সোমবার ০২ নভেম্বর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৭ই কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ || ২১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
LIVE
Printed on: November 02, 2026
November 02, 2026
আন্তর্জাতিক
আন্তর্জাতিক

ইরানের অনুমতি থাকার পরও হরমুজে পাকিস্তানি ট্যাংকারে হামলা

Published: November 02, 2026 at 12:03 PM
ইরানের অনুমতি থাকার পরও হরমুজে পাকিস্তানি ট্যাংকারে হামলা

ইরান কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে নিরাপদ চলাচলের সুনির্দিষ্ট অনুমতি পাওয়া সত্ত্বেও হরমুজ প্রণালির কাছে পাকিস্তানগামী একটি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) পরিবাহী ট্যাংকার হামলার শিকার হয়েছে। সংবাদ সংস্থা ব্লুমবার্গের বরাত দিয়ে পাওয়া তথ্যে জানা যায়, গত শুক্রবার ৩০ অক্টোবর সন্ধ্যায় পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে এই হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার পর জাহাজের গতিপথ পরিবর্তন করা হয়েছে, যার ফলে পাকিস্তানে বহুল কাঙ্ক্ষিত এই গ্যাস চালান পৌঁছানো নিয়ে গভীর অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।


মার্শাল আইল্যান্ডসের পতাকাবাহী জাহাজ আল মায়েদা কাতার থেকে এলএনজি পরিবেষ্টিত করে পাকিস্তানে নিয়ে যাচ্ছিল। পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজটির নিরাপদ পথ নিশ্চিত করতে পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ আগে থেকেই ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে কূটনৈতিক স্তরে যোগাযোগ রক্ষা করেছিল এবং ঘটনার কয়েক ঘণ্টা আগেই তেহরান জাহাজটিকে অতিক্রমের সবুজ সংকেত দিয়ে অনুমতি নিশ্চিত করে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে। তবে সুনির্দিষ্ট অনুমতি থাকা সত্ত্বেও সমুদ্রপথে শেষ পর্যন্ত জাহাজটি আক্রান্ত হয়। তবে হামলার নেপথ্যে কারা ছিল কিংবা ঠিক কোন পরিস্থিতিতে এই হামলা পরিচালিত হয়েছিল, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত স্পষ্টতা মেলেনি।


কাতারের গ্যাস পরিবহনকারী সরকারি প্রতিষ্ঠান 'নাকিলাত' এক আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তিতে স্বীকার করেছে যে, তাদের পরিচালনাধীন আল মায়েদা নামের এলএনজি বাহক জাহাজটি ৩০ অক্টোবর সন্ধ্যায় উপসাগরীয় পানিসীমায় অজ্ঞাত বস্তু দ্বারা আঘাতপ্রাপ্ত হয়। তারা নিশ্চিত করে জানায়, ঘটনায় জাহাজের কোনো ক্রু বা নাবিক হতাহত হননি এবং কোনো সামুদ্রিক পরিবেশগত ক্ষতির ঘটনাও ঘটেনি। নাকিলাত জানিয়েছে, আঘাত পাওয়ার পরও জাহাজটি সম্পূর্ণ নিরাপদে এবং পরিচালনাগতভাবে সক্ষম অবস্থায় রয়েছে। ক্ষতির মাত্রা পর্যালোচনার পাশাপাশি আঞ্চলিক সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় রেখে তারা নাবিকদের সার্বিক নিরাপত্তা তদারকি করে যাচ্ছে।


ব্লুমবার্গ তাদের প্রতিবেদনে জানিয়েছে, কূটনৈতিক যোগাযোগের অংশ হিসেবে ইসলামাবাদ তেহরানের কাছ থেকে নিরাপদ ট্রানজিটের ব্যবস্থা করে নেওয়ার পরই এ ঘটনাটি ঘটে। এতে করে কেবল তথ্যসূত্রের ওপর ভিত্তি করেই এ মুহূর্তে ইরানকে সরাসরি দায়ী করার সুযোগ নেই, বিশেষ করে কাতার ভিত্তিক নাকিলাত তাদের অফিসিয়াল বিবৃতিতে নির্দিষ্ট কোনো দেশ বা গোষ্ঠীর নাম উল্লেখ করা থেকে বিরত থেকেছে।