শুক্রবার ৩১ জুলাই ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৬ই শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ || ১৫ সফর ১৪৪৮ হিজরি
LIVE
Printed on: July 31, 2026
July 31, 2026
বিনোদন
বিনোদন

এখন কোথায় ভিরানার ‘সুন্দরী ভূত’ জ্যাসমিন

Published: July 31, 2026 at 12:38 PM
এখন কোথায় ভিরানার ‘সুন্দরী ভূত’ জ্যাসমিন

বলিউডের ইতিহাসে এমন অনেক তারকা আছেন, যারা এক ঝলকেই দর্শকের মনে জায়গা করে নিয়েছিলেন। কিন্তু খ্যাতির শীর্ষে উঠেও হঠাৎ হারিয়ে গেছেন লোকচক্ষুর আড়ালে। জ্যাসমিন ধুন্না তাদেরই একজন।

আশির দশকের শেষ দিকে হরর সিনেমা ‘ভিরানা’ মুক্তির পর রাতারাতি আলোচনায় চলে আসেন জ্যাসমিন। সিনেমায় তার রহস্যময় সৌন্দর্য, ভীতিকর উপস্থিতি আর মায়াবী চোখ দর্শকদের মুগ্ধ করেছিল। অনেকেই তাকে বলতেন ‘বলিউডের সবচেয়ে সুন্দর ভূত’।

কিন্তু যে সময়ে বলিউডের বড় বড় প্রযোজকরা তাকে নিয়ে কাজ করতে আগ্রহী হয়ে উঠেছিলেন, ঠিক তখনই হঠাৎ করেই তিনি হারিয়ে যান। এরপর আর কখনো বড় পর্দায় দেখা যায়নি তাকে।

চার দশক পেরিয়ে গেলেও আজও প্রশ্ন—কোথায় আছেন জ্যাসমিন? কেনই বা ছেড়ে দিলেন অভিনয়?

জ্যাসমিনের চলচ্চিত্র যাত্রা শুরু হয়েছিল মাত্র ১৩ বছর বয়সে। ১৯৭৯ সালে মুক্তি পাওয়া সরকারি মেহমান সিনেমায় বিনোদ খান্নার বিপরীতে অভিনয়ের মাধ্যমে বলিউডে পা রাখেন তিনি।

তবে ছবিটি বক্স অফিসে সাফল্য পায়নি। এরপর দীর্ঘ বিরতির পর ১৯৮৪ সালে তাকে দেখা যায় ‘ডিভোর্স’ সিনেমায়। এই ছবিতে অভিনয় করেছিলেন গিরিশ কারনাড ও শর্মিলা ঠাকুরও।

দুটি সিনেমাতেই পরিচালক ছিলেন এনডি কোঠারি। তার হাত ধরেই বলিউডে জায়গা করে নেওয়ার সুযোগ পান জ্যাসমিন।

আশির দশকে ভৌতিক সিনেমা মানেই ছিল রামসে ব্রাদার্স। পুরানি হাভেলি, বন্ধ দরওয়াজাসহ একের পর এক হরর সিনেমা দিয়ে তারা তখন দর্শকদের কাছে জনপ্রিয়।


সেই সময় রামসে ব্রাদার্সের ‘ভিরানা’ সিনেমায় প্রধান চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পান জ্যাসমিন।

কথিত আছে, তার আগের সিনেমা ডিভোর্স–এর সহ-অভিনেতা বিজেন্দ্র ঘাটকের মাধ্যমে তিনি ভিরানা–তে অভিনয়ের সুযোগ পান।

১৯৮৮ সালে মুক্তির পর সিনেমাটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। তবে ছবির সাফল্যের অন্যতম বড় কারণ হয়ে ওঠেন জ্যাসমিন নিজেই।

তার সৌন্দর্য, রহস্যময় অভিব্যক্তি এবং ভৌতিক চরিত্র দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে। সিনেমার কিছু দৃশ্য ও তার অভিনয় নিয়ে দীর্ঘদিন আলোচনা চলেছে।

ভিরানা হিট হওয়ার পর জ্যাসমিনের কাছে একের পর এক সিনেমার প্রস্তাব আসতে থাকে। অনেক প্রযোজক তাকে নিয়ে কাজ করতে চেয়েছিলেন।

কিন্তু হঠাৎ করেই তিনি নিজেকে সরিয়ে নেন। ফোন ধরা বন্ধ করে দেন, নতুন কোনো সিনেমায় চুক্তিবদ্ধ হননি।

রামসে পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, জ্যাসমিন আর অভিনয় করতে আগ্রহী ছিলেন না। তিনি নিজের ব্যক্তিগত জীবনকে প্রাধান্য দিয়ে গ্ল্যামার জগত থেকে দূরে সরে যান।

জ্যাসমিনের অন্তর্ধান ঘিরে নানা গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। সবচেয়ে আলোচিত গুজব ছিল—ভিরানা–র জনপ্রিয়তার পর তিনি নাকি মুম্বাইয়ের আন্ডারওয়ার্ল্ডের নজরে পড়েছিলেন।

কেউ কেউ দাবি করেন, তিনি অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছিলেন। তবে এসব দাবির পক্ষে কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

অনেকের মতে, এসব গুজবের কারণেই তিনি মুম্বাই ছেড়ে নিরিবিলি জীবন বেছে নেন।

জ্যাসমিনকে নিয়ে নানা ধরনের তথ্য প্রচলিত আছে। কেউ বলেন, তিনি বিদেশে স্বামী-সন্তান নিয়ে বসবাস করছেন। কেউ দাবি করেন, তিনি নাচের স্কুল পরিচালনা করছেন।

আবার একসময় তার মৃত্যুর গুজবও ছড়িয়ে পড়েছিল।

তবে রামসে পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, জ্যাসমিন জীবিত আছেন। ভিরানা–র পর তার মা মারা যাওয়ার পর তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন এবং বলিউড ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

বর্তমানে জ্যাসমিনের কোনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট নেই। তাকে নিয়ে নির্ভরযোগ্য তথ্যও খুব কম।

একসময় যে অভিনেত্রীকে নিয়ে বলিউডে এত আলোচনা ছিল, আজ তিনি নিজেই বেছে নিয়েছেন নিভৃত জীবন।

হয়তো খ্যাতি, আলো আর ক্যামেরার ঝলকানি থেকে দূরে নিজের মতো করেই ভালো আছেন জ্যাসমিন ধুন্না।

তবে সত্যি হলো—১৯৮৮ সালের ভিরানা–র সেই ‘সুন্দরী ভূত’ আজও বলিউডের সবচেয়ে রহস্যময় হারিয়ে যাওয়া তারকাদের একজন।