রবিবার ০৮ নভেম্বর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ২৩শে কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ || ২৭ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
LIVE
Printed on: November 08, 2026
November 06, 2026
আন্তর্জাতিক
আন্তর্জাতিক

৭ শর্ত দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ইরানের পারমাণবিক প্রস্তাব

Published: November 06, 2026 at 01:31 PM
৭ শর্ত দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ইরানের পারমাণবিক প্রস্তাব

যুদ্ধের অবসান ঘটাতে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পারমাণবিক কর্মসূচিসংক্রান্ত প্রস্তাব পাঠিয়েছে ইরান। কাতারের মাধ্যমে পাঠানো ওই প্রস্তাব নিয়ে আলোচনায় বসার আগে ওয়াশিংটনকে সাতটি শর্ত পূরণের দাবি জানিয়েছে তেহরান। ইরানের স্পষ্ট অবস্থান, শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি খুলবে না এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আলোচনাতেও বসবে না দেশটি।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এ তথ্য জানিয়েছেন ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানান, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের প্রস্তাবটি পর্যালোচনা করছে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দিতে রাজি হননি তিনি।

আলোচনার আগে সাত শর্ত

যুদ্ধের অবসান ঘটাতে সম্প্রতি মধ্যস্থতাকারীরা কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করেছেন। তবে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর আবারও সংঘাত শুরু হতে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ইরানে নতুন করে সামরিক অভিযান চালানোর সম্ভাবনাও নাকচ করেনি ওয়াশিংটন। অন্যদিকে, যুদ্ধ পুনরায় শুরু হলে আরও বড় পরিসরে পাল্টা হামলার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে তেহরান।

এর মধ্যেই বৃহস্পতিবার রাশিয়া সফরের সময় ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা মোহসেন রেজায়ি বলেন, ‘কূটনীতির বিষয়ে আমরা যুক্তরাষ্ট্রকে সাতটি শর্ত জানিয়েছি। তারা আমাদের সাতটি শর্ত পূরণ না করা পর্যন্ত আমরা হরমুজ প্রণালি খুলব না, আলোচনাতেও বসব না।’

ইরানের শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, জব্দ করা ইরানি সম্পদ ফিরিয়ে দেওয়া এবং যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ প্রদান। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান হলো—যেকোনো প্রাথমিক আলোচনায় পারমাণবিক ইস্যু অন্তর্ভুক্ত থাকতে হবে।

সংঘাত ছড়িয়ে পড়েছে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে

চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। এর জবাবে ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের যেসব দেশে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি রয়েছে, সেসব দেশে ব্যাপক পাল্টা হামলা চালায় ইরান।

এরপর লেবাননে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ ও ইসরায়েলের মধ্যেও সংঘাত শুরু হয়। সর্বশেষ সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে ইয়েমেনেও। সেখান থেকে ইরান-সমর্থিত হুতিরা সৌদি আরবের জ্বালানি স্থাপনা, বিমানবন্দরসহ বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে একের পর এক হামলা চালিয়েছে।

এ পরিস্থিতিতে যুদ্ধের অবসান ও মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদার হলেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সমঝোতা এখনো অনিশ্চিত।