সিলেট টেস্টে ব্যাট হাতে ইতিহাস গড়েছিলেন তাওহিদ হৃদয়। তাঁর অপরাজিত ২৪২ রানের দুর্দান্ত ইনিংসে প্রথম ইনিংসে লিডও পেয়েছিল বাংলাদেশ। তবে সেই স্বস্তি দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। চতুর্থ দিনের পুরোটা সময় ব্যাট হাতে দাপট দেখিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। কাভেম হজের দুর্দান্ত সেঞ্চুরিতে ম্যাচে বড় লিড নিয়ে জয়ের পথে এগিয়ে যাচ্ছে ক্যারিবীয়রা।
চতুর্থ দিনের খেলা শেষে ওয়েস্ট ইন্ডিজের দ্বিতীয় ইনিংসের সংগ্রহ ৩ উইকেটে ৩৪৫ রান। সব মিলিয়ে তাদের লিড দাঁড়িয়েছে ৩১৫ রানে। ক্যারিয়ারের তৃতীয় টেস্ট সেঞ্চুরি তুলে নেওয়া কাভেম হজ ১৮৯ বলে ১৪০ রান করে অপরাজিত রয়েছেন। তাঁর ইনিংসে রয়েছে ১৭টি চার ও একটি ছক্কা। অন্য প্রান্তে ৪৯ বলে ২০ রান নিয়ে অপরাজিত আমির জাঙ্গু। চতুর্থ উইকেটে দুজনের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে এসেছে ৬১ রান।
দিনের শুরুতে অবশ্য ম্যাচের চিত্র ছিল ভিন্ন। দ্বিতীয় ইনিংসে ৪ ওভারে বিনা উইকেটে ৭ রান নিয়ে চতুর্থ দিনের খেলা শুরু করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। সতর্কভাবে ব্যাটিং করতে থাকেন দুই ওপেনার জশুয়া ডা সিলভা ও ব্র্যান্ডন কিং। ৮৫ রানে প্রথম উইকেটের পতন ঘটান তাইজুল ইসলাম। তাঁর বলে এলবিডব্লিউ হয়ে ৩০ রান করে ফেরেন ডা সিলভা।
এরপর দ্রুতই দ্বিতীয় উইকেট তুলে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয় বাংলাদেশের সামনে। মেহেদী হাসান মিরাজের বলে হজের ব্যাটের কাছাকাছি বল উঠে গেলে ক্যাচ নেন ফিল্ডার। আম্পায়ারও আঙুল তুলে দেন। তবে রিভিউ নিয়ে বেঁচে যান হজ। রিপ্লেতে দেখা যায়, বল ব্যাট বা গ্লাভসে নয়, প্যাডে লেগেছিল। তখন তাঁর রান ছিল মাত্র ১৬। সেই জীবন পাওয়ার পর আর পেছনে ফিরে তাকাননি এই ক্যারিবীয় ব্যাটার।
১১৯ রানে দ্বিতীয় উইকেটের পতন ঘটে ওয়েস্ট ইন্ডিজের। মিরাজের বলে প্রথম স্লিপে দুর্দান্ত ক্যাচ নিয়ে ব্র্যান্ডন কিংকে ফেরান অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। ৮৪ বলে ১০টি চার ও একটি ছক্কায় ৬১ রান করেন এই ওপেনার।
এরপর বাংলাদেশের বোলারদের দীর্ঘ অপেক্ষায় রেখে তৃতীয় উইকেটে বড় জুটি গড়েন হজ ও অভিষিক্ত কেভিন উইকহাম। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজের প্রথম ম্যাচ খেলতে নেমেই আত্মবিশ্বাসী ব্যাটিংয়ের পরিচয় দেন উইকহাম। দুজন মিলে ২২১ বলে যোগ করেন ১৬৫ রান। হজের সাবলীল ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি উইকহামের দায়িত্বশীল সঙ্গ বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণকে কার্যত নিষ্প্রভ করে দেয়।
৭৮ রান করে উইকহাম বিদায় নিলেও ততক্ষণে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ অনেকটাই ক্যারিবীয়দের হাতে চলে গেছে। হজকে থামানোর কোনো কার্যকর উপায় খুঁজে পাননি বাংলাদেশের বোলাররা। দিনের শেষ ভাগে আমির জাঙ্গুকে সঙ্গে নিয়ে আরও ৬১ রান যোগ করেন তিনি।
এর আগে তাওহিদ হৃদয়ের অপরাজিত ২৪২ রানের ইনিংসে প্রথম ইনিংসে ৩৮৬ রান সংগ্রহ করেছিল বাংলাদেশ। ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রথম ইনিংসের ৩৫৬ রানের জবাবে ৩০ রানের লিড পেয়েছিল স্বাগতিকরা। কিন্তু চতুর্থ দিনের বিবর্ণ বোলিংয়ে সেই লিডের সুবিধা ধরে রাখতে পারেনি বাংলাদেশ।
এখন বাংলাদেশের সামনে অপেক্ষা করছে কঠিন সমীকরণ। টেস্টের চতুর্থ ইনিংসে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ড ২১৫ রান। ২০০৯ সালে এই ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষেই সেই জয় পেয়েছিল বাংলাদেশ। ২০০ রানের বেশি লক্ষ্য তাড়া করে আর কোনো টেস্ট জিততে পারেনি দলটি। অথচ এবার প্রতিপক্ষের লিড ইতিমধ্যে ৩১৫ রান।
পঞ্চম ও শেষ দিনে যেকোনো সময় ইনিংস ঘোষণা করতে পারে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এরপর বাংলাদেশের সামনে আসবে ম্যাচ জেতা কিংবা ড্র করার কঠিন চ্যালেঞ্জ। চতুর্থ দিনের পারফরম্যান্সের পর সিলেট টেস্টে স্বাগতিকদের জন্য পরিস্থিতি বেশ কঠিন হয়ে উঠেছে।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
ওয়েস্ট ইন্ডিজ: ৩৫৬ ও ৩৪৫/৩ (কাভেম হজ ১৪০*, কেভিন উইকহাম ৭৮, ব্র্যান্ডন কিং ৬১; তাইজুল ২/১১৮, মিরাজ ১/৫৮)।
বাংলাদেশ: ৩৮৬ (তাওহিদ হৃদয় ২৪২*, মুশফিকুর রহিম ৩৪; ওয়ারিক্যান ৪/১০৪)।
ওয়েস্ট ইন্ডিজ এগিয়ে ৩১৫ রানে।