ফিলিস্তিনি সাংবাদিক বুশরা আল-তাউইলকে দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে নির্জন কারাবাসে রেখেছে ইসরায়েল। এ সময়ে তাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন, মারধর, কাঁদানে গ্যাস প্রয়োগ এবং মৌলিক প্রয়োজনীয় সামগ্রী থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে ফিলিস্তিনি বন্দীদের অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন প্যালেস্টাইনিয়ান প্রিজনার্স ক্লাব (পিপিসি)।
রবিবার এক বিবৃতিতে সংগঠনটি জানায়, কারাগারে চলমান কঠোর পরিস্থিতি বুশরা আল-তাউইলের নিরাপত্তা ও শারীরিক সুস্থতার জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। নির্জন কারাবাসের পাশাপাশি ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ তার প্রশাসনিক আটকের মেয়াদ আরও চার মাস বাড়িয়েছে।
প্রশাসনিক আটক হলো ইসরায়েলের এমন একটি নীতি, যার আওতায় ফিলিস্তিনি নারী, পুরুষ ও শিশুদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন কিংবা বিচার ছাড়াই আটক রাখা হয়। সাধারণত ছয় মাসের জন্য এই আটকাদেশ দেওয়া হলেও তা অনির্দিষ্টকালের জন্য নবায়ন করা যায়।
পিপিসি বুশরা আল-তাউইলকে অবিলম্বে নির্জন কারাবাস থেকে মুক্তি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে তার নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছে সংগঠনটি। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটিকে (আইসিআরসি) তার বন্দি অবস্থার ওপর নজরদারি ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এদিকে প্যালেস্টাইনিয়ান প্রিজনার্স সোসাইটির (পিপিএস) তথ্য অনুযায়ী, কারাগারে বুশরা আল-তাউইলের চোখ, ত্বক ও হাত শুষ্ক হয়ে গেছে। দীর্ঘ সময় হাতকড়া পরিয়ে রাখার কারণে তার হাত অসাড় হয়ে পড়েছে। নির্জন কারাবাসে পাঠানোর আগেই তিনি স্ক্যাবিস বা খোসপাঁচড়া রোগে আক্রান্ত ছিলেন।
পিপিএস জানায়, কারাগারে তাকে অত্যন্ত অমানবিক পরিস্থিতিতে রাখা হয়েছে। পর্যাপ্ত খাবার দেওয়া হচ্ছে না। এমনকি বাধ্য হয়ে তাকে কলের হলদেটে পানি পান করতে হচ্ছে। তার কাছে পরিষ্কার কাপড় নেই, কাপড় ধোয়ারও কোনো ব্যবস্থা নেই। বিছানাপত্র জরাজীর্ণ ও দাগযুক্ত। কম্বলের অবস্থাও অত্যন্ত খারাপ। ফলে তাকে প্রায় মেঝেতে ঘুমাতে হচ্ছে।
বুশরা আল-তাউইল জানিয়েছেন, কোনো কারণ না জানিয়েই তাকে ডামন কারাগার থেকে রামলা কারাগারের নির্জন কারাবাস ইউনিটে স্থানান্তর করা হয়। গত ৪ অক্টোবর তাকে জোরপূর্বক কয়েকটি নথিতে স্বাক্ষর করানো হয়। সেসব নথিতে তাকে ডামন কারাগারে স্থানান্তরের কথা উল্লেখ থাকলেও বাস্তবে তাকে বিয়ারশেবার ওহালি ওজ কারাগারের নির্জন কারাকক্ষে নেয়া হয়। বর্তমানে সেখানেই বন্দি রয়েছেন তিনি।