মঙ্গলবার ২০ অক্টোবর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ৪ঠা কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ || ৮ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
LIVE
শিরোনাম
Printed on: October 20, 2026
October 20, 2026
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

সাইবার নিরাপত্তায় জটিলতা তৈরি করছে এআই প্রযুক্তি

Published: October 20, 2026 at 09:59 AM
সাইবার নিরাপত্তায় জটিলতা তৈরি করছে এআই প্রযুক্তি

বিশ্বজুড়ে প্রতিনিয়ত শক্তিশালী হচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি। তবে এআই-এর এই দ্রুত উত্থান সাইবার প্রতিরক্ষা খাতকে প্রতিনিয়ত বড় ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ মধ্যে ফেলছে। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান ‘এন-এবল’ প্রকাশিত ‘দ্য এআই ফগ রিপোর্ট: হোয়েন দ্য সিগন্যাল বিকামস দ্য নয়েজ’ শীর্ষক এক নতুন গবেষণায় এই উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে। সাইবার সিকিউরিটি বিষয়ক প্রতিষ্ঠানটির সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে, কীভাবে ফ্রন্টিয়ার এআই-এর যুগে ছোট ও মাঝারি আকারের প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যবসায়িক ধারাবাহিকতা বজায় রাখার জন্য নিজেদের প্রসার ঘটাচ্ছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য জুড়ে সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ক সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী এবং পেশাজীবীদের নিয়ে পরিচালিত ৫৯৫ জনের ওপর চালানো একটি জরিপে দেখা গেছে, নিরাপত্তা শিল্প বর্তমানে একটি সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে রয়েছে। জরিপে অংশগ্রহণকারী ৮৬.১% প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, গত এক বছরে তাদের সিকিউরিটি সিস্টেমে ভুয়া ও অপ্রয়োজনীয় সতর্কবার্তার পরিমাণ অনেক বেড়েছে। এর মধ্যে প্রায় ২৪.২% প্রতিষ্ঠানের অ্যালার্ট বৃদ্ধি পেয়েছে ৫০ শতাংশেরও বেশি। যেসব প্রতিষ্ঠানে সতর্কবার্তার সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে, সেসব প্রতিষ্ঠানের উত্তরদাতাদের মধ্যে ৪০.২% এ সতর্কবার্তার জন্য শনাক্তকরণ টুলসের সংখ্যা বৃদ্ধিকে দায়ী করেছেন। এছাড়া ২৬.২% উত্তরদাতা এআই-এর সাহায্যে দ্রুততর আক্রমণ এবং ২০.১% একাধিক কারণের যৌথ প্রভাবককে দায়ী মনে করেন। উত্তরদাতাদের ৮৪.৫% নিশ্চিত করেছেন, গত ১ বছরে তারা এআই প্রযুক্তির সহায়তায় একাধিক সাইবার হামলার শিকার হয়েছেন। এন-এবল-এর গবেষণায় উঠে এসেছে, বিদ্যমান সিকিউরিটি প্রযুক্তির ওপর কেবল একের পর এক এআই-এর স্তর যোগ করে প্রতিষ্ঠানগুলো এখন আর আগের মতো কাঙ্ক্ষিত ফল পাচ্ছে না। এআই প্রযুক্তির ব্যবহার যেভাবে বাড়ছে, তাতে কাজের অনাবশ্যক জটিলতা কমানো এবং গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলোতে নিরাপত্তাকর্মীদের মনোযোগ দিতে সাহায্য করাই হওয়া উচিত এআই সিকিউরিটি সমাধানগুলোর মূল লক্ষ্য। জরিপে অংশ নেওয়া অর্ধেকেরও বেশি (৫৬.০%) মনে করেন সাইবার আক্রমণ শনাক্ত করা থেকে শুরু করে তা ঠেকানো পর্যন্ত সময় কমিয়ে আনাই এআই-এর সবচেয়ে বড় সাফল্য। উত্তরদাতাদের চাহিদার তালিকায় বার বারই একগাদা তথ্যের চেয়ে কোনটা বেশি গুরুত্বপূর্ণ তা সঠিকভাবে চিহ্নিত করার বিষয়টি প্রাধান্য পেয়েছে। যা স্পষ্ট করে দেয় যে সংকেতের পরিমাণের চেয়ে তথ্যের গুণগত মান নিশ্চিত করাই এখন এই খাতের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। এআই-এর মূল লক্ষ্য কী হওয়া উচিত এমন প্রশ্নে সবচেয়ে বেশি উত্তরদাতা (৩৭.৮%) মনে করেন, সাইবার হুমকির পরিধি বিস্তৃতভাবে শনাক্ত করা এবং সঠিক তথ্য নিখুঁতভাবে তুলে ধরা দুটিই সমান গুরুত্বপূর্ণ। অন্যদিকে, ৩২.৬% গুরুত্ব দিয়েছেন হুমকির বিস্তৃত শনাক্তকরণের ওপর এবং ২৯.৬% উত্তরদাতা বেছে নিয়েছেন ভুয়া বা অপ্রয়োজনীয় অ্যালার্ট কমিয়ে নিশ্চিত ও গুরুত্বপূর্ণ অ্যালার্ট পাওয়ার বিষয়টিকে।