রবিবার ০৫ জুলাই ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ২১শে আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ || ১৯ মহররম ১৪৪৮ হিজরি
LIVE
Printed on: July 05, 2026
July 05, 2026
লাইফস্টাইল
লাইফস্টাইল

যে ৭ পানীয়তে কমবে বুকজ্বালা গ্যাসের সমস্যা

Published: July 05, 2026 at 12:41 PM
যে ৭ পানীয়তে কমবে বুকজ্বালা গ্যাসের সমস্যা

বুকজ্বালা, অম্বল, টক ঢেকুর, অ্যাসিড রিফ্লাক্সের সমস্যা অনেকের নিত্যদিনের সঙ্গী। সহজ সমাধান হিসেবে তারা ওষুধ খেয়ে নেন। হজমের ওষুধ অতিরিক্ত খেলে গুরুতর শারীরিক সমস্যা হতে পারে। ভারতীয় গণমাধ্যম 'আনন্দবাজার পত্রিকার' এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওষুধের বদলে রান্নাঘরে থাকা কয়েকটি উপাদান দিয়েই কমানো যায় গ্যাস, বুকজ্বালার সমস্যা। 


মৌরি ভেজানো পানি: মৌরি হজমে সাহায্য করে এবং পেটের অস্বস্তি কমাতে পারে। অম্বল ও গ্যাসের সমস্যায় মৌরি ঘণ্টাখানেক ভিজিয়ে তার পানি পান করতে পারেন। অম্বল বা বুকজ্বালা থেকে রেহাই দিতে পারে এই ঘরোয়া পানীয়। কারণ, এতে থাকা অ্যানিথোল নামক যৌগ পাকস্থলীর পেশিগুলোকে শিথিল করে এবং হজমকারী রসের ক্ষরণ বাড়িয়ে গ্যাস ও ফোলা ভাব কমায়।



জিরা পানি: বদহজমের সমস্যা কমানোর জন্য জিরার জুড়ি মেলা ভার। জিরায় থাইমল নামক তেল থাকে, যা লালা গ্রন্থিকে সক্রিয় করে। এর ফলে পাচক রস ও এনজ়াইম নিঃসরণ বাড়ে। খাবারকে দ্রুত ভাঙতে সাহায্য করে এটি। ফলে হজমে সমস্যা হয় না। পাশাপাশি এটি পেটফাঁপা এবং গ্যাসও কমায়। এই মশলা ভিজিয়ে রেখে সেই পানি পান করলে অম্বলের সমস্যা কমতে পারে।


লবঙ্গ ভেজানো পানি: লবঙ্গ চিবিয়ে খেলে মুখের স্বাদ যেমন বদলায়, তেমনই হজমেও কিছুটা সাহায্য করতে পারে। অনেকেই অম্বল হলে একটি বা দু’টি লবঙ্গ মুখে রেখে ধীরে ধীরে চিবিয়ে খান। লবঙ্গ হাতে চিপে পানিতে ফেলে দিয়ে খানিকক্ষণ অপেক্ষা করুন। তারপর ওই পানি ছেঁকে পান করুন। এর মধ্যে থাকা ইউজেনল পরিপাকতন্ত্রকে সুরক্ষা দেয় এবং প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে। এর ফলে বুকজ্বালা, পেট ফাঁপা, গ্যাস ও অম্বলের সমস্যা অনেকটা কমবে। 


আদা পানি: আদা হজমের সমস্যায় বহু দিন ধরেই ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এক কাপ হালকা আদা দেওয়া গরম পানি বা আদা চা পেটের অস্বস্তি কমাতে সাহায্য করতে পারে। আদা পাকস্থলীর পেশি শিথিল করে, হজম প্রক্রিয়া দ্রুত করে এবং প্রদাহ কমায়, যার ফলে অ্যাসিড রিফ্লাক্স ও বুকজ্বালা কমে।


এলাচের গুঁড়া মিশ্রিত পানি: পাকস্থলীর অতিরিক্ত অ্যাসিড প্রশমিত করে এবং হজমে সাহায্যকারী এনজাইমের ক্ষরণ বাড়িয়ে অম্বল কমাতে পারে এলাচ। বুকজ্বালা দূর করে পেট ঠান্ডা করতে পারে এটি। এলাচ গুঁড়ো করে পানিতে মিশিয়ে খানিক পরে সেই পানি ছেঁকে পান করলে আরাম মিলবে। 


ধনের পানি: গোটা ধনে এবং ধনেপাতা, দু’টিই হজমশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে। পাকস্থলীতে পাচক রস এবং এনজ়াইম ক্ষরণ বাড়ায় ধনে। এটি খাবারকে দ্রুত ও সঠিক ভাবে ভাঙতে সাহায্য করে। ফলে হজম করার ক্ষমতা বাড়ে। তাই ধনে কয়েক ঘণ্টা ভিজিয়ে রেখে সেই পানিটুকু ছেঁকে খেয়ে নিলে আরাম পেতে পারেন। 


ঈষদুষ্ণ পানি: সাধারণ গরম পানিও হজমে কাজে দিতে পারে। খাবারের পরে অল্প গরম পানি পান করলে হজমপ্রক্রিয়া সহজ হতে পারে এবং অস্বস্তি কমতে পারে। কারণ, ঈষদুষ্ণ বা হালকা গরম পানি হজমের গতি বাড়াতে পারে, অন্ত্রকে সচল করে, বিপাক ক্রিয়াকে সক্রিয় করে বদহজম কমাতে সাহায্য করে। গরম জল পাকস্থলীতে পৌঁছানোর পর খাবার ও চর্বিকে সহজে দ্রবীভূত করতে পারে। ফলে দেহ দ্রুত খাদ্যকণাগুলো হজম করতে পারে।