বুধবার ০৭ অক্টোবর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ২২শে আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ || ২৪ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
LIVE
Printed on: October 07, 2026
October 07, 2026
বিনোদন
বিনোদন

বড়লোকের বেটি’ গান নিয়ে বাদশার পর এবার কার বিরুদ্ধে অভিযোগ রতন কাহারের

Published: October 07, 2026 at 11:38 AM
বড়লোকের বেটি’ গান নিয়ে বাদশার পর এবার কার বিরুদ্ধে অভিযোগ রতন কাহারের

বড়লোকের বেটি লো লম্বা লম্বা চুল-বাংলার লোকসংগীতের শ্রোতাদের কাছে অত্যন্ত পরিচিত একটি গান। বহু বছর ধরে মানুষের মুখে মুখে ফিরছে গানটি। তবে এই জনপ্রিয় লোকগীতির স্রষ্টা বীরভূমের রতন কাহার-এ তথ্য অনেকেরই অজানা ছিল। ১৯৭২ সালে গানটি লিখেছিলেন তিনি। পরে স্বপ্না চক্রবর্তীর কণ্ঠে গানটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। তবে এবার ফের আলোচনায় এসেছে রতন কাহারের সেই গান। তার অভিযোগ, অনুমতি ছাড়াই ‘বড়লোকের বেটি লো’ গানটি ব্যবহার করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিবেশন করা হয়েছে। এ ঘটনায় সৌমি মুখোপাধ্যায় নামে এক গায়িকা ও তার বাবার বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন পদ্মশ্রীপ্রাপ্ত এই লোকশিল্পী। রতন কাহারের দাবি, তার লেখা গান ব্যবহারের আগে তার সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করা হয়নি। এমনকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সংশ্লিষ্ট পাতায় গানটির স্রষ্টা হিসেবেও তার নাম উল্লেখ করা হয়নি। বিষয়টি নিয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে নিজের ছেলে দেবাশিস কাহারকে সঙ্গে নিয়ে সোমবার সন্ধ্যায় সিউড়ি সাইবার থানায় যান তিনি। সেখান থেকে মেটা কর্তৃপক্ষের কাছে ই-মেইলের মাধ্যমে অভিযোগ জানানো হয়েছে বলে জানা গেছে। রতন কাহারের পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, গানটির স্রষ্টার পরিচয় ও সৃষ্টির মর্যাদা রক্ষার জন্যই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। রতন কাহারের ছেলে শিবনাথ কাহার বলেন, ‘বাবার পরিচয় ও সৃষ্টির মর্যাদা বজায় রাখার জন্যই এই পদক্ষেপ।’ তার দাবি, এর আগেও একই গানকে ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। পরে গানটির স্রষ্টা হিসেবে রতন কাহারকে স্বীকৃতি দেওয়ার নজির তৈরি হয়। এবারও তারা চান, অনুমতি ও স্রষ্টার অধিকারসংক্রান্ত বিষয়টি যথাযথভাবে দেখা হোক। এর আগে রতন কাহারের ‘বড়লোকের বেটি লো’ গানটির আদলে র‍্যাপার বাদশার ‘গেন্দা ফুল’ প্রকাশের পর তুমুল বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। গানটির মিউজিক ভিডিওতে অভিনয় করেছিলেন জ্যাকুলিন ফার্নান্দেজ। গানটি জনপ্রিয় হলেও এর স্রষ্টাকে যথাযথ স্বীকৃতি ও রয়্যালটি দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। পরে বাদশা রতন কাহারের কাছে ক্ষমা চান। পাশাপাশি রয়্যালটি হিসেবে ৫ লাখ রুপি তার হাতে তুলে দেন। শুধু তাই নয়, বীরভূমে গিয়ে রতন কাহারের সঙ্গে দেখা করে তার প্রতি সম্মানও জানান বাদশা। ওই ঘটনার পর গানটির স্রষ্টা হিসেবে রতন কাহারের পরিচিতিও নতুন করে সামনে আসে। বীরভূমের সিউড়ির বাসিন্দা রতন কাহার ভাদু গান দিয়ে সংগীতজীবন শুরু করেন। ১৯৭২ সালে তার গান প্রথম রেডিওতে রেকর্ড হয়। সে সময় পারিশ্রমিক হিসেবে পেয়েছিলেন ৭৭ রুপি ১৫ পয়সা। টুসু ও ঝুমুর গানেও পারদর্শী এই শিল্পী এখন পর্যন্ত প্রায় ২৫০টি গান লিখেছেন বলে জানা যায়। তবে এত গান লিখেও জীবনে আর্থিক স্বচ্ছলতা আসেনি তার। একসময় সংসার চালাতে বিড়ি বাঁধার কাজ করেছেন রতন কাহার। বর্তমানে বিভিন্ন অনুষ্ঠান থেকে পাওয়া সামান্য সম্মানী ও সরকারি ভাতাই তার অন্যতম ভরসা। রতন কাহারের লেখা গানগুলোর মধ্যে ‘বড়লোকের বেটি লো’ সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়। স্বপ্না চক্রবর্তীর কণ্ঠে গানটি পরিচিতি পাওয়ার পর কয়েক দশক ধরে তা লোকসংগীতের অন্যতম জনপ্রিয় গান হিসেবে মানুষের মুখে মুখে ফিরছে। বাদশার ‘গেন্দা ফুল’ বিতর্কের কয়েক বছর পর এবার ফের সেই গান ব্যবহার নিয়ে অভিযোগ উঠেছে। তবে এবার রতন কাহারের অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দু সৌমি মুখোপাধ্যায় ও তার বাবা। অনুমতি ছাড়া গান ব্যবহার এবং স্রষ্টার নাম উল্লেখ না করার অভিযোগের বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়, এখন সেটিই দেখার বিষয়।