ভারতের উত্তর প্রদেশের লক্ষ্ণৌয়ে গাড়ি পার্কিং নিয়ে বিরোধের জেরে একই পরিবারের তিন সদস্যকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় নতুন ভিডিও সামনে এসেছে। ভিডিওতে দেখা গেছে, প্রকাশ্যে মাত্র ২২ সেকেন্ডের মধ্যে পাঁচটি গুলি ছুড়েছেন অভিযুক্ত ৩০ বছর বয়সী আশিস শুক্লা। এমনকি গুলি চালানোর মাঝেই পিস্তলে নতুন করে গুলি ভরে ফের হামলা চালান তিনি।
বৃহস্পতিবার প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, আশিস প্রথমে পরপর দুটি গুলি ছোড়েন। এরপর পিস্তলটি পুনরায় গুলিভর্তি করে আরও তিনটি গুলি চালান।
শুক্রবার এ তথ্য জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতারের পর আশিসের কাছ থেকে হামলায় ব্যবহৃত পিস্তল এবং চারটি খালি কার্তুজ উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনার পর তাকে আটক করার একটি ভিডিওও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৬ অক্টোবর সকাল সাড়ে ১০টার দিকে লক্ষ্ণৌয়ের সাদাতগঞ্জ এলাকায় একটি খালি জায়গায় গাড়ি পার্কিং নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে ৩০ বছর বয়সী আশিস শুক্লা গুলি চালালে শিবাজি তিওয়ারি (৬২), শিবেন্দ্র তিওয়ারি (৫৫) এবং সুয়াশ তিওয়ারি (৩০) গুলিবিদ্ধ হন। গুরুতর আহত তিনজনকে কিং জর্জ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রমা সেন্টারে নেওয়া হলে সেখানে তাদের মৃত্যু হয়।
ঘটনার পরপরই পুলিশ আশিসকে আটক করে এবং পরে গ্রেফতার দেখায়। পুলিশের ভাষ্য, তিনি মার্চেন্ট নেভিতে নেভিগেশন কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এ ঘটনায় নিহত শিবেন্দ্র তিওয়ারির স্ত্রী রুচি তিওয়ারির অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা করা হয়েছে। মামলায় আটজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে হত্যা ও দাঙ্গাসহ বিভিন্ন অভিযোগ আনা হয়েছে।
এদিকে ঘটনার পর দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে দুই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। মঙ্গলবার সাদাতগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সন্তোষ কুমার আর্য এবং কাশ্মীরি মহল্লা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ অজয় কুমার চৌরাসিয়াকে বরখাস্ত করা হয়।