চাঁপাইনবাবগঞ্জে হু হু করে বাড়ছে পদ্মা,মহানন্দা,পূণর্ভবা,পাগলা সহ নদ-নদীর পানি। উজান থেকে নেমে আসা ঢলের ও বৃষ্টির পানি নদীর দুকুল ছাপিয়ে ঢুকে পড়ছে নি¤œাঞ্চলে। পানি বৃদ্ধির হার অব্যহত থাকলে লোকালয়ে ঢুকে পড়বে ২/১ দিনের মধ্যে। এরই মধ্যে নি¤œাঞ্চলের ২ হাজার ৭০০ বিঘারও বেশি জমির ফসল আক্রান্ত হবার খবর জানিয়েছে কৃষি বিভাগ। অনেকস্থানে পেকে আসা আউশ কেটে নিচ্ছে কৃষক।
জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্র জানায়, সোমবার (৭সেপ্টেম্বর) সকালে পদ্মা নদী পাংখা পয়েণ্টে (জেলার শিবগঞ্জ উপজেলা সীমান্তে ফারাক্কার নিকটে অবস্থিত গেজ ষ্টেশন) ২১.৩২ মিটারে প্রবাহিত হচ্ছিল। যা বিপৎসীমার ৭৩ সে.মি নীচে। চাঁপাইনবাবগঞ্জে পদ্মার বিপৎসীমা ২২.০৫ মিটার। এই পয়েন্টে পদ্মা রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) ২১.১১ মিটারে প্রবাহিত হয়। অর্থাৎ ২৪ ঘন্টায় পদ্মার প্রবাহ ২১ সে.মি বৃদ্ধি পেয়েছে। অপরদিকে জেলার অপর প্রধান নদী মহানন্দা সেমাবার চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের নিকট ১৮.৯৯ মিটারে প্রবাহিত হচ্ছিল। মহানন্দার বিপৎসীমা ২০.৫৫ মিটার। রবিবার মহানন্দা ১৮.৮৪ মিটারে প্রবাহিত হয়। ২৪ ঘন্টায় নদীর প্রবাহ বেড়েছে ১৫ সেমি। সোমবার পূণর্ভবা জেলার গোমস্তাপুর উপজেলার রহনপুরে ১৯.০৭ মিটারে প্রবাহিত হচ্ছিল। এই নদীর বিপৎসীমা ২১.৫৫ মিটার। রবিবার নদীটি ১৮.৯৬ মিটাওে প্রবাহিত হয়। বিগত ২৪ ঘন্টায় নদীর প্রবাহ ১১ সেমি বেড়েছে।
জেলা পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী এস এম আহসান হাবীব বলেন, উজানে ভারত থেকে নেমে আসা ঢল ও বৃষ্টির পানিতে জেলার নদীগুলোর পানি বাড়ছে। কয়েকদিন থেকে মৌসুমী এই বৃদ্ধির হার দ্রুত। আরও ৪/৫ দিন নদীর পানি বাড়বে বলে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রে জানিয়েছে। তবে বৃদ্ধির হার কমে আসবে। এরপর পানি স্থির হয়ে কমে আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পদ্মার বিপৎসীমার নীচে প্লাবনসীমায় চলে এসেছে তবে এখণও মূল ভূখন্ডে (মেইন ল্যান্ড) প্রবেশ করেনি বলেও জানান এই কর্মকর্তা। ফারাক্কা খোলা জানিয়ে তিনি আরও বলেন, আতংকিত হবার মত এখনও কিছু নেই। এদিকে নদীর পানি বাড়ায় বিভিন্ন স্থানে নদীতীরের ভাঙ্গন কমে এসেছে।
এদিকে কৃষি বিভাগ সূত্র জানিয়েছে, নদীর পানি বাড়ায় এরই মধ্যে জেলার প্রায় ৩৬২ হেক্টর বা ২৭০০ বিঘারও বেশি নদীতীরের নি¤œাঞ্চলের জমির ফসল নিমজ্জিত বা অর্ধ নিমজ্জিত হয়ে আক্রান্ত হয়েছে। পানি আরও বাড়লে জমির পরিমানও বাড়বে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আতিকুর রহমান বলেন, আক্রান্ত ফসলের মধ্যে রয়েছে আমন ও পাকা আউশ ধান,মাসকলাই, সবজি,গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজের বীজতলা,হলুদ ইত্যাদি। অনেক কৃষক প্রায় পেকে আউশ কেটে নিচ্ছেন।
শিবগঞ্জের প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা(পিআইও) মিজানুর রহমান বলেন, নদীর পানি বাড়ছে। তবে এখনও মানুষের ঘরবাড়ির কোন ক্ষতির তথ্য জানা যায় নি। শিবগঞ্জের পাঁকা ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মালেক বলেন, ৪ ও ৫ নং ওয়ার্ড সবথেকে নীচ হওয়ায় হুমকির মূখে। কয়েকটি গ্রামের সড়কে পদ্মার পানি উঠেছে। বৃদ্ধি অব্যহত থাকলে ২/১ দিনের মধ্যে বাড়িতে পানি ঢুকে পড়বে। শিবগঞ্জের দূর্লভপুর ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম আজম বলেন, পদ্মার পানি বৃদ্ধি অব্যহত থাকলে ৭ ও ৮ নং ওয়ার্ডসহ চরাঞ্চলে ২/১ দিনের মধ্যেই পানি ঢুকবে। সদরের নারায়নপুর ইউপি চেয়ারম্যান নাজির হোসেন বলেন,এম এম উচ্চবিদ্যায় মাঠে পদ্মার পানি প্রবেশ করেছে। আলিম মাদ্রাসায় পানি ঢুকেছে। তবে গ্রামীণ সড়ক বা বাড়িঘরে পানি এখনও পানি প্রবেশ না করলেও উপক্রম হয়েছে।