যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যের গ্র্যান্ড ক্যানিয়নে আকস্মিক ভয়াবহ বন্যায় অন্তত একজন নিহত হয়েছেন। এছাড়াও ১৫ জন নিখোঁজ রয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। স্থানীয় সময় শনিবার (২৯ আগস্ট) বিকালে ব্রাইট অ্যাঞ্জেল ক্যানিয়ন ও ফ্যান্টম র্যাঞ্চ এলাকায় এই বন্যা আঘাত হানে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে ওই এলাকা থেকে অন্তত ৬২ জনকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়। বন্যার তোড়ে বড় বড় পাথর, ধাতব কাঠামো এবং অন্যান্য ধ্বংসাবশেষ কলোরাডো নদীতে ভেসে যায়। ন্যাশনাল পার্ক সার্ভিস জানিয়েছে, রবিবার সন্ধ্যায় কলোরাডো নদীর ক্রিস্টাল র্যাপিডস এলাকার কাছে ৪৬ বছর বয়সী এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি। পার্ক কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, বন্যার ফলে স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকদের জন্য পানি সরবরাহকারী একমাত্র পাইপলাইনটিও অকেজো হয়ে পড়েছে। এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানিয়েছে, ন্যাশনাল পার্ক সার্ভিস জনসাধারণের কাছে এমন প্রায় ১৫ জন ব্যক্তির বিষয়ে তথ্য চাইছে, যারা এই ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার পর নিখোঁজ বা যাদের কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ব্রাইট অ্যাঞ্জেল ক্রিকের ওপর নির্মিত প্রায় সবকটি পথচারী সেতুই ধ্বংস হয়ে গেছে। এছাড়া ধাতব কাঠামো ও ধ্বংসাবশেষ নদীতে ভেসে আসায় পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত কলোরাডো নদীতে নৌ-চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে।
ফ্ল্যাগস্টাফের ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিসের আবহাওয়াবিদ জাস্টিন জন্ড্রো অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে জানান, খাড়া ঢালবিশিষ্ট ওই পাথুরে এলাকায় মাত্র ৩০ মিনিটের মধ্যে প্রায় আধা ইঞ্চি থেকে এক ইঞ্চি বৃষ্টিপাত হয়েছে। জন্ড্রো বলেন, বৃষ্টির পানির বেশিরভাগই তাৎক্ষণিকভাবে গড়িয়ে চলে গেছে। তিনি জানান, গ্র্যান্ড ক্যানিয়নের উত্তর দিকে এই আকস্মিক বন্যা দেখা দেয়। ওই এলাকায় ব্রাইট অ্যাঞ্জেল ক্রিক ‘নর্থ রিম’ (উত্তর প্রান্ত) থেকে কলোরাডো নদীর দিকে নেমে আসার পথে প্রায় ৬ হাজার ফুট উচ্চতা অতিক্রম করে। এদিকে সোমবার (৩১ আগস্ট) পর্যন্ত ওই এলাকায় আরও বৃষ্টি ও বজ্রঝড়ের সম্ভাবনা রয়েছে।