তি দিয়েছে। ২০২২ বিশ্বকাপে চার গোল করেছিলেন আলভারেজ, যার মধ্যে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে সেমিফাইনালে জোড়া গোল ছিল বিশেষ স্মরণীয়। এবার আন্তর্জাতিক ফুটবলে আরও বড় সাফল্যের স্বপ্ন দেখছেন তিনি। আর্জেন্টিনা এবার খেলবে গ্রুপ ‘জে’-তে, যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ আলজেরিয়া, অস্ট্রিয়া ও জর্ডান।
প্রতিযোগিতা, বিশ্বকাপ ভাবনা, দলের প্রাণভোমরা লিওনেল মেসি এবং নিজের উন্নতির গল্প আলভারেজ বলেছেন ফিফাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে। জাগো নিউজের পাঠকদের জন্য সেই সাক্ষাৎকারটি তুলে ধরা হলো-
ফিফা: লাউতারোর মতো খেলোয়াড়ের সঙ্গে জায়গার জন্য প্রতিযোগিতা কেমন?
জুলিয়ান আলভারেজ: আমরা প্রতিদ্বন্দ্বী, তবে একসঙ্গে খেলতেও পারি, যা আমার জন্য আনন্দের। আমরা যখনই একসঙ্গে মাঠে নেমেছি, ভালো খেলেছি। আর যদি একজন সুযোগ পায়, তখনও সবার লক্ষ্য থাকে দলের সেরা ফল আনা। এই অভ্যন্তরীণ প্রতিযোগিতা আমাদের প্রতিদিন উন্নতি করতে সাহায্য করে। সুস্থ প্রতিযোগিতা থাকলে সবাই আরও ভালো হয়।