বাল্যবিবাহ ও শিশুর প্রতি সহিংসতা বন্ধে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, ধর্মীয় নেতা ও প্রভাব বিস্তারকারী অংশীজনদের ভূমিকা জোরদারের লক্ষ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জে সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ নামোশংকরবাটি হেফজুল উলুম ফায়েজ খানম কামিল মাদ্রাসায় এ সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নামোশংকরবাটি হেফজুল উলুম ফায়েজ খানম কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মো. আব্দুল খালেক, চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর মাওলানা মো. আব্দুল হাই এবং এসএসবিসি প্রকল্পের জেলা কর্মকর্তা উত্তম মন্ডল। আলোচনায় বক্তারা বলেন, বাল্যবিবাহ একটি শিশুর শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনাকে বাধাগ্রস্ত করে। একই সঙ্গে শিশুর প্রতি যেকোনো ধরনের শারীরিক, মানসিক ও অন্যান্য সহিংসতা বন্ধে পরিবার ও সমাজকে আরও সচেতন হতে হবে।
অনুষ্ঠানে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, শিশুর প্রতি সহিংসতা বন্ধ, শিশু অধিকার ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে স্থানীয় পর্যায়ে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। অধ্যক্ষ মাওলানা মো. আব্দুল খালেক বলেন, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধকে কাজে লাগাতে হবে। পরিবার ও সমাজের সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি কোনো শিশুর বাল্যবিবাহের উদ্যোগ নেওয়া হলে স্থানীয়ভাবে তা প্রতিরোধে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
মাওলানা মো. আব্দুল হাই, সাবেক কাউন্সিলর, বলেন, জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিদের উদ্যোগী ভূমিকা বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ। সমাজের সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করলে বাল্যবিবাহ ও শিশুর প্রতি সহিংসতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব। এসএসবিসি প্রকল্পের জেলা কর্মকর্তা উত্তম মন্ডল বলেন, শুধু আইন প্রয়োগের মাধ্যমে বাল্যবিবাহ বন্ধ করা সম্ভব নয়। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, ধর্মীয় নেতা, শিক্ষক, অভিভাবক, যুবসমাজসহ সব অংশীজনকে সম্পৃক্ত করে সামাজিক ও আচরণগত পরিবর্তন আনতে হবে। শিশুদের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে স্থানীয় পর্যায়ে নিয়মিত উদ্যোগ ও সমন্বয় প্রয়োজন। সংলাপে অংশগ্রহণকারীরা নিজ নিজ অবস্থান থেকে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, শিশুর প্রতি সহিংসতা বন্ধ এবং শিশু অধিকার ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সক্রিয় ভূমিকা রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।