বৃহস্পতিবার ১৩ আগস্ট ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ২৯শে শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ || ২৮ সফর ১৪৪৮ হিজরি
LIVE
Printed on: August 13, 2026
August 13, 2026
জাতীয়
জাতীয়

লোডশেডিংয়ের কারণে পাম্প হাউস কাজে আসছে না পানিতে ডুবছে আমন ক্ষেত

Published: August 13, 2026 at 11:40 AM
লোডশেডিংয়ের কারণে পাম্প হাউস কাজে আসছে না পানিতে ডুবছে আমন ক্ষেত

টানা বৃষ্টি, নদীভাঙন ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার কাউয়াদীঘি হাওরপাড়ের প্রায় ১৯৮ হেক্টর জমিতে আমন ধান চাষ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। প্রায় এক মাস ধরে হাওরটি জলাবদ্ধ থাকায় সময়মতো জমি চাষ করতে না পেরে চরম বিপাকে পড়েছেন হাওরপাড়ের কৃষক ও জমির মালিকেরা। স্থানীয়দের অভিযোগ, হাওরের পানি নিষ্কাশনের জন্য নির্মিত পাম্প হাউস সচল থাকলেও বিদ্যুৎ সমস্যার অজুহাতে নিয়মিত পানি নিষ্কাশন করা হচ্ছে না। ফলে আমন মৌসুমে জমি প্রস্তুত করতে পারছেন না কৃষকেরা। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হাওরের জলাবদ্ধতা নিরসন ও কৃষিজমি আবাদযোগ্য রাখার লক্ষ্যে ১৯৮৬ সালে রাজনগর উপজেলার কাশিপুর এলাকায় কুশিয়ারা নদীর তীরে পানি নিষ্কাশনের জন্য একটি পাম্প হাউস নির্মাণ করা হয়। সেখানে আটটি পাম্প রয়েছে। কয়েক বছর সুফল পাওয়ার পর ধীরে ধীরে পাম্প হাউসটি নষ্ট হয়ে যায়। পরে ২০১৭ সালে প্রায় ৮৬ কোটি টাকা ব্যয়ে এটি সংস্কার করা হয়। কিন্তু স্থানীয়দের দাবি, বর্তমানে পাম্প হাউসটি ভালো থাকলেও বিদ্যুৎ সমস্যার কারণে সময়মতো হাওরের পানি নিষ্কাশন করা হচ্ছে না। জলাবদ্ধতায় চারা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন প্রান্তিক কৃষকরা। হাওরপাড়ের পশ্চিমভাগ গ্রামের কৃষক রিপন ঘোষ বলেন, জলাবদ্ধতার কারণে আমার ১০ বিঘা জমিতে আমন আবাদ করতে পারছি না। জমিতে রোপণের জন্য রাখা ধানের চারার বয়স হয়ে যাচ্ছে। সময়মতো রোপণ করতে না পারলে চারাগুলো নষ্ট হয়ে যাবে। কানিকিয়ারি গ্রামের কৃষক নয়ন মিয়া, দুরুদ মিয়া ও সামছুলসহ অনেকে বলেন, বন্যার কারণে এবার আমরা বোরো ধান কাটতে পারিনি। এখন জলাবদ্ধতার কারণে আমন আবাদও করতে পারছি না। আমন আবাদ করতে না পারলে আমাদের বড় ধরনের লোকসানে পড়তে হবে। এ বিষয়ে রাজনগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল আমিন বলেন, জলাবদ্ধতার কারণে রাজনগর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে এখন পর্যন্ত প্রায় ১৯৮ হেক্টর আমন আবাদি জমি পানির নিচে রয়েছে। অন্যদিকে মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী খালেদ বিন ওয়ালিদ বলেন, বিদ্যুৎ সমস্যার কারণে নিয়মিত পাম্প চালিয়ে পানি নিষ্কাশন করা যাচ্ছে না। এ ছাড়া কুশিয়ারা নদীর পানি হাওরের পানির স্তরের চেয়ে ওপরে প্রবাহিত হওয়ায় হাওরের পানি কমছে না। পানি কমানোর জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক চেষ্টা চলছে। হাওরপাড়ের কৃষকদের একটাই দাবি, দ্রুত পাম্প হাউসে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করে পানি নিষ্কাশন করা হোক। তা না হলে এবারের আমন মৌসুমেও মুখ থুবড়ে পড়বে রাজনগরের কৃষি অর্থনীতি।