বুধবার ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ৮ই আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ || ১০ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
LIVE
শিরোনাম
বীর মুক্তিযোদ্ধা জাহাঙ্গীর হোসেনের ইন্তেকাল, রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মোবাইল কোর্ট, ৭ জনের কারাদণ্ড চাঁপাইনবাবগঞ্জে ১১ মাসের শিশু অপহরণের ৩৫ ঘণ্টা পর উদ্ধার, দম্পতি গ্রেপ্তার চাঁপাইনবাবগঞ্জে জেলা তথ্য অফিসের আয়োজনে ফ্যামিলি সমাবেশ ১৫০ বছর পর ফিরল হারিয়ে যাওয়া পাখি ৮০-১০০ কেজি ওজনের মানুষও ভাসছেন শালুক পাতায় রক্তে প্লাটিলেট বাড়াবে যেসব খাবার শি জিনপিংয়ের ঐতিহাসিক সফর ঘিরে হোয়াইট হাউসে বর্ণাঢ্য আয়োজন ভারতীয় জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার : সেরা অভিনেতা কার্তিক-মামুট্টি, সেরা অভিনেত্রী ইয়ামি দীর্ঘ লড়াই শেষে ক্যান্সার জয়, ফের পর্দায় ফিরছেন ভারতীয় অভিনেত্রী দীপিকা
Printed on: September 23, 2026
September 23, 2026
আন্তর্জাতিক
আন্তর্জাতিক

দাবানলের ধোঁয়াশায় শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত ইন্দোনেশিয়ার প্রায় ২ লাখ মানুষ

Published: September 23, 2026 at 11:13 AM
দাবানলের ধোঁয়াশায় শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত ইন্দোনেশিয়ার প্রায় ২ লাখ মানুষ

দাবানলের জের ধরে সৃষ্টি হওয়া মারাত্মক বিষাক্ত ধোঁয়াশায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে ইন্দোনেশিয়া। দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক তথ্যানুযায়ী, গত আগস্ট মাস থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ১ লাখ ৭৫ হাজার মানুষ শ্বাসকষ্টজনিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। আক্রান্তদের মধ্যে ৪০ হাজারের বেশি শিশু রয়েছে, যারা কাশি, ব্রঙ্কাইটিস থেকে শুরু করে নিউমোনিয়ার মতো মারাত্মক জটিলতায় ভুগছে। সপ্তাহের পর সপ্তাহ ধরে চলা দাবানলের কারণে শুধু ইন্দোনেশিয়া নয়, প্রতিবেশী দেশ মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরেও ছড়িয়ে পড়েছে ঘন বিষাক্ত ধোঁয়াশা। বায়ুমান সূচক পৌঁছেছে অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর মাত্রায়। দাবানল নিয়ন্ত্রণে ইন্দোনেশিয়া সরকার এ পর্যন্ত ৫৪ হাজারের বেশি কর্মকর্তা ও একাধিক যুদ্ধবিমান মোতায়েন করেছে। বিশেষ করে বোর্নিও ও সুমাত্রা দ্বীপে বিমান থেকে পানি ফেলে (ওয়াটার বোম্বিং) আগুন নেভানোর চেষ্টা চলছে। তবে দেশটির বিশাল আয়তন এবং পিটল্যান্ডের জটিল প্রাকৃতিক কাঠামোর কারণে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।


পরিস্থিতি নিয়ে ইন্দোনেশিয়ার ক্যাবিনেট সচিব টেডি ইন্দ্র উইজায়া সোমবার বলেন, আকাশ থেকে শুরু করে মাটি পর্যন্ত, সমস্ত বাহিনী একযোগে কাজ করে যাচ্ছে। আগুন নেভাতে, ধোঁয়ার প্রভাব কমাতে এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণভাবে, বন ও ভূমির আগুন থেকে জনগণকে রক্ষা করতে সম্ভাব্য সবকিছুই করা হচ্ছে।


ইন্দোনেশিয়ায় সাধারণত জুলাই থেকে অক্টোবর মাসের শুষ্ক মৌসুমে নিয়মিত দাবানল দেখা যায়। তবে এ বছর তথাকথিত গডজিলা এল নিনোর প্রভাবে অতিরিক্ত শুষ্ক আবহাওয়ার সৃষ্টি হওয়ায় আগুন ও ধোঁয়াশা আরও তীব্র রূপ নিয়েছে। স্বাধীন বন পর্যবেক্ষণ প্ল্যাটফর্ম ‘নুসানতারা অ্যাটলাস’-এর তথ্যমতে, বুধবার পর্যন্ত দেশজুড়ে প্রায় ৭ লাখ ৩৪ হাজার ‘হটস্পট’ শনাক্ত করা হয়েছে, যা ২০১৯ সালের ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ দাবানল মৌসুমের তুলনায় ৩০ শতাংশেরও বেশি। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ৮ লাখ ৯৫ হাজার ৬৫৭ হেক্টরের বেশি জমি পুড়ে ছাই হয়ে গেছে, যা গ্রেটার লন্ডনের প্রায় ছয় গুণের সমান।


দাবানলের তীব্রতায় অনেক স্থানে স্কুল বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ এবং হাসপাতালে রোগী ভর্তির সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ১ সেপ্টেম্বরে যেখানে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৫০ হাজার ৮৯১ জন, সেখানে ৯ সেপ্টেম্বরের মধ্যেই তা দ্বিগুণেরও বেশি বেড়ে ১১৩৩৩৬ জনে দাঁড়ায়।


মানবস্বাস্থ্যের পাশাপাশি এই বিষাক্ত ধোঁয়াশা মারাত্মক প্রভাব ফেলছে বন্যপ্রাণীদের ওপর। সংকটাপন্ন অবস্থায় রয়েছে অত্যন্ত বিলুপ্তপ্রায় ওরাংওটাং প্রজাতি। সম্প্রতি পশ্চিম কালিম্যানতান প্রদেশের একটি পাম অয়েল বাগান থেকে ছটফট করা অবস্থায় একটি অসুস্থ ওরাংওটাং উদ্ধার করা হয়। একজন কৃষক এটিকে দেখতে পাওয়ার পর দ্রুত উদ্ধার করে হাইপোক্সিয়ার জরুরি চিকিৎসা দেওয়া সত্ত্বেও প্রাণীটিকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে বিশ্বজুড়ে আলোড়ন তোলা এর একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে।


সরকারের এমন ভূমিকার প্রতিবাদে পশ্চিম কালিম্যানতানের আদিবাসী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় প্রশাসনের বিরুদ্ধে গত সপ্তাহে একটি ক্লাস-অ্যাকশন মামলা দায়ের করেছেন। এতে সরকারের বিরুদ্ধে ইচ্ছাকৃত অবহেলার অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলাকারীদের আইনজীবী গ্লোরিও সানেন এক বিবৃতিতে বলেন, এটি এমন একটি দুর্যোগ যা প্রতি বছর ঘটছে। এই পুনরাবৃত্তিই প্রমাণ করে যে, বিবাদীরা দাবানলের কারণে ঘটা সম্ভাব্য ধোঁয়াশার দুর্যোগ এবং এর ঝুঁকি সম্পর্কে আগে থেকেই জানতেন।


পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইন্দোনেশিয়া সরকার গত কয়েক সপ্তাহে বেশ কয়েকবার কৃত্রিম বৃষ্টিপাতের (ক্লাউড-সিডিং) চেষ্টা চালিয়েছে। এই কাজে সহায়তা করতে গত মাসের শুরুর দিকে জাপানের সেলফ-ডিফেন্স ফোর্সের সদস্যরা বোর্নিওতে এসে পৌঁছান এবং যৌথভাবে অভিযান পরিচালনা করেন। মেঘের ওপর লবণ ক্রিস্টাল বা সিলভার আয়োডাইড ছিটিয়ে বেশি বৃষ্টিপাত ঘটানোর এই পদ্ধতির কার্যকারিতা নিয়ে আবহাওয়াবিদদের মধ্যে মতভেদ থাকলেও এটি অব্যাহত রাখা হয়েছে।


ইন্দোনেশিয়ার বাইরে দাবানলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত মালয়েশিয়ার সারাওয়াক রাজ্যে সম্প্রতি পাঁচ দিনব্যাপী কৃত্রিম বৃষ্টিপাতের উদ্যোগ নেওয়া হয়। আগামী অক্টোবরে পূর্বাভাস দেওয়া তীব্র শুষ্ক মৌসুমের আগে সেখানকার জলবিদ্যুৎ বাঁধগুলোর পানি কমে যাওয়া রোধ করা এবং ধোঁয়াশা কমানোই ছিল এর প্রধান উদ্দেশ্য। সারাওয়াকের উপ-প্রধানমন্ত্রী ডগলাস উগাহ এমবাস সাংবাদিকদের বলেন, অক্টোবর মাস হয়তো আরও বেশি গরম ও শুষ্ক হতে পারে। পরিস্থিতি সুযোগে থাকার সময় আমরা যতদূর সম্ভব পানির স্তর বাড়িয়ে নিতে চাই।


এই ধোঁয়াশার প্রভাব এখন ছড়িয়ে পড়েছে প্রতিবেশী আরও কিছু দেশে। ফিলিপাইন পর্যন্ত ধোঁয়াশা পৌঁছানোর কারণে সেখানকার স্থানীয় কর্মকর্তারা বাসিন্দাদের যথাসম্ভব ঘরের ভেতরে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। অন্যদিকে, সিঙ্গাপুর কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যে দেশটির নাগরিকদের সতর্ক করতে নিয়মিত ধোঁয়াশা বিষয়ক দৈনিক সতর্কবার্তা জারি করা শুরু করেছে।