চাঁপাইনবাবগঞ্জে শিশু সুরক্ষা, শিশু অধিকার এবং বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় অংশীজনদের সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। এ লক্ষ্যে সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সভাকক্ষে ‘শিশু সুরক্ষা সমন্বিত উদ্যোগ ও অংশীদারিত্ব বিষয়ক পরামর্শ সভা’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ সকালে চাঁপাইনবাবগঞ্জ এরিয়া ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম ও ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের আয়োজনে অনুষ্ঠিত সভায় সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা, ধর্মীয় নেতা, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা অংশ নেন। সভায় ওয়ার্ল্ড ভিশন নিউজিল্যান্ড থেকে আগত প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।
সভায়
সভাপতিত্ব করেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইকরামুল হক নাহিদ। এসময়
রাজশাহীর এডিপিএসও সিনিয়র ম্যানেজার লোটাস
চিসিম এর সঞ্চালনায় আরো
উপস্থিত ছিলেন, সদর উপজেলা সমাজসেবা অফিসার কাঞ্চন কুমার দাস, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক স্বপন
কুমার কর্মকার, এডিপির ম্যানেজার ম্যানুয়েল হাসদা, রেডিও মহানন্দার সহকারী স্টেশন ম্যানেজার রেজাউল করিম, একাডেমিক সুপারভাইজার আব্দুল আলীম, ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ-চাঁপাইনবাবগঞ্জ এর সিনিয়র প্রোগ্রাম
অফিসার শ্যামল এইচ কস্তা, প্রোগ্রাম অফিসার লিন্ডা রিচিল, প্রজেক্ট অফিসার উত্তম মণ্ডল, জুনিয়র প্রোগ্রাম অফিসার লাভলী খাতুনসহ অন্যরা।
শিশু
সুরক্ষা বিষয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে সদর উপজেলা সমাজসেবা অফিসার কাঞ্চন কুমার দাস বলেন, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে শুধু আইন প্রয়োগ করলেই হবে না; পরিবারকে অর্থনৈতিক ও সামাজিকভাবে সক্ষম
করে তুলতে হবে। পরিবারের সক্ষমতা বাড়ানো গেলে অভিভাবকদের মধ্যে বাল্যবিবাহ দেওয়ার প্রবণতা কমবে এবং শিশুরা শিক্ষা ও নিরাপদ শৈশবের
সুযোগ পাবে। শিশুদের ঝুঁকি চিহ্নিত করে প্রয়োজন অনুযায়ী সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রমের আওতায় আনার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
সভায়
রেডিও মহানন্দা ৯৮.৮ এফএম-এর অ্যাসিস্ট্যান্ট স্টেশন ম্যানেজার
মো. রেজাউল করিম কমিউনিটি রেডিওর মাধ্যমে শিশু সুরক্ষা ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে
পরিচালিত বিভিন্ন কার্যক্রম তুলে ধরেন। তিনি বলেন, স্থানীয় মানুষের কাছে সহজ ভাষায় তথ্য ও সচেতনতার বার্তা
পৌঁছে দিতে কমিউনিটি রেডিও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, শিশু অধিকার, শিশুর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধসহ বিভিন্ন বিষয়ে রেডিও মহানন্দা নিয়মিত অনুষ্ঠান, স্পট, পিএসএ, আলোচনা ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম
প্রচার করছে। একই সঙ্গে শিশু ও তরুণদের কণ্ঠস্বরকে
গণমাধ্যমে তুলে ধরার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
যুব
উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক স্বপন
কুমার কর্মকার বলেন, শিশুদের অধিকার নিশ্চিত করতে স্বল্পমেয়াদি উদ্যোগের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন। শিশুদের শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন, মানসিক বিকাশ ও নিরাপদ পরিবেশ
নিশ্চিত করার মাধ্যমে তাদের ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত করতে হবে। দীর্ঘমেয়াদি ও সমন্বিত পরিকল্পনা
গ্রহণ করা গেলে শিশু অধিকার সুরক্ষায় কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছানো সম্ভব হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।