যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের শোচনীয় পরাজয়ের অন্যতম কারণ হিসেবে ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধকে স্বীকার করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, নির্বাচনে দলের খারাপ ফলের পেছনে ইরান যুদ্ধের প্রভাব ছিল।
মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা প্রতিনিধি পরিষদ (হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস) ও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ পেয়েছে। নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে ট্রাম্প ইরান যুদ্ধের বিষয়টি সামনে আনেন।
ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘আমার মনে হয়, এর একটি কারণ ছিল ইরান।’ একই বিষয়ে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে দেওয়া পৃথক মন্তব্যে তিনি বলেন, ‘ইরান ছিল এর একটি অংশ।’
তবে নির্বাচনে পরাজয়ের পেছনে যুদ্ধের প্রভাব স্বীকার করলেও ইরানে সামরিক অভিযান চালানোর সিদ্ধান্তের পক্ষে নিজের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। নির্বাচনী প্রচারণায় নতুন কোনো যুদ্ধে জড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন ট্রাম্প। তারপরও ইরানে হামলার সিদ্ধান্তকে সঠিক বলে দাবি করেছেন তিনি।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি সঠিক কাজটিই করেছি। আমি আবারও একই কাজ করতাম।’
যুদ্ধের প্রভাবে বেড়েছে জনঅসন্তোষ
নয় মাস ধরে চলা ইরান যুদ্ধ শুরু থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ মানুষের কাছে অজনপ্রিয় ছিল। নির্বাচনী প্রচারণায় ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা অভিযোগ করেন, এই সংঘাতের কারণে জ্বালানি তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন পণ্যের দাম বেড়েছে। ফলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়ও বৃদ্ধি পেয়েছে।
যুদ্ধের লক্ষ্য ও সময়সীমা নিয়ে ট্রাম্পের বক্তব্যেও বিভিন্ন সময়ে পরিবর্তন দেখা গেছে। কখনো তিনি ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক অভিযান আরও জোরদার করার হুমকি দিয়েছেন, আবার কখনো দাবি করেছেন, যেকোনো মুহূর্তে এই সংঘাতের অবসান ঘটাতে পারবেন।
বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধের অর্থনৈতিক প্রভাব এবং জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি নির্বাচনে ভোটারদের মনোভাব পরিবর্তনে ভূমিকা রেখে থাকতে পারে।
মার্কিন নির্বাচনের ফলকে স্বাগত ইরানের
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফলকে সন্তুষ্টির সঙ্গে গ্রহণ করেছে তেহরান। বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ বলেন, ‘আমেরিকানরা যুদ্ধের বিরুদ্ধে না বলেছে, আর আমরা এই বার্তাকে সমর্থন করি।’
ইরানের এই প্রতিক্রিয়ার মধ্য দিয়ে ওয়াশিংটনের নির্বাচনী ফলাফলকে কেন্দ্র করে দুই দেশের রাজনৈতিক অবস্থানের পার্থক্য আবারও স্পষ্ট হয়েছে।