ধীরে ধীরে আধুনিকায়ন হচ্ছে প্রায় ১৯ লাখ মানুষের চিকিৎসা সেবার বাতিঘর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতাল। রোগীদের চিকিৎসাসেবা স্বচ্ছ ও আধুনিকায়নে জেলা হাসপাতালে চালু হয়েছে অটোমেশন পদ্ধতি। এখন থেকে জেলা হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে রোগীদের এনআইডি ও জন্মনিবন্ধনপত্র সঙ্গে নিয়ে আসতে হবে। প্রতিটি রোগীর একটি করে ইউনিক আইডি খোলা হবে। সেই আইডিতে রোগীর রোগ সম্পর্কিত সকল তথ্য কম্পিউটারে সংরক্ষণ করা হবে। ফলে রোগীটি পরবর্তীতে যখন চিকিৎসা নিতে আসবেন তখন তার সেই আইডিতে প্রবেশ করলেই জানা যানা যাবে তার কী রোগ হয়েছিল, কী চিকিৎসা দেয়া হয়েছিল এবং কোনো ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়ে থাকলে সেটাও জানা যাবে। এছাড়া যারা কারণে-অকারণে হাসপাতালের বহির্বিভাগে ভিড় করেন এবং ওষুধ নিতে আসেন তাদের দৌরাত্ম্যও কমবে।
তবে এই ব্যবস্থা সম্পূর্ণ চালু হতে মাসখানেক সময় লাগবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন। আজ বেলা ১১টায় হাসপাতাল প্রাঙ্গণে এ ডিজিটাল সেবার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনকালে এই তথ্য জানানো হয়। উদ্বোধন করেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি জেলা পরিষদের প্রশাসক সাবেক এমপি মো. হারুনুর রশীদ। এসময় তিনি বলেন, ডিজিটাল অটোমেশন কার্যক্রম চালু হওয়ায় সমস্যা অনেকাংশে কমে আসবে। এটি এমন একটি অটোমেশন সিস্টেম, যা বাস্তবায়নের ফলে প্রচলিত স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন হবে। হাসপাতালে অটোমেশন পদ্ধতি চালু হওয়ার ফলে প্রতিটি রোগী হাসপাতালে সেবা নেয়ার সময় রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে নম্বর পাবে। হাসপাতালে রোগীর তথ্য সংরক্ষিত ও পরবর্তীতে চিকিৎসার ক্ষেত্রে চিকিৎসক পেয়ে যাবেন পূর্বের সকল তথ্য। এছাড়া দ্রুত সময়ে সেবা পাওয়া যাবে, কমবে রোগীর কাগজপত্র নিয়ে হয়রানি, পরীক্ষা বা ভর্তির টাকা পরিশোধ বিষয়ক থাকবে না কোনো ধরনের জটিলতা।
হারুনুর রশীদ আরো বলেন, ২৫০ শয্যার হাসপাতাল হলেও প্রকৃতপক্ষে এ হাসপাতালে ১০০ শয্যার জনবল রয়েছে। এর পাশাপাশি নেই আইসিইউ। এ হাসপাতালের স্বাস্থ্য সেবার মান বাড়াতে চিকিৎসক ও জনবলের যে ঘাটতি রয়েছে তা পূরণে সরকার আন্তরিক হবেন। ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. জমির মো. হাসিবুস সাত্তারের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন- সিভিল সার্জন ডা. এ কে এম শাহাব উদ্দিন, বিএমএ ও ড্যাবের জেলা সভাপতি ডা. মোহা. ময়েজ উদ্দীন, জেলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আবু সালেহ্ মোহাম্মদ হাসনাত। অনুষ্ঠানে সূচনা বক্তব্য দেন, জেলা হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. মাহবুব হাসান।
জেলা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. জমির মো. হাসিবুস সাত্তার বলেন- অটোমেশন সিস্টেমের আওতায় হাসপাতালের ফার্মেসি, টিকেট কাউন্টার, ওষুধ বিতরণ, মজুতের পরিমাণ এবং সরবরাহ ব্যবস্থাপনাসহ সকল বিষয় রয়েছে। এসব বিভাগে কর্মরতদের মাসব্যাপী প্রশিক্ষণ দেয়া হবে। ফলে এই ব্যবস্থা চালু হতে মাসখানেক সময় লাগতে পারে।