সিলেট টেস্টের দ্বিতীয় দিন শেষে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ অনেকটাই ওয়েস্ট ইন্ডিজের হাতে। প্রথম ইনিংসে ৩৫৬ রান করা ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে ব্যাট করতে নেমে ৮৮ রান তুলতেই ৩ উইকেট হারিয়েছে বাংলাদেশ। এখনো ২৬৮ রানে পিছিয়ে স্বাগতিকরা। এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশকে প্রথম ইনিংসে ২৫০ রানের নিচে আটকে রাখার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
দিনের খেলা শেষে সংবাদ সম্মেলনে ক্যারিবীয় ব্যাটার আমির জাঙ্গু এ লক্ষ্যের কথা জানান। তাঁর মতে, সময়ের সঙ্গে উইকেট ব্যাটিংয়ের জন্য আরও সহজ হয়ে উঠছে। তাই বোলারদের ধৈর্য ধরে চাপ তৈরি করতে হবে।
শুক্রবার সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৪০ ওভারে ৩ উইকেটে ৮৮ রান। চতুর্থ উইকেটে ৩৭ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়ে দিন শেষ করেছেন তাওহীদ হৃদয় ও মুশফিকুর রহিম। হৃদয় ২৯ এবং মুশফিক ১৯ রানে অপরাজিত আছেন।
সাদমান ইসলামের চোটের কারণে ওপেনিংয়ে নামানো হয় অফ স্পিনার নাঈম হাসানকে। তবে নতুন ভূমিকায় সফল হতে পারেননি তিনি। জেইডেন সিলসের বলে স্লিপে ক্যাচ দিয়ে ৫ রানেই ফেরেন নাঈম। অন্য প্রান্তে তানজিদ হাসান তামিম করেন ১৬ রান। এরপর অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তও ইনিংস বড় করতে পারেননি। শামার জোসেফের বলে বোল্ড হওয়ার আগে ৫১ বলে ১৪ রান করেন তিনি। ৫১ রানেই ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে বাংলাদেশ।
এরপর হৃদয় ও মুশফিক সতর্ক ব্যাটিংয়ে দিনের বাকি সময় কাটিয়ে দেন। তবে তাঁদের এই প্রতিরোধে আপাতত বিপর্যয় সামাল দেওয়া গেলেও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ফেরাতে পারেনি স্বাগতিকরা।
হাসানের ছয় উইকেটে ৩৫৬ রানে থামে ওয়েস্ট ইন্ডিজ
বাংলাদেশের ব্যাটিং ব্যর্থতার দিনে বল হাতে উজ্জ্বল ছিলেন পেসার হাসান মাহমুদ। আগের দিনের ২৩৫ রানে ৪ উইকেট নিয়ে দ্বিতীয় দিনের খেলা শুরু করা ওয়েস্ট ইন্ডিজকে শুরুতেই চাপে ফেলেন তিনি।
দিনের শুরুতে টানা দুই বলে সেঞ্চুরিয়ান আমির জাঙ্গু ও রস্টন চেইসকে ফিরিয়ে দেন হাসান। ১৩৩ রান করা জাঙ্গুকে বোল্ড করে জাস্টিন গ্রিভসের সঙ্গে তাঁর ১০৬ রানের জুটি ভাঙেন এই পেসার। পরের বলেই উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন চেইস। হ্যাটট্রিকের সুযোগ তৈরি হলেও তা কাজে লাগাতে পারেননি হাসান।
এরপর জশুয়া বিশপকে নিজের বলে ক্যাচ তুলতে বাধ্য করলেও শুরুতে সুযোগটি নিতে পারেননি তিনি। তবে দ্রুতই উইকেটের পেছনে লিটন দাসের দুর্দান্ত স্টাম্পিংয়ে বিশপকে ফিরিয়ে পাঁচ উইকেট পূর্ণ করেন হাসান। টেস্ট ইতিহাসে বাংলাদেশের প্রথম পেসার হিসেবে স্টাম্পিংয়ের মাধ্যমে উইকেট পাওয়ার কীর্তিও গড়েন তিনি।
শেষ দিকে শামার জোসেফকে বোল্ড করে ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মতো টেস্ট ইনিংসে ছয় উইকেট নেওয়ার স্বাদ পান হাসান। বাংলাদেশের পেসারদের মধ্যে টেস্টে সবচেয়ে বেশি পাঁচবার ইনিংসে পাঁচ উইকেট নেওয়ার রেকর্ডও এখন তাঁর একক দখলে। পাশাপাশি নাথান লিয়নের পর দ্বিতীয় বোলার হিসেবে ক্যারিয়ারের প্রথম পাঁচটি পাঁচ উইকেটের কীর্তি পাঁচটি ভিন্ন দেশের বিপক্ষে গড়েছেন তিনি।
হাসানের দাপটের মধ্যেও শেষ দিকে প্রতিরোধ গড়েন জাস্টিন গ্রিভস। ৫০ রান করে মেহেদী হাসান মিরাজের বলে আউট হন তিনি। এরপর শেষ উইকেটে জোমেল ওয়ারিক্যান ও জেইডেন সিলস ৩৩ রান যোগ করেন। শেষ পর্যন্ত মিরাজের বলে এই জুটি ভাঙলে ১০৬.৪ ওভারে ৩৫৬ রানে থামে ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রথম ইনিংস। বাংলাদেশের হয়ে হাসান মাহমুদ ৯০ রানে ৬ উইকেট নেন।
৪০০ রানের লক্ষ্য পূরণ না হওয়ায় আক্ষেপ জাঙ্গুর
প্রথম ইনিংসে ৪০০ রানের বেশি করার লক্ষ্য থাকলেও তা পূরণ না হওয়ায় কিছুটা আক্ষেপ রয়েছে আমির জাঙ্গুর। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য ছিল ৪০০ রানের বেশি করা। কিন্তু সেটা করতে না পারায় কিছুটা হতাশ। তবে ৩৫০ রানের বেশি করতে পেরেও আমরা সন্তুষ্ট। আগামী দিনের দিকে তাকিয়ে আছি।’
বাংলাদেশকে কত রানে আটকে রাখতে চান, এমন প্রশ্নে জাঙ্গু বলেন, ‘আমি বলব, ২৫০ রানের নিচে। উইকেট ক্রমেই ব্যাটিংয়ের জন্য সহজ হয়ে উঠছে। এই উইকেটে আমাদের পেসাররা দারুণ বোলিং করেছে। এখন দেখা যাচ্ছে, কোনো ব্যাটার একবার থিতু হয়ে গেলে তাকে আউট করা বেশ কঠিন।’
বোলারদের পরিকল্পনা সম্পর্কে তিনি আরও বলেন, ‘এই উইকেটে চাপ তৈরি করাই আমাদের মূল লক্ষ্য। অতিরিক্ত কিছু করার চেষ্টা করা যাবে না। কারণ, ব্যাটাররা থিতু হয়ে গেলে দ্রুত রান তুলতে পারবে। তাই আমাদের ধৈর্য ধরে বোলিং করতে হবে এবং উইকেট নেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে।’
হাসান মাহমুদের রেকর্ডগড়া বোলিংয়ের পরও ব্যাটিংয়ে ভালো শুরু করতে পারেনি বাংলাদেশ। এখন ম্যাচে ফিরতে হলে হৃদয়-মুশফিকের জুটিকে বড় করতে হবে এবং পরের ব্যাটারদেরও দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে। অন্যথায় দ্বিতীয় দিন শেষে পাওয়া সামান্য প্রতিরোধও ভেঙে পড়তে পারে।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
ওয়েস্ট ইন্ডিজ (প্রথম ইনিংস): ১০৬.৪ ওভারে ৩৫৬/১০।
বাংলাদেশ (প্রথম ইনিংস): ৪০ ওভারে ৮৮/৩ (তাওহীদ হৃদয় ২৯*, মুশফিকুর রহিম ১৯*)।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বোলার: জেইডেন সিলস ১/২৪, জাস্টিন গ্রিভস ১/১০, শামার জোসেফ ১/২৪।
বাংলাদেশ এখনো ২৬৮ রানে পিছিয়ে।